Wednesday, 29 January 2020

এক অ’ন্ধ হরিণ ও ১০ বছরের বালকের গল্প।

এক অ’ন্ধ হরিণ- যদি ভাবেন যে এটা ১০ বছর বয়সী এক ছেলের গল্প, যে কি না একটা অ’ন্ধ হরিণের দায়িত্ব নিয়েছিল, তাহলে আপনি ভুল করবেন। যদি মনে করেন এটি নিজের রক্ষাকর্তার প্রতি একটা হরিণের পাল্টা ভালোবাসা প্রকাশের গল্প, তাহলেও ভুল হবে। এটা আসলে এমন একটি ছেলের গল্প যে এক অ’ন্ধ হরিণকে সাহায্য করার মতো সংবেদনশীল। সে প্রতিদিন সকালে স্কুলে যাওয়ার আগে ওই হরিণটাকে ঘাস খুঁজে পেতে সাহায্য করত।

ইলিনয়ের শিকাগোতে ১০ বছর বয়সী ছেলেটি একটা অ’ন্ধ হরিণকে খুঁজে পায়। হরিণটাকে ঘাসওয়ালা পথে হাঁটিয়ে নিয়ে যাওয়াটা সে রীতিমতো নিজের অভ্যাসে পরিণত করে ফেলে। হরিণটাকে সে না খেয়ে মরতে দিতে চায়নি। এক প্রতিবেশী, এই দারুণ জুটির ছবি তুলে ইমেজারে পোস্ট করে। মহানুভব এই বালক আর তার অ’ন্ধ হরিণ দেখে সকলেই বিস্ময়ে বিমূঢ়।

ইলিনয়ের পরিবেশ সংরক্ষণ বিভাগ বিষয়টা জানতে পারার সঙ্গে সঙ্গেই হরিণটার দায়িত্ব নেয়। তারা হরিণটাকে সঠিক আশ্রয়ের ব্যবস্থা করে।

ছেলেটি হরিণটার কোন নাম দেয়নি। আসলে সে হরিণটাকে পোষ মানানোর কোন চেষ্টাই করেনি। সে জন্যেই সে হরিণটাকে নিয়ে যাওয়ায় কোনোরকম দু:খও প্রকাশ করেনি। বরং সে একটু আশ্বস্তই বোধ করেছিল যে হরিণটা এখন নিরাপদ আশ্রয়ে আছে।

মানুষ হিসেবে আমরা এখন অন্য প্রাণীর জন্য নি:স্বার্থভাবে ভালোবাসা অনুভব করা, সহমর্মিতা বোধ করা ভুলে গেছি। এই ঘটনা সবাইকে দেখিয়ে দিয়েছে, ভালোবাসা মানেই মালিকানা নয়। কারও যত্ন করা মানেই তাকে অধিকার করা নয়।

এই ছেলেটির কাছে আমরা শিখতে পারি, কীভাবে চারপাশের পৃথিবীর সঙ্গে মিলেমিশে থাকতে হয়। এই অ’ন্ধ হরিণটার সঙ্গে ছেলেটি খুব বেশি সময় কাটাত না। হরিণটির প্রতি নিজের ভালোবাসা দ্বারা সে নিজেকে আচ্ছন্ন হতেও দেয়নি।

তবুও আমরা তার ভালোবাসা, তার মানবিকতা বুঝতে ভুল করি না। মনুষ্যত্ব শুধু কাউকে ভালোবাসা আর ভালোবাসার মানুষকে জ’ড়িয়ে ধরাই নয়। বরং নিজের জগৎটাকে ভাগ করে নেয়া। এবং এই ছেলেটি তার বয়সের চাইতেও অনেক বেশি প্রজ্ঞা আর পরিপক্বতা দেখিয়েছে এই ঘটনায়।

সূত্র: ট্রুথ থিওরি।

ছে’লেদের জমি লিখে দিয়ে রিকশা চালাচ্ছেন নূরী, উঠতে চায় না কেউ !

তার বয়স শত বছর ছুঁইছুঁই। জীবনের চাকা সচল রাখতে এ বয়সেও রিকশা প্যাডেল মা’রছেন নূরী। কংকালসার ঘামঝরা ‘শ’রীরে কুঁজো হয়ে জামালপুর শহরের অলিতে গলিতে রিকশা চালান তিনি। বয়সের ভারে ন্যুব্জ হয়ে পড়ায় তার রিকশায় উঠতে চায় না কেউ।

তাই তেমন আয়-রোজগারও নেই। মানুষের বাজার সদাই বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে যা পাওয়া যায় তা দিয়েই কোনো মতে দুই সদস্যের সংসার চলছে।

শহরের তমালতলা পিলখানা এলাকায় সরকারি জমিতে ঘর তুলে থেকেছেন ১০ বছর। পাথালিয়ায় ছিল ১২ শতাংশ জমি। ছে’লেদের লিখে দিয়ে এখন তিনি নিঃস্ব। ৩ মে’য়েকে বিয়ে দিয়েছেন। ৩ ছে’লের মধ্যে দুই জন জমি বিক্রি করে চলে গেছে অন্যত্র। মেঝো ছে’লের বাড়িতে দু চালা ভাঙা বেড়ার ঘরে এখন তিনি অনেকটা আশ্রিতের মতো।

ছোট ছে’লেরও ৫ সদস্যের পরিবার। নূরীর ভরনপোষণের যোগান দিতে পারেন না তিনি। বাধ্য হয়ে তাই রিকশা চালাতে হয়। মৃ”ত ময়েজ উদ্দিন শেখের ছে’লে অ’তিশীপর বৃদ্ধ নূরী বর্তমানে বসবাস করছেন শহরের পাথালিয়া গ্রামে মেঝো ছে’লে কালুর ভিটায়। মেঝো ছে’লেরও অটোবাইক চালিয়ে ৫ জনের সংসারে নুন আনতে পান্তা ফুরায়। বাবা ও সৎ মাকে দেখাশোনা করা তার পক্ষে সম্ভব হয় না।

ছে’লে বেলাতেই নূরী জীবন যু’দ্ধ শুরু করেছিলের কুলির কাজ করে। পেটের দায়ে খড়ি, তুষ বেচে, রিকশা চালিয়ে নানা কায়িক শ্রমের পেশায় নিয়োজিত থেকে ৫৫ শতাংশ বসতভিটা ও ১০ পাখি কৃষি জমি কিনেছিলেন। স্ত্রী’, তিন ছে’লে ও তিন মে’য়ে নিয়ে সুখেই কাটছিল সংসার।

ছে’লেদের লেখাপড়া করিয়েছেন। মে’য়েদের বিয়ে দিয়েছেন জমি বিক্রি করে। অবশিষ্ট ছিল ১২ শতাংশ বসতভিটা। সেটুকুও ছে’লেদের লিখে দিয়ে এখন তিনি সর্বস্বান্ত। এভাবেই কা’ন্নাজ’ড়িত কণ্ঠে চোখ মুছতে মুছতে নূরী জানালেন তার ক’ষ্টমাখা জীবনের গল্প।

জীবনের গতির মতো কমে গেছে নূরীর রিকশার চাকা। রিকশায় যাত্রী নিয়ে গান গেয়ে শহরের অলি-গলিতে ঘুরে বেড়ানো এক সময়কার প্রা’ণচঞ্চল নূরীকে চোখে পড়ে না। একদিন রিকশা চালালে দুদিনই জীবনগাড়ি নিয়ে ঘরে পড়ে থাকতে হয়।

তবুও হাঁপিয়ে হাঁপিয়ে রিকশা বাইতে হচ্ছে জীবনের ঘানি টানতে। তার বৃদ্ধ বয়সে কুঁজো হয়ে রিকশা টানার দৃশ্য দেখে শহরের পথেঘাটে চলাচলরত পথচারীরাও আফসোস করে।

নূরী বলেন, আমা’র সব আছিলো। খুব ক’ষ্ট কইরা জমি জিরেত করছিলেম। তিনডা পুরির (মে’য়ে) বিয়ে দিয়ে এডা পুলারে নেহাপড়া করাইয়ে জমিজিরেত শেষ অইছে। বাড়ি ভিঠের এট্টু জমি আছিলো তাও পুলারা নেইখে নিছে। এহন কেউ আমা’রে ভাত-কাফর দেয় না। বাহি দিন কিবেই কাটবো হেই চিন্তায় চোহে মুহে আন্ধার দেহি গো বাজান।

January 29, 2020

https://zawadulfaruq.blogspot.com

1 comment:

আগমনী

আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা

ক্লাস নাইনের পাঠ্যসূচিতে ছিলো "হাজার বছর ধরে" উপন্যাস৷ কীভাবে বড়ো ভাইয়ের বউ (ভাবি) এর সাথে পরকীয়া হয় তা শেখানো হল। শিক্ষার্থীরা ওস...

স্মৃতির পাতা