Friday, 11 December 2020

আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা

ক্লাস নাইনের পাঠ্যসূচিতে ছিলো "হাজার বছর ধরে" উপন্যাস৷ কীভাবে বড়ো ভাইয়ের বউ (ভাবি) এর সাথে পরকীয়া হয় তা শেখানো হল। শিক্ষার্থীরা ওসব সংলাপ মুখস্থ করে পরীক্ষার খাতায় লিখতো। একাদশে "পদ্মা নদীর মাঝি" তেও দেখানো হল শ্যালিকার সাথে পরকীয়ার কৌশল। সেখান থেকে পেরিয়ে যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে পা রাখলো তখন শেখানো হল "জাস্ট ফ্রেন্ড" অথবা "বন্ধু" নামের বিপরীত লিঙ্গের মানুষের সাথে কীভাবে ফ্রেন্ডশিপ করা যায়। একটি টুথপেস্ট বানানো প্রতিষ্ঠান প্রতিবছর দেখাতে থাকলো "কাছে আসার গল্প" নামক নানা রোমান্টিক কাহিনী। আরো আছে লাস্যময়ী নারীদের নানাপ্রকার "সুন্দরী প্রতিযোগীতা"। আছে হ্যান্ডসাম পুরুষদের নিয়েও প্রতিযোগীতা।
.
এসবের মধ্যে বেড়ে উঠে একজন ছেলে / মেয়ে যখন বলে " প্রেম (বিবাহপূর্ব) পবিত্র, প্রেম স্বর্গ থেকে আসে, মন ভাঙ্গা মসজিদ ভাঙ্গার সমান" তখন তাদের খুব বেশি একটা দোষ দেওয়া যায় না। কারণ, এদের কেউ কোনোদিন কোনটা ভালো, কোনটা মন্দ তা শেখায় নি। যাদের দিকনির্দেশনায় তারা বড়ো হয়েছে, তারা প্রত্যেকেই নৈতিকভাবে দুর্নীতিগ্রস্থ, মানসিকভাবে বিকারগ্রস্থ এবং আত্নপরিচয় নিয়ে হীনমন্যতায় ভোগা অসুস্থ জানোয়ার প্রজাতির অসভ্য বুড়ো-বুড়ি।



Wednesday, 7 October 2020

আবার একজন "ফুলন দেবী" চাই

❤️🖤💙নারী নির্যাতন ও বর্ণবাদের বিরুদ্ধে আজ পর্যন্ত এই পৃথিবীতে যে কয়কেজন যুদ্ধ করে বিজয়ী হতে পেরেছেন, তাদের তালিকায় বেশ ওপরের দিকে থাকবে ফুলন দেবীর নাম। ভারতীয় আইনের চোখে তিনি সন্ত্রাসী, নিচু জাতের মাল্লাদের কাছে তিনি ত্রাণকর্তা। কাউকে বিন্দুমাত্র পরোয়া না করে তিনি নিজেই লিখেছেন নিজের জীবনের বদলে যাওয়ার গল্প। তথাকথিত ভদ্র সমাজের চোখে কিংবা সমাজের উচ্চবর্ণের কাছে তাদের ভাষায় ‘ম্লেচ্ছ’ এই ফুলন দেবী জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম জারি রেখেছিলেন । তাইতো আজ থেকে ১৯ বছর আগে দিল্লিতে নিজ বাসভবনের সামনে যাকে গুলি করে মেরে ফেলাটা প্রভাবশালীদের জন্য খুবই প্রয়োজনীয় হয়ে উঠেছিল।💔

১৯৬৩ সালের ১০ আগস্ট ধরণীতে অবতরণ করেছিলেন ফুলন দেবী। উত্তর প্রদেশের ছোট্ট একটি গ্রাম ঘুরা কা পুরয়াতে থাকতেন তার বাবা–মা। মেয়ে হিসেবে জন্ম নেয়াই যেন মাল্লা সম্প্রদায়ের এই মেয়েটির আজন্ম পাপ। বাবা-মায়ের ঘাড়ের বোঝা হিসেবেই বিবেচনা করা হতো নিচু জাতের মেয়েদের। নিম্নবর্ণের মাল্লা সম্প্রদায়ের প্রধান পেশা হচ্ছে নৌকা চালানো। মাল্লা বলতে মাঝিদের বোঝানো হয়। মাঝির ঘরের আদরের কন্যা ফুলের দেবী ফুলন আর তার ছোট বোনের বিয়ের জন্য এক একর জায়গাজুড়ে নিমের বাগান করেছিলেন তাদের বাবা। জামাইয়ের মনমতো যৌতুক না দিলে মেয়েরা ভালো থাকবে কেন?
কিন্তু ফুলনের বাবার সেই সম্বলটুকুতেও বাগড়া বাধায় তারই আপন বড় ভাই। সব সম্পত্তি নিজের বলে ঘোষণা দিয়ে ছেলে মায়াদিনকে দিয়ে বাগানের গাছ কেটে বিক্রি করা শুরু করে দেয়। ছোটবেলা থেকেই জ্বলন্ত আগ্নেয়গিরির মতো ফুটতে থাকা ফুলন এর ঘোর বিরোধিতা শুরু করে। মায়াদিনকে সে জনসম্মুখে চোর সাব্যস্ত করে। এর প্রতিশোধস্বরূপ, ৩০ বছর বয়সী পুট্টিলাল নামক এক লোকের সঙ্গে মাত্র ১১ বছর বয়সী ফুলনের বিয়ে ঠিক করে মায়াদিন। ফুলন তার আত্মজীবনীতে লিখেছেন, পুট্টিলাল একজন অসৎ চরিত্রের লোক। শ্বশুরবাড়িতে শিশু ফুলনের সঙ্গে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন এবং নির্যাতন চলত নিয়মিত। বাবার বাড়িতে ফিরে গেলেও সমাজের দিকে চেয়ে ফুলনের পরিবার তাকে আবার শ্বশুরবাড়িতে রেখে আসে। অবস্থার কোনো পরিবর্তন না হওয়ায় ফুলন এবার মুখের ওপর প্রতিবাদ জানিয়ে স্থায়ীভাবে চলে আসে বাবার বাড়িতে। মাল্লা সমাজে স্বামী পরিত্যাগ করা নারীকে চরিত্রহীনা বলে কুনজরে দেখা হতো। কাজেই ফুলনকে নিয়ে একের পর এক কুৎসা রটতে থাকে গ্রামময়।
সেসব কথায় কান না দিয়ে পিতার সম্পত্তি রক্ষার জন্য লড়াই শুরু করেন ফুলন দেবী। কিন্তু মায়াদিন তাকে উল্টো ফাঁসিয়ে দিয়ে ১৯৭৯ সালে চুরির অভিযোগে পুলিশের হাতে সোপর্দ করে। তিন দিন কারাবাসের সাজা হয় ফুলনের। এই তিন দিন ধরে পুলিশের কাছে প্রথমবারের মতো গণধর্ষণের শিকার হয় সে। সেই অপরাধীদের কোনো শাস্তি না দিয়ে বরং কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর তাকেই পরিবার ও গ্রাম থেকে বর্জন করা হয়! মালা সেনের লেখা ‘ইন্ডিয়া’স ব্যান্ডিট কুইন: দ্য ট্রু স্টোরি অফ ফুলন দেবী’ বইয়ে লেখা আছে, গ্রাম থেকে নির্বাসিত হওয়ার পর স্থানীয় ডাকুরা তাকে অপহরণ করে। আবার কেউ কেউ বলেন, ডাকাতদলে যোগ দেয়ার জন্যই নাকি তিনি প্রথম স্বামীকে পরিত্যাগ করেন। সে যাই হোক, ডাকাতদলে শুরু হয় ফুলন দেবীর নতুন জীবন।
ফুলন দেবী যে ডাকাতদলের সদস্য ছিলেন তাদের নেতার নাম বাবু গুজ্জর। নিষ্ঠুর এই ডাকাতের চোখ পড়ে ফুলনের ওপর। বাবুর কাছে প্রায় কয়েক দফা ধর্ষিত হওয়ার পর তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসে দলের দ্বিতীয় নেতা বিক্রম মাল্লা। স্বজাতির ওপর বাবু গুজ্জরের এই নির্মমতার প্রতিবাদে তিনি বাবুকে খুন করে নিজেকে দলের নেতা ঘোষণা করেন। নিষ্ঠাবান ডাকাত লুণ্ঠিত সম্পত্তি দরিদ্রদের মাঝে বিলিয়ে দেওয়ার রেওয়াজ চালু করেন। বিক্রমের প্রেমে পড়ে যায় ফুলন। ভালোবেসে দুজন দুজনকে স্বামী-স্ত্রীর মর্যাদায় গ্রহণ করেন। তাদের বিয়ের পর বিক্রমকে সঙ্গে নিয়ে ফুলন তার প্রথম স্বামী পুট্টিলালের গ্রামে গিয়ে জনসমক্ষে গাধার পিঠে উল্টো করে বসিয়ে গ্রামের আরেক প্রান্তে নিয়ে এসে মারধর করে। কোনো বয়স্ক পুরুষ যেন অল্পবয়সী কোনো মেয়েকে বিয়ে করে তার সাথে যেমন নির্যাতন করা হয়েছিল তেমনটা না করতে পারে, তার জন্য একটি হুঁশিয়ার বাণীস্বরূপ পত্রসমেত পুট্টিলালকে প্রায় আধমরা অবস্থায় ছেড়ে দিয়ে আসে তারা।

স্বামী বিক্রম মাল্লার কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে বন্দুক চালানো, গ্রাম লুণ্ঠন, ভূস্বামীদের অপহরণ, রেল ডাকাতি প্রভৃতি কাজে বেশ পারদর্শী হয়ে ওঠেন ফুলন। প্রত্যেকবার ডাকাতি করে আসার পর দুর্গাদেবীর মন্দিরে গিয়ে প্রাণ রক্ষার জন্য দেবীকে ধন্যবাদ জানিয়ে আসতেন ফুলন। এদিকে প্রকৃতপক্ষে বিক্রমদের দলের প্রধান ছিল শ্রীরাম নামক এক ঠাকুর সম্প্রদায়ের ডাকাত। সে সময় ঠাকুরদের সঙ্গে মাল্লাদের ব্যবধান এতটাই বেশি ছিল যে, তারা এক জায়গায় পানির পাত্রও রাখতে পারতো না। শ্রীরাম ও তার ভাই লালারাম জেলহাজতে বন্দি থাকায় প্রায় ৮০ হাজার টাকা খরচ করে তাদের জামিন করায় বিক্রম। দলের নেতৃত্বও তাদের হাতে তুলে দিতে চায় সে। কিন্তু নিচু সম্প্রদায়ের ডাকাতরা জানত, শ্রীরাম আসলে ঠাকুর আর পুলিশদের গুপ্তচর। কাজেই তারা কেউ শ্রীরামের নেতৃত্ব মানতে চায়নি। ফলস্বরূপ, ডাকাতদল মাল্লা ও ঠাকুর দুটি পৃথকদলে বিভক্ত হয়ে পড়ে। দলের মধ্যে এই বিভাজন মানতে পারেনি শ্রীরাম। যার কারণে তার প্রধান শত্রু বনে যায় বিক্রম। পরপর দু’বার চেষ্টা চালিয়ে অবশেষে পথের কাঁটা দূর করে ফুলনকে অপহরণ করে তারা।
কানপুর থেকে ১০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত উত্তর প্রদেশের একটি গ্রাম বেহমাই। এই গ্রামের একটি ঘটনাই ফুলন দেবীকে ভয়ংকর ডাকাতে পরিণত করেছে, দস্যুরানী হিসেবে যে পরিচয় তিনি জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত বহন করেছেন, তার সূত্রপাত ঘটে এখানে। অপহরণের পর ফুলন দেবীকে বেহমাই গ্রামে নিয়ে এসে প্রায় উলঙ্গ করে পুরো গ্রামবাসীর সামনে হাজির করে শ্রীরাম। বিক্রমের হত্যাকারী দাবি করে তার ওপর অত্যাচার করার নির্দেশ দেয়া হয় গ্রামবাসীদের। প্রথমে শ্রীরাম, এরপর একে একে ঠাকুর সম্প্রদায়ের বহুলোক প্রায় ২৩ দিন ধরে তার উপরে পাশবিক নির্যাতন চালায়। গণধর্ষণের একপর্যায়ে তাকে মৃত ভেবে ফেলে দিয়ে যায় মানুষরূপী পশুর দল। কোনোমতে একটি গরুর গাড়িতে উঠে বেহমাই থেকে পালিয়ে আসে ফুলন।
অবশ্য একটি বিস্ময়কর ব্যাপার হলো, ফুলন দেবী নিজমুখে কখনো এই গণধর্ষণের কথা সরাসরি স্বীকার করেননি। তার আত্মজীবনীর লেখিকা মালা সেনকে বলেছেন, “ওরা আমার সঙ্গে অনেক অন্যায়-অত্যাচার করেছে”। এই একটি লাইনকেই অবশ্য ফুলন দেবীর সার্বিক অবস্থার প্রতীকীরূপ বলে বিবেচনা করা যায়। তবে ধরে নেয়া যায়, বাইরে থেকে যতই দুর্ধর্ষ মনে হোক না কেন, লোকলজ্জার ভয়কে দস্যুরাণী নিজেও উপেক্ষা করতে পারেনি। স্থানীয়রা এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তবে ধর্ষণের শিকার অন্যান্য নারীদের মতো চুপ করে বসে থাকেনি ফুলন। নিজের অপমানের প্রতিশোধ নিতে তৎপর হয়ে ওঠে। বিক্রমের এক বন্ধু, মান সিংহ, খবর পায় ফুলনের। তার সাহায্যে মুসলিম এক ডাকুসর্দার বাবা মুস্তাকিমের কাছে পৌঁছায় সে।
বাবা মুস্তাকিমের সাহায্যে মান সিংহ আর ফুলন মিলে গড়ে তোলে নতুন একটি ডাকাতদল। নির্যাতিত হওয়ার প্রায় ১৭ মাস পর, ১৯৮১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি, শ্রীরাম আর লালারামের খোঁজ পায় ফুলন। তাদের হত্যা করতে এক বিয়ে বাড়িতে গিয়ে তার উপর নির্যাতন চালানো দুই ঠাকুরকে চিনতে পারে সে। ক্রোধে অন্ধ হয়ে সেখানে উপস্থিত ২২ ঠাকুরকে এক সারিতে দাঁড় করিয়ে গুলি করে মেরে ফেলে ফুলন। ইতিহাসে এই ঘটনা ‘বেহমাই হত্যাকাণ্ড’ বা ‘বেহমাই গণহত্যা’ নামে কুখ্যাত। এতে বেশকিছু নিরীহ ঠাকুর মারা যাওয়ায় উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী ভি.পি.সিং পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। ধীরে ধীরে লোকের কাছে ‘দস্যুরাণী ফুলনদেবী’ শব্দযুগল বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। মায়াবিনী এই ডাকু সর্দারের সমস্ত ক্ষোভ কেবল ঠাকুরদের প্রতি, মাল্লাদের মতো নিচু সম্প্রদায় যেন তার ঘরের লোক। শহরগুলোতে তাই দুর্গার বেশে ফুলনের মূর্তির বেচাকেনা শুরু হয়ে যায়। এ যেন সত্যিকারের এক রবিনহুডের গল্প।
তবে এত বড় হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে খুব সহজে ছাড় পায়নি ফুলন দেবী। ৪৮টি অপরাধকর্মের জন্য, যার মধ্যে ৩০টি ডাকাতি এবং অপহরণের অভিযোগ, প্রায় দু’বছর পুলিশকে নাস্তানাবুদ করে অবশেষে কিছু শর্তসাপেক্ষে পুলিশে কাছে ধরা দেয় ফুলন দেবী। শর্তগুলো ছিল-
ফুলন ও তার অন্যান্য সঙ্গীরা কেবল মধ্যপ্রদেশে আত্মসমর্পণ করবে, বিচারের জন্য তাদের উত্তরপ্রদেশে নেওয়া যাবে না। তাদের ফাঁসি দেয়া যাবে না এবং ৮ বছরের বেশি সময় কারাবাস হবে না। মায়াদিন কর্তৃক অবৈধভাবে দখল করা জমি ফুলনের পিতাকে ফেরত দিতে হবে। ফুলনের পিতা-মাতাকে মধ্যপ্রদেশে পাঠিয়ে দিতে হবে এবং সরকার ফুলনের ভাইকে চাকরি দেয়ার নিশ্চয়তা প্রদান করবে।
ফুলনের সব কয়টি শর্ত মেনে নেয় সরকার। তবে ৮ বছরের বদলে তাকে ১১ বছর কারাবাস করতে হয়। বেহমাই হত্যাকাণ্ডের প্রায় দু’বছর পর ১৯৮৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে প্রায় ৮ হাজার দর্শকের উপস্থিতিতে আত্মসমর্পণ করে ফুলন দেবী। ১৯৯৪ সালে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে জন্ম নেয় এক নতুন ফুলন। ১৯৯৬ সালে সমাজবাদী পার্টি (এসপি) ফুলনকে মির্জাপুর আসনে নির্বাচন করার জন্য বাছাই করে। রাজনৈতিক জগতে ফুলনের গুরু ছিলেন এই দলেরই নেতা মুলায়ম সিং যাদব। ভারতীয় জনতা পার্টি ও বেহমাই হত্যাকাণ্ডে নিহত ঠাকুরের স্ত্রীদের ঘোর আপত্তি থাকা সত্ত্বেও সেবার নির্বাচনে জয়লাভ করে ফুলন। ১৯৯৮ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে হেরে গেলেও, ১৯৯৯ সালের মির্জাপুর লোকসভা নির্বাচনে ফের তার আসন দখল করে একসময়ের দোর্দণ্ড প্রতাপশালী দস্যুরানী। মধ্য প্রদেশের জঙ্গল ছেড়ে অশোকা রোডের ঝাঁ চকচকে বাড়িতে গড়ে তোলে তার নতুন ঠিকানা।
জীবন বদলে গেলেও পেছনে ফেলে আসা দিনগুলো তাকে তাড়া করে ফেরে প্রতিনিয়ত। তার ব্যাপারে যে কারো কারো যথেষ্ট ক্ষোভ রয়েছে, এ কথা তিনি নিজেও জানতেন। তার সম্পর্কে বলতে গিয়ে ইন্দিরা জয়সিং জানান, “ফুলন সবসময় জানত অতীত তাকে ধাওয়া করে বেড়াচ্ছে। একজন নারী হয়ে পিতৃতন্ত্রকে চ্যালেঞ্জ করার জন্য অনেকের চোখেই জনমভর সে একজন অপরাধী বৈ আর কিছুই নয়। এ কারণেই সে সবসময় পুলিশি নিরাপত্তা নিয়ে চলাফেরা করত।”

কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি ২০০১ সনের ২৫ জুলাই তারিখে নতুন দিল্লিতে ফুলন দেবীকে হত্যা করা হয়। তার দেহরক্ষীও আহত হয়। সেই সময়ে তিনি সংসদ থেকে বের হয়ে আসছিলেন। হত্যাকারীরা তাকে গুলি করে অটোরিকশায় উঠে পালিয়ে যায়। হত্যাকারীরা ছিলেন শ্বের সিং রাণা, ধীরাজ রাণা ও রাজবীর। শ্বের সিং রাণা দেরাদুনে আত্মসমর্পণ করেন। হত্যাকারীরা প্রকাশ করেন যে বেহমাই হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য এই হত্যা করা হয়েছে। এভাবেই পরিসমাপ্তি ঘটে চিরবিদ্রোহী এক নারীর ঘটনাবহুল জীবনের। তার জীবনী নিয়ে ১৯৯৮ সালে শেখর কাপুর পরিচালনা করেন ‘ব্যান্ডিট কুইন’ নামের একটি চলচ্চিত্র। এখানে ফুলনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন সীমা বিশ্বাস। এর আগে ১৯৮৫ সালে অশোক রায়ের পরিচালনায় বাংলায় ‘ফুলন দেবী’ নামে একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করা হয়। আর মালা সেন রচিত তার আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ তো রয়েছেই। শারীরিক মৃত্যু হলেও ফুলন দেবীর মতো নারীরা সমাজের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন নারী হলেও নিজেদের ভাগ্য নিজেরাই বদলে দিতে জানেন, নিজের পরিচয় নিজেই গড়ে নিতেন জানেন।

Sunday, 16 February 2020

🌸"শিক্ষণীয় ঘটনা"🌸

 আলেম তার স্ত্রীকে নিয়ে
ট্রেনে করে শ্বশুরবাড়ি যাচ্ছেন।
তাদের সামনের সিটে মুখোমুখিই
নিজের স্ত্রীকে নিয়ে বসে আছেন
এক জেনারেল শিক্ষিত লোক।

সে তার বউকে নিয়ে কোথাও যাচ্ছিল৷
লোকটির বউ পর্দা তো দুরের কথা
বরং খোলামেলা ভাবেই যাচ্ছেন।

আলেম সাহেবের স্ত্রীর অবস্থা যেটা ছিল
তার অবস্থা সম্পূর্ণ বিপরীত।
এক পর্যায়ে ঐ আলেমকে উদ্দেশ্য করে
লোকটি বলতে লাগলো,
মোল্লারা নিজেদের বউকে আবদ্ধ করে রাখে,
একটু খোলামেলা রাখতেও জানে না
ইত্যাদি ইত্যাদি। (না’উযুবিল্লাহ)

তখন আলেম সাহেব
জেনারেল শিক্ষিত লোকটিকে বললেন,
► আলেমঃ ভাই আপনার এই ব্যাগটিতে কি?
► লোকটিঃ আমার গোপন ও মূল্যবান জিনিসপত্র আছে৷
আর টাকা-পয়সাও এতে আছে৷
► আলেমঃ সেখানে কেন রেখেছেন?
► লোকটিঃ লুকিয়ে রেখেছি৷ নিরাপত্তার জন্য রেখেছি৷
► আলেমঃ আমিও আমার স্ত্রীকে এভাবেই
যত্ন করে নিরাপত্তার জন্য রেখেছি৷
যেন পর পুরুষের কু-দৃষ্টি
তার রূপ সৌন্দর্যের উপরে না পরে৷
আর আমার কাছে আমার স্ত্রী
খুবই মহামূল্যবান সম্পদ৷
আমার স্ত্রী আমার পকেটের টাকা-পয়সা ও মূল্যবান
সকল জিনিসপত্রের চেয়েও
কোটি কোটি গুণ বেশি মূল্যবান।

আর আপনি আপনার বউকে
পকেটের টাকা-পয়সার চেয়েও
বেশি ভালোবাসেন না
বা মূল্যবান মনে করেননা৷
তাই বলেই তো আপনার টাকা-পয়সাটা
অতি যত্নে ও গোপনে রেখেছেন।
আর নিজের বউটাকে জনসম্মুখে
খোলামেলা রেখেছেন।

আমরা আমাদের বউকে খুব
ভালোবাসি বলেই
অন্যের কু-দৃষ্টি থেকে তাদের পবিত্র
ও নিরাপদে রাখার চেষ্টা করি...৷
অতঃপর ঐ জেনারেল শিক্ষিত লোকটি
নিজের ভুল বুঝতে পারলো।
আর তখন খুবই লজ্জিত হলো...।
🌺তাই আসুন, আমরা সকলেই এই পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সম্পদ নারী জাতিকে 'আল্লাহর হুকুম পর্দার' দ্বারা নিরাপদে রাখি৷ আল্লাহ তা'আলা আমাদের সকলকে তাওফীক্ব দান করুন। আমীন।

💙❤️দশরথ মাঝির ভালোবাসার নিদর্শন🥀

আজকের গল্পটা ১৯৫৯ সালের কোনো এক দুপুরের। সেদিনও সূর্যটা ঠিক মাথার ওপরে ছিল। স্ত্রী ফাল্গুনির জন্য অপেক্ষা করছিলেন দশরথ মাঝি। ফাল্গুনির আসতে দেরি হওয়ায় দশরথ চিন্তায় পড়ে যান, ‘দেরি হচ্ছে কেন?’ ওই তো কে যেন আসছে পাহাড় বেয়ে। না ফাল্গুনি নয়, আসেন একজন গ্রামবাসী। দশরথের আশঙ্কাই সত্য হয়েছে। খাবার নিয়ে আসার সময় পাহাড়ে পা পিছলে পড়ে গেছেন ফাল্গুনি। ফাল্গুনির রক্তাক্ত দেহ গ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। যত দ্রুত সম্ভব নিয়ে যেতে হবে ৭০ কিলোমিটার দূরের হাসপাতালে।
গরুর গাড়ি করে হাসপাতালে নেয়ার সময় দশরথের কোলে মারা যান ফাল্গুনি। এলোমেলো হয়ে যায় দশরথের জীবন। হারিয়ে যায় তার রুক্ষ জীবনের একমাত্র ভালবাসাটুকুও। সমস্ত রাগ ক্ষোভ গিয়ে পড়ে নিস্প্রাণ পাহাড়ের ওপর। ছাগল বেচে দিয়ে কিনলেন হাতুড়ি আর শাবল। প্রতিজ্ঞা করলেন, ‘পাহাড়কে আর কারো প্রাণ নিতে দেবো না।’ তিনি বানাবেন রাস্তা। যাতে এখানকার বাসিন্দারা তথাকথিত নিচু জাতের। সেকারণে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি সেখানে। দারিদ্র, অনাহার, বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুকে নিয়তি হিসেবেই মেনে নিয়েছিলেন গ্রামবাসী। নেই পানীয় জল, নেই বিদ্যুৎ, নেই স্কুল বা হাসপাতালও। সবচেয়ে কাছের হাসপাতালটির দূরত্বই প্রায় সত্তর কিলোমিটার। গরুর গাড়িতে করে মূমুর্ষু রোগীকে নিয়ে যেতে যেতে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে গ্রামবাসী ফিরে আসে রোগীর মৃতদেহ নিয়ে।

⭕দশরথ মাঝির বাড়ি

অবহেলিত গ্রামটির উদাহরণ দেয়ার মতো প্রেমিক জুটি ছিল দশরথ-ফাল্গুনি। বিয়ে করেন দু’জন, সন্তানও হয়। পুত্র ভগীরথ এবং ও কন্যা বাসন্তী। দিন মজুরের কাজ করেন দশরথ। উচ্চবর্ণদের ফসলা জমিতে কাজ করে ফিরে আসেন সন্ধ্যার মধ্যে। দুপুরে দশরথের খাবার ও জল পুঁটলিতে নিয়ে পাহাড় বেয়ে দিয়ে আসেন ফাল্গুনি। অনেক কষ্টে পৌঁছান দশরথের কাছে। কিন্তু একদিন এই পথই কাল হলো ফাল্গুনির। সেই থেকে পাগলপ্রায় দশরথ।

⭕দশরথের রাস্তা বানানো ও গ্রামবাসীর ঠাট্টা🥀

পাথর কাটা মেশিন নেই, হাতুড়ি আর শাবল দিয়ে বানাবে রাস্তা—এই বলে ঠাট্টা তামাশা করতে লাগলেন গ্রামবাসী। কিন্তু দশরথ তার প্রতিজ্ঞায় অটুট থাকেন। ১৯৬০ সাল, এক ভোরে সূর্য ওঠার আগে দশরথ নেমে পড়েন প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের অসম লড়াইয়ে। হাতুড়ির ঘায়ে পাহাড়ের পাথরে দশরথ মাঝির ক্ষোভের ফুলকি ঠিকরে ওঠে। হাতুড়ির প্রতিটি আঘাত যেন স্ত্রী ফাল্গুনির মৃত্যুর প্রতিশোধ।

গ্রামের লোকেরা খবর পেয়ে দেখতে আসেন ভিড় করে। দশরথ কোনো দিকে তাকান না, কারো কথা শোনেন না। দেহের সব শক্তি একত্রিত করে হাতুড়ির আঘাত হেনেই চলেন পাহাড়ের পাথরে। শরীর থেকে ঝরনার মত ঘাম গড়ায়। গলা শুকিয়ে কাঠ হয়। মুখে ওঠে ফেনা। হাত ফেটে বার হয় রক্ত। তবে থামেন না অক্লান্ত দশরথ। তার মাথায় একটিই চিন্তা, এর চেয়ে অনেক যন্ত্রণা পেয়েছিল তার ফাল্গুন!

⭕দশরথ মাঝির বানানো রাস্তা🥀

এভাবে কেটে গেল দশটি বছর। গ্রামের লোক অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে দেখেন, পাহাড়ের গায়ে এই দশ বছরে বড় একটা ফাটল বানিয়ে ফেলেছেন দশরথ। ফাটলটা ধীরে ধীরে বাড়ছে। রোদ ঝড় বৃষ্টিতে সবাই যখন ঘরের নিরাপদ আশ্রয়ে, দশরথ তখনো চালিয়ে যান হাতুড়ি। এভাবেই কেটে যায় ২২ বছর। ১৯৮২ সালে পাথরটি কাটা শেষ হবার পর দশরথ তীব্র আক্রোশে সেটি লাথি মেরে গড়িয়ে দেন ঢালু পথে। তারপর কান্নায় ভেঙে পড়েন। চোখের জলে ভিজে যায় গেহলৌরের আকাশ। আচমকাই মেঘ ভাঙা বৃষ্টি নামে।

খবর পেয়ে গ্রামের লোক ভিজতে ভিজতেই ছুটে আসেন। স্থানু হয়ে দেখেন, পাহাড়ের বুক চিরে শুয়ে আছে ৩৬০ ফুট লম্বা আর ৩০ ফুট চওড়া রাস্তা। গ্রামবাসীরা দশরথকে কাঁধে তুলে নেন, দশরথ কোনো কথা বলেন না। চোখ দিয়ে বইতে থাকে জলের ধারা। রাতে যখন আকাশে পূর্ণিমার চাঁদ ওঠে, দশরথ গিয়ে দাঁড়ান পাহাড়ের কোলে, সেই ছোট্ট ডোবাটির ধারে। যেখানে তার প্রিয়তমার চিতা দাউ দাউ করে জ্বলে উঠেছিল কোনো এক সন্ধ্যায়।

পরবর্তীতে বিহার সরকার দশরথ মাঝিকে সম্মান জানিয়ে ৫ একর জমি দেন। গ্রামের উন্নয়নই ছিল দশরথ মাঝির জীবনের একমাত্র স্বপ্ন। তাই সেই জমি তিনি দান করে দেন হাসপাতাল তৈরির জন্য। আজ সেখানে তারই নামে গড়ে উঠেছে হাসপাতাল। ২০০৬ সালে বিহার সরকার ‘পদ্মশ্রী’ পুরস্কারের জন্য দিল্লিতে পাঠান দশরথ মাঝির নাম। না, পদ্মশ্রী পাননি দশরথ, তার তোয়াক্কাও করেন নি। মানুষ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছাতে পারে।

⭕গেহলৌরের কথা🥀

ভারতের বিহার রাজ্যের গয়া জেলার মুহরা তহশিলের আতরি ব্লকে অবস্থিত প্রত্যন্ত গ্রাম গেহলৌর। গ্রামটিকে পাশের শহর থেকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে বড় এক পাহাড়, তার নামও গেহলৌর। পাহাড় ঘুরে ওয়াজিরগঞ্জ যেতে গ্রামবাসীকে পাড়ি দিতে হয় প্রায় ৫৫ কিলোমিটার পথ। গ্রামের উন্নয়নের পথেও একদিন প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল গেহলৌর পাহাড়।এখানকার বাসিন্দারা তথাকথিত নিচু জাতের। সেকারণে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি সেখানে। দারিদ্র, অনাহার, বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুকে নিয়তি হিসেবেই মেনে নিয়েছিলেন গ্রামবাসী। নেই পানীয় জল, নেই বিদ্যুৎ, নেই স্কুল বা হাসপাতালও। সবচেয়ে কাছের হাসপাতালটির দূরত্বই প্রায় সত্তর কিলোমিটার। গরুর গাড়িতে করে মূমুর্ষু রোগীকে নিয়ে যেতে যেতে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে গ্রামবাসী ফিরে আসে রোগীর মৃতদেহ নিয়ে।

⭕দশরথ মাঝির বাড়ী🥀

অবহেলিত গ্রামটির উদাহরণ দেয়ার মতো প্রেমিক জুটি ছিল দশরথ-ফাল্গুনি। বিয়ে করেন দু’জন, সন্তানও হয়। পুত্র ভগীরথ এবং ও কন্যা বাসন্তী। দিন মজুরের কাজ করেন দশরথ। উচ্চবর্ণদের ফসলা জমিতে কাজ করে ফিরে আসেন সন্ধ্যার মধ্যে। দুপুরে দশরথের খাবার ও জল পুঁটলিতে নিয়ে পাহাড় বেয়ে দিয়ে আসেন ফাল্গুনি। অনেক কষ্টে পৌঁছান দশরথের কাছে। কিন্তু একদিন এই পথই কাল হলো ফাল্গুনির। সেই থেকে পাগলপ্রায় দশরথ।

⭕দশরথের রাস্তা বানানো ও গ্রামবাসীর ঠাট্টা🥀

পাথর কাটা মেশিন নেই, হাতুড়ি আর শাবল দিয়ে বানাবে রাস্তা—এই বলে ঠাট্টা তামাশা করতে লাগলেন গ্রামবাসী। কিন্তু দশরথ তার প্রতিজ্ঞায় অটুট থাকেন। ১৯৬০ সাল, এক ভোরে সূর্য ওঠার আগে দশরথ নেমে পড়েন প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের অসম লড়াইয়ে। হাতুড়ির ঘায়ে পাহাড়ের পাথরে দশরথ মাঝির ক্ষোভের ফুলকি ঠিকরে ওঠে। হাতুড়ির প্রতিটি আঘাত যেন স্ত্রী ফাল্গুনির মৃত্যুর প্রতিশোধ।

গ্রামের লোকেরা খবর পেয়ে দেখতে আসেন ভিড় করে। দশরথ কোনো দিকে তাকান না, কারো কথা শোনেন না। দেহের সব শক্তি একত্রিত করে হাতুড়ির আঘাত হেনেই চলেন পাহাড়ের পাথরে। শরীর থেকে ঝরনার মত ঘাম গড়ায়। গলা শুকিয়ে কাঠ হয়। মুখে ওঠে ফেনা। হাত ফেটে বার হয় রক্ত। তবে থামেন না অক্লান্ত দশরথ। তার মাথায় একটিই চিন্তা, এর চেয়ে অনেক যন্ত্রণা পেয়েছিল তার ফাল্গুন!

⭕দশরথ মাঝির বানানো রাস্তা🥀

এভাবে কেটে গেল দশটি বছর। গ্রামের লোক অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে দেখেন, পাহাড়ের গায়ে এই দশ বছরে বড় একটা ফাটল বানিয়ে ফেলেছেন দশরথ। ফাটলটা ধীরে ধীরে বাড়ছে। রোদ ঝড় বৃষ্টিতে সবাই যখন ঘরের নিরাপদ আশ্রয়ে, দশরথ তখনো চালিয়ে যান হাতুড়ি। এভাবেই কেটে যায় ২২ বছর। ১৯৮২ সালে পাথরটি কাটা শেষ হবার পর দশরথ তীব্র আক্রোশে সেটি লাথি মেরে গড়িয়ে দেন ঢালু পথে। তারপর কান্নায় ভেঙে পড়েন। চোখের জলে ভিজে যায় গেহলৌরের আকাশ। আচমকাই মেঘ ভাঙা বৃষ্টি নামে।

খবর পেয়ে গ্রামের লোক ভিজতে ভিজতেই ছুটে আসেন। স্থানু হয়ে দেখেন, পাহাড়ের বুক চিরে শুয়ে আছে ৩৬০ ফুট লম্বা আর ৩০ ফুট চওড়া রাস্তা। গ্রামবাসীরা দশরথকে কাঁধে তুলে নেন, দশরথ কোনো কথা বলেন না। চোখ দিয়ে বইতে থাকে জলের ধারা। রাতে যখন আকাশে পূর্ণিমার চাঁদ ওঠে, দশরথ গিয়ে দাঁড়ান পাহাড়ের কোলে, সেই ছোট্ট ডোবাটির ধারে। যেখানে তার প্রিয়তমার চিতা দাউ দাউ করে জ্বলে উঠেছিল কোনো এক সন্ধ্যায়।

পরবর্তীতে বিহার সরকার দশরথ মাঝিকে সম্মান জানিয়ে ৫ একর জমি দেন। গ্রামের উন্নয়নই ছিল দশরথ মাঝির জীবনের একমাত্র স্বপ্ন। তাই সেই জমি তিনি দান করে দেন হাসপাতাল তৈরির জন্য। আজ সেখানে তারই নামে গড়ে উঠেছে হাসপাতাল। ২০০৬ সালে বিহার সরকার ‘পদ্মশ্রী’ পুরস্কারের জন্য দিল্লিতে পাঠান দশরথ মাঝির নাম। না, পদ্মশ্রী পাননি দশরথ, তার তোয়াক্কাও করেন নি।🌷🌷🌷🌹🌹🥀

Saturday, 15 February 2020

স্বামীর জন্য দুনিয়ার সর্বোত্তম সম্পদ হল ‘নেককার স্ত্রী’

দুনিয়ার সর্বোত্তম সম্পদ- রাসূল সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, তোমরা নারীদের প্রতি কল্যাণকামী হও। তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি উত্তম, যে তার স্ত্রীর নিকট উত্তম, আমি আমার স্ত্রীদের নিকট উত্তম।
বর্তমানে সমাজে নারীপ্রতি করা হচ্ছে নি’র্ম’ম, নির্দয় নি’র্যা’ত’ন। এমন কোনো নি’র্যা’ত’ন নাই যাই করা হয় না। অথচ পৃথিবীতে একজন পুরুষ মানুষের জন্য সর্বোত্তম সম্পদ হচ্ছে নেককার স্ত্রী।
সুতরাং দাম্পত্য জীবনে এ নারী যদি পুত-পবিত্র সচ্চরিত্রা হয়, তাহলে জীবন স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়। সমস্যা সংকুল জীবনেও শান্তির ফল্গুধারা বয়ে যায়। যে শান্তি নারী-পুরুষের বৈবাহিক জীবনের মাধ্যমে শুরু হয়। বিবাহিত জীবনে নেককার স্ত্রীর গুরুত্ব অত্যধিক। তাই ইসলাম স্ত্রীকে দিয়েছে সর্বোত্তম মর্যাদা। বৈবাহিক জীবনে নারী অধিকার সম্পর্কে কুরআন হাদিসের বক্তব্য তুলে ধরা হলো-
নারীর বিয়ে-
ইসলাম পূর্ব যুগে বৈবাহিক সম্পর্ক ছাড়াই মহিলাদেরকে পুরুষের মালিকানাধীন মনে করা হতো এবং একজন পুরুষ যত খুশী বিয়ে করতে পারত। ইসলাম নারীদের জন্য বিবাহকে বৈধ এবং আবশ্যক করেছেন। এ বিবাহের মাধ্যমে একজন নারীকে একটি সম্মানজনক আসনে সমাসীন করা হয়।
আল্লাহ বলেন, ‘আর তোমাদের মধ্যকার পুরুষ আর মহিলাদের মধ্য থেকে তাদের বিয়ে দিয়ে দাও যারা দাম্পত্য ছাড়া জীবন অতিবাহিত করে।’ (সুরা নূর)
নারীর মোহর-
মোহরকে নারীর ইজ্জতের গ্যারান্টি করা হয়েছে। ইসলাম পূর্ব যুগে নারীরা তাদের বিয়ের দেন মোহরের মালিকানা পেত না। ইসলাম নারীর মর্যাদা রক্ষায় মোহরের বিধান প্রবর্তন করে তা স্বামীর উপর ফরজ সাব্যস্থ করেছেন। তাদেরকে শিক্ষা দিয়েছেন যে, যদি মোহর রূপে অঢেল সম্পদও দেয়া হয় তা ফেরত নেয়া যাবে না। কেননা মোহর বিবাহের শর্ত হওয়ায় সেগুলো মহিলার মালিকানাধীন হয়ে যায়।
আল্লাহ বলেন, আর তোমরা স্ত্রীদেরকে তাদের মোহর দিয়ে দাও খুশি মনে। তারা যদি খুশি হয়ে তা থেকে (কিছু) অংশ ছেড়ে দেয়, তবে তা তোমরা স্বাচ্ছন্দ্যে ভোগ কর। (সুরা নিসা : আয়াত ৪)
স্ত্রী হিসেবে নারী-
মোহর নির্ধারণের মাধ্যমে নারী-পুরুষ পরস্পর ইজাব-কবুল করে একজন পুরুষ একজন নারীকে স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করে। স্ত্রী হিসেবে নারীকে এক স্বকীয় মর্যাদায় অধিষ্টিত করেছে ইসলাম। তাই স্বামীকে স্ত্রীর সাথে সদ্ব্যবহারের নির্দেশ দিয়ে আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা সদাচরণের ভিত্তিতে তোমাদের স্ত্রীদের সাথে জীবন-যাপন কর।’ (সুরা নিসা)
সংসার জীবন সুখের লক্ষ্যে আল্লাহ তাআলা অন্যত্র বলেন, ‘তোমরা তোমাদের স্ত্রীদের আবরণ স্বরূপ এবং তোমরাও তাদের জন্য আবরণ স্বরূপ।’ (সুরা বাকারা)
স্বামীর প্রতি স্ত্রীর অধিকার সম্পর্কে আল্লাহ বলেন, ‘মহিলাদের পুরুষদের উপর যেরূপ অধিকার আছে তেমনি পুরুষদেরও মহিলাদের উপর অধিকার রয়েছে।’ (সুরা বাক্বারা)
নেককার স্ত্রীকে দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ সম্পদ বলা হয়,এখন বদকার কোনো মহিলাকে কি সম্পদ বলা যেতে পারে? কাজেই শ্রেষ্ঠ সম্পদ হতে হলে সেরূপ বৈশিষ্ট্যও তো থাকা চাই।

ঈমানের পর সর্বোচ্চ নিয়ামত হচ্ছে সচ্চরিত্র স্বামীকে মুহব্বতকারিনী, চরিত্রবতী ও সন্তানবতী স্ত্রী সুবহানাল্লাহ। এরূপ মহিয়সী নারীকে হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালাম উনার রাজত্ব অপেক্ষা উত্তম বলা হয়েছে।
আর কুফরীর পর সর্বাপেক্ষা নিকৃষ্ট বস্তু হচ্ছে কর্কশভাষীনী ও অসচ্চরিত্রা স্ত্রী। নাঊযুবিল্লাহ! কাজেই প্রত্যেক স্ত্রীরই স্বামীকে মুহব্বত করত সচ্চরিত্রের অধিকারী হওয়ার চেষ্টা করতে হবে, তবেই সে তার স্বামীর জন্য শ্রেষ্ঠ সম্পদ হিসেবে পরিগণিত হবে।
আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে স্ত্রী প্রতি যথাযথ দায়িত্ব পালনসহ নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় ইসলামী অনুশাসন মেনে চলার তাওফিক দান করুন। আমিন।

যে ৪ টি আমল করলে নারীর জন্য জান্নাত- বিখ্যাত হাদিস গ্রন্থ বুখারি ও মুসলিমের দীর্ঘ একটি হাদিসে এসেছে, হজরত আবু সাঈদ খুদরি রাদিয়াল্লাহ আনহু বর্ণনা করেন যে, একবার ঈদুল ফিতরের দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদগাহে গিয়ে উপস্থিত নারীদেরকে লক্ষ্য করে বললেন, ‘হে নারী সম্প্রদায়! দান খয়রাত কর; কেননা আমাকে জানানো হয়েছে যে, দোজখের অধিকাংশ অধিবাসি তোমাদের নারী সম্প্রদায়েরই হবে।
অন্য এক হাদিসে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘোষণা করেন, ‘যে নারী-


১- পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়বে

২- রমজানের রোজা রাখবে

৩- স্বীয় গুপ্তস্থানের হেফাজত করবে ( পর্দা রক্ষা করে এবং ব্য’ভি’চা’র থেকে বিরত থেকে)

৪- স্বামীর আনুগত্য করবে।

এমন নারীদের জন্য জান্নাতের আটটি দরজা খুলে দেয়া হবে। যে দরজা দিয়ে ইচ্ছা সে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে। (তিরমিজি ও তাবরানি)
প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এ হাদিসের আলোকে কোনো নারী যদি তার ওপর অর্পিত উল্লেখিত ৪টি কাজ যথাযথভাবে পালন করে; ওই নারীর জন্য জান্নাতের ৮টি দরজাই খোলা থাকবে। কারণ উল্লেখিত কাজগুলোর দ্বারা আল্লাহ তায়ালা কর্তৃক নির্ধারিত নারীর জন্য সব বিধানই পালন করা হয়ে যাবে।
মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তায়ালা মুসলিম উম্মাহ সব নারীদেরকে উল্লেখিত হাদিসের আলোকে নামাজ, রোজা, চরিত্র ও স্বামীর আনুগত্য করার তাওফিক দান করুন। জান্নাতের সব ক’টি দরজাই তাদের জন্য সুনিশ্চিত থাকুক। আল্লাহুম্মা আমিন।

Friday, 14 February 2020

💥অনুপ্রেরণার-গল্প


একটি গাছে অনেক পাতা থাকে। অসংখ্য সবুজ পাতা গাছের সৌন্দর্য বাড়িয়ে তোলে। সেই সৌন্দর্য দেখে সবাই মুগ্ধ হয়। তবে অসংখ্য সবুজ পাতার মাঝে অনেক পাতাই মাঝে মাঝে শুকিয়ে যায়। একসময় সেই শুকনো পাতাগুলো গাছ থেকে ঝরে মাটিতে পড়ে যায়। তখন সেই ঝরা পাতাকে কেউ আর মূল্য দেয় না।

মানুষের জীবনও একটা গাছের মতো। এই গাছেও সবুজ পাতার মতো সৌন্দর্য থাকে, সেই সৌন্দর্য হলো অসংখ্য সাফল্যের পালক। মানুষের জীবন যখন সাফল্যের পালক দিয়ে ঢাকা থাকে, তখন তাকে সবাই সবুজ পাতার মতো ভাবে। আর যখন সাফল্যের পালক জীবন থেকে একটা একটা করে ছিঁড়ে যায়, তখন সেই মানুষটিকে সবাই ঝরা পাতার মতো মনে করে। তার জীবনে যেন আর কোনো মূল্য নেই!

সত্যিই কি ব্যর্থ হওয়া মানুষগুলোর জীবন গাছের ঝরা পাতার মতোই মূল্যহীন?

বনের ঝরা পাতাও কিন্তু অন্যের উপকার করে। বনের হিংস্র বাঘ যখন নিরীহ হরিণ শিকারের জন্য তীব্র বেগে ধেয়ে আসে, তখন শুকনো পাতাগুলো বাঘের পায়ের নিচে পড়ে মড়মড় আওয়াজ করে। সেই আওয়াজ শুনেই হরিণেরা বুঝতে পারে বিপদ আসন্ন। এভাবেই শুকনো পাতারা নিরীহ হরিণকে বিপদ থেকে মুক্ত করতে সাহায্য করে।

আমরা যারা তরুণ মাঝি, তারা জীবনের অনেক ক্ষেত্রেই ব্যর্থ হই। তাই বলে কি সবসময় বিষন্ন হয়ে বসে থেকে হাল ছেড়ে দেব? হতাশাগ্রস্ত হয়ে নিজের জীবনকে তিলে তিলে শেষ করে দেব?
গাছের ঝরা পাতাগুলোর দেহে প্রাণ থাকে না, তবুও তারা অন্যের উপকারে আসে। আমাদের দেহে তো প্রাণ আছে, তবে আমরা কেন পারব না?

জীবনে চলার পথে কষ্ট আসবেই। অর্থকষ্ট, স্বপ্ন ভেঙ্গে যাবার কষ্টসহ নানান ডিজাইনের কষ্ট। তারপরও কষ্টের নদী পাড়ি দিতে হবে। কখনো যদি খুব বেশি হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েন, তবে মাঝে মাঝে গাছের ঝরা পাতাগুলোর কাছে যাবেন। দেখবেন তারা আপনাকে সাহস দিয়ে বলবে, “তোমার জীবনে কিছুই হারিয়ে যায়নি। তোমার দেহে তো এখনো প্রাণ আছে। জেগে ওঠো! জ্বলে ওঠো হে তরুণ!”🤔✌

সফলতা আসলে কী?

তুমি যেটা করতে চাও সেটা করতে পারাটাই সফলতা।

ধরো একজনের রিক্সাচালক যদি তার দুই বছরের বয়সী বাচ্চা আর অসুস্থ স্ত্রীর মুখে খাবার তুলে দিতে চায়। এবং তিনি যদি সেটা করতে পারেন তাহলেই তিনি সফল।

আবার তুমি যদি আজকে সকালের ৮.০০ টার ক্লাস কোন রকমে ৮.০৫ গিয়ে এটেন্ডেন্স পেতে পারো। তাহলে তুমিও সফল। এইরকম খুচরা-খাচরা অনেক ছোটখাটো সফলতা প্রতিদিন-ই আমাদের লাইফে আসে। কিন্তু এই সফলতাগুলো শুধু তুমি-ই জানো। বাইরের মানুষ এগুলা জানে না। তাই এইগুলাকে আমি বলি- ইন্টারনাল সাকসেস।

.
.

তবে বেশিরভাগ মানুষ সফলতা বলতে যেটা বুঝায় সেটা হচ্ছে বাহ্যিক সফলতা বা এক্সটার্নাল সাকসেস। যেটার খবর অন্য মানুষরা জানে। সেটা নিয়ে অন্যরা বাহবা দেয়। তাই আমরাও সেটার পিছনে ছুটি। এই সব এক্সটার্নাল সাকসেস এর তিনটা পিলার আছে। 

১. কনসিস্টেন্সি বা ধারাবাহিকতা
এক্সটার্নাল সাকসেস পেতে হলে যে কাজটাতে তুমি ভালো সেটা দীর্ঘদিন ধরে ভালোভাবে চালিয়ে যেতে হবে। যেমন ধরো, সাকিব আল হাসান সফল। কারণ সে ক্রিকেটে ভালো পারফর্ম করার কাজটা ধারাবাহিকভাবে বহুদিন ধরে রাখতে পারছে। হুমায়ূন আহমেদ সফল। কারণ উনি দীর্ঘদিন ধরে বই লেখার জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে পেরেছেন। এই একই কারণে আফতাব নামক ক্রিকেটার সফল নন। কারণ সে ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেনি। 
.
২. গ্রোথ বা এগুতে থাকা
কেউ যদি একই লেভেলে পড়ে থাকে। তাহলে বাইরের মানুষ তাকে সফল মনে করবে না। বরং সফল হতে হলে সে আজকে যেই লেভেলে আছে তার চাইতে আগামীকাল আরেকটু বেশি আউটপুট দেখাতে হবে। বা আরেকটু বেশি রান করতে হবে। বা আরেকটু বেশি জনপ্রিয় হতে হবে। 
.
৩. রিকগনিশন বা প্রচার লাগবে
সফল হওয়ার আরেকটা দিক হচ্ছে-- প্রচার পাওয়া। কেউ বিশাল কিছু করে ফেললো। লাইফ বিসর্জন দিলো। কিন্তু নিউজ পেলো না। ভাইরাল হলো না। তার খবর কেউ জানলো না। তাহলে সমাজের চোখে সে সফল হবে না। 
.
.
তবে এইসব এক্সটার্নাল সফলতা তোমাকে মানুষিক শান্তি দিতে পারবে কিনা সেই গ্যারান্টি নাই। কারণ সফল হলেই যে সুখী হবে তার কোন গ্যারান্টি নাই। বরং সুখী হওয়ার জন্য নিজের চিন্তাভাবনার এঙ্গেল ঠিক করতে হয়। 

কারণ সফলতা জিনিসটা তুলনামূলক। এই যেমন ধরো, আমরা কয়েকজন ফ্রেন্ড মিলে পাইথন শেখার জন্য Programming Hero নামের একটা এন্ড্রয়েড এপ বানিয়ে ফেলছি। এক বছরে ২৫০,০০০ ডাউনলোড পেয়েছি। আমরা পিজ্জা খেয়ে সবাই সেলিব্রেট করেছি। ভাবছি এই বিষয়ে আমরা হেব্বি সফল। এই মুহূর্তে এপ স্টোরের আরো এক মিলিয়ন এর বেশি এপস আছে যাদের ডাউনলোড ১০০,০০০ পৌঁছেনি। তাদের তুলনায় আমরা অনেক বেশি সফল। 

অথচ এই তুলনাটাই যদি আমরা--ফেইসবুক, মেসেঞ্জার, টুইটার, পাঠাও, জিপি এপ এর ডাউনলোড এর সংখ্যার সাথে তুলনা করতে যাই। তাহলে আমাদের খুঁজেই পাওয়া যাবে না। মন খারাপ করে বসে থাকা ছাড়া আর কিছুই করতে পারবো না। 

সো, শেষ কথা হচ্ছে--তোমার সফলতার, তোমার সুখের মানদন্ড হচ্ছ তুমি। তুমি-ই ঠিক করবে কোনটাতে সফল আর কোনটাতে না। নতুন ছোট একটা কিছু করতে পারলে সেটাকে এনজয় করো। তোমার ছোট খাটো ইন্টারনাল সাকসেসগুলোকে মূল্যায়ন করো।এক্সটারনাল সাকসেস এর গুষ্টি মারো। ইন্টারনাল সাকসেসগুলোকে উপভোগ করার চেষ্টা করো। অন্যদের সাথে তুলনা করা কমিয়ে দাও। দেখবে-- লাইফ অটো সফল হয়ে গেছে।

📝🖋.........Zawadul Faruq



আগমনী

আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা

ক্লাস নাইনের পাঠ্যসূচিতে ছিলো "হাজার বছর ধরে" উপন্যাস৷ কীভাবে বড়ো ভাইয়ের বউ (ভাবি) এর সাথে পরকীয়া হয় তা শেখানো হল। শিক্ষার্থীরা ওস...

স্মৃতির পাতা