Friday, 11 December 2020

আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা

ক্লাস নাইনের পাঠ্যসূচিতে ছিলো "হাজার বছর ধরে" উপন্যাস৷ কীভাবে বড়ো ভাইয়ের বউ (ভাবি) এর সাথে পরকীয়া হয় তা শেখানো হল। শিক্ষার্থীরা ওসব সংলাপ মুখস্থ করে পরীক্ষার খাতায় লিখতো। একাদশে "পদ্মা নদীর মাঝি" তেও দেখানো হল শ্যালিকার সাথে পরকীয়ার কৌশল। সেখান থেকে পেরিয়ে যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে পা রাখলো তখন শেখানো হল "জাস্ট ফ্রেন্ড" অথবা "বন্ধু" নামের বিপরীত লিঙ্গের মানুষের সাথে কীভাবে ফ্রেন্ডশিপ করা যায়। একটি টুথপেস্ট বানানো প্রতিষ্ঠান প্রতিবছর দেখাতে থাকলো "কাছে আসার গল্প" নামক নানা রোমান্টিক কাহিনী। আরো আছে লাস্যময়ী নারীদের নানাপ্রকার "সুন্দরী প্রতিযোগীতা"। আছে হ্যান্ডসাম পুরুষদের নিয়েও প্রতিযোগীতা।
.
এসবের মধ্যে বেড়ে উঠে একজন ছেলে / মেয়ে যখন বলে " প্রেম (বিবাহপূর্ব) পবিত্র, প্রেম স্বর্গ থেকে আসে, মন ভাঙ্গা মসজিদ ভাঙ্গার সমান" তখন তাদের খুব বেশি একটা দোষ দেওয়া যায় না। কারণ, এদের কেউ কোনোদিন কোনটা ভালো, কোনটা মন্দ তা শেখায় নি। যাদের দিকনির্দেশনায় তারা বড়ো হয়েছে, তারা প্রত্যেকেই নৈতিকভাবে দুর্নীতিগ্রস্থ, মানসিকভাবে বিকারগ্রস্থ এবং আত্নপরিচয় নিয়ে হীনমন্যতায় ভোগা অসুস্থ জানোয়ার প্রজাতির অসভ্য বুড়ো-বুড়ি।



Wednesday, 7 October 2020

আবার একজন "ফুলন দেবী" চাই

❤️🖤💙নারী নির্যাতন ও বর্ণবাদের বিরুদ্ধে আজ পর্যন্ত এই পৃথিবীতে যে কয়কেজন যুদ্ধ করে বিজয়ী হতে পেরেছেন, তাদের তালিকায় বেশ ওপরের দিকে থাকবে ফুলন দেবীর নাম। ভারতীয় আইনের চোখে তিনি সন্ত্রাসী, নিচু জাতের মাল্লাদের কাছে তিনি ত্রাণকর্তা। কাউকে বিন্দুমাত্র পরোয়া না করে তিনি নিজেই লিখেছেন নিজের জীবনের বদলে যাওয়ার গল্প। তথাকথিত ভদ্র সমাজের চোখে কিংবা সমাজের উচ্চবর্ণের কাছে তাদের ভাষায় ‘ম্লেচ্ছ’ এই ফুলন দেবী জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম জারি রেখেছিলেন । তাইতো আজ থেকে ১৯ বছর আগে দিল্লিতে নিজ বাসভবনের সামনে যাকে গুলি করে মেরে ফেলাটা প্রভাবশালীদের জন্য খুবই প্রয়োজনীয় হয়ে উঠেছিল।💔

১৯৬৩ সালের ১০ আগস্ট ধরণীতে অবতরণ করেছিলেন ফুলন দেবী। উত্তর প্রদেশের ছোট্ট একটি গ্রাম ঘুরা কা পুরয়াতে থাকতেন তার বাবা–মা। মেয়ে হিসেবে জন্ম নেয়াই যেন মাল্লা সম্প্রদায়ের এই মেয়েটির আজন্ম পাপ। বাবা-মায়ের ঘাড়ের বোঝা হিসেবেই বিবেচনা করা হতো নিচু জাতের মেয়েদের। নিম্নবর্ণের মাল্লা সম্প্রদায়ের প্রধান পেশা হচ্ছে নৌকা চালানো। মাল্লা বলতে মাঝিদের বোঝানো হয়। মাঝির ঘরের আদরের কন্যা ফুলের দেবী ফুলন আর তার ছোট বোনের বিয়ের জন্য এক একর জায়গাজুড়ে নিমের বাগান করেছিলেন তাদের বাবা। জামাইয়ের মনমতো যৌতুক না দিলে মেয়েরা ভালো থাকবে কেন?
কিন্তু ফুলনের বাবার সেই সম্বলটুকুতেও বাগড়া বাধায় তারই আপন বড় ভাই। সব সম্পত্তি নিজের বলে ঘোষণা দিয়ে ছেলে মায়াদিনকে দিয়ে বাগানের গাছ কেটে বিক্রি করা শুরু করে দেয়। ছোটবেলা থেকেই জ্বলন্ত আগ্নেয়গিরির মতো ফুটতে থাকা ফুলন এর ঘোর বিরোধিতা শুরু করে। মায়াদিনকে সে জনসম্মুখে চোর সাব্যস্ত করে। এর প্রতিশোধস্বরূপ, ৩০ বছর বয়সী পুট্টিলাল নামক এক লোকের সঙ্গে মাত্র ১১ বছর বয়সী ফুলনের বিয়ে ঠিক করে মায়াদিন। ফুলন তার আত্মজীবনীতে লিখেছেন, পুট্টিলাল একজন অসৎ চরিত্রের লোক। শ্বশুরবাড়িতে শিশু ফুলনের সঙ্গে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন এবং নির্যাতন চলত নিয়মিত। বাবার বাড়িতে ফিরে গেলেও সমাজের দিকে চেয়ে ফুলনের পরিবার তাকে আবার শ্বশুরবাড়িতে রেখে আসে। অবস্থার কোনো পরিবর্তন না হওয়ায় ফুলন এবার মুখের ওপর প্রতিবাদ জানিয়ে স্থায়ীভাবে চলে আসে বাবার বাড়িতে। মাল্লা সমাজে স্বামী পরিত্যাগ করা নারীকে চরিত্রহীনা বলে কুনজরে দেখা হতো। কাজেই ফুলনকে নিয়ে একের পর এক কুৎসা রটতে থাকে গ্রামময়।
সেসব কথায় কান না দিয়ে পিতার সম্পত্তি রক্ষার জন্য লড়াই শুরু করেন ফুলন দেবী। কিন্তু মায়াদিন তাকে উল্টো ফাঁসিয়ে দিয়ে ১৯৭৯ সালে চুরির অভিযোগে পুলিশের হাতে সোপর্দ করে। তিন দিন কারাবাসের সাজা হয় ফুলনের। এই তিন দিন ধরে পুলিশের কাছে প্রথমবারের মতো গণধর্ষণের শিকার হয় সে। সেই অপরাধীদের কোনো শাস্তি না দিয়ে বরং কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর তাকেই পরিবার ও গ্রাম থেকে বর্জন করা হয়! মালা সেনের লেখা ‘ইন্ডিয়া’স ব্যান্ডিট কুইন: দ্য ট্রু স্টোরি অফ ফুলন দেবী’ বইয়ে লেখা আছে, গ্রাম থেকে নির্বাসিত হওয়ার পর স্থানীয় ডাকুরা তাকে অপহরণ করে। আবার কেউ কেউ বলেন, ডাকাতদলে যোগ দেয়ার জন্যই নাকি তিনি প্রথম স্বামীকে পরিত্যাগ করেন। সে যাই হোক, ডাকাতদলে শুরু হয় ফুলন দেবীর নতুন জীবন।
ফুলন দেবী যে ডাকাতদলের সদস্য ছিলেন তাদের নেতার নাম বাবু গুজ্জর। নিষ্ঠুর এই ডাকাতের চোখ পড়ে ফুলনের ওপর। বাবুর কাছে প্রায় কয়েক দফা ধর্ষিত হওয়ার পর তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসে দলের দ্বিতীয় নেতা বিক্রম মাল্লা। স্বজাতির ওপর বাবু গুজ্জরের এই নির্মমতার প্রতিবাদে তিনি বাবুকে খুন করে নিজেকে দলের নেতা ঘোষণা করেন। নিষ্ঠাবান ডাকাত লুণ্ঠিত সম্পত্তি দরিদ্রদের মাঝে বিলিয়ে দেওয়ার রেওয়াজ চালু করেন। বিক্রমের প্রেমে পড়ে যায় ফুলন। ভালোবেসে দুজন দুজনকে স্বামী-স্ত্রীর মর্যাদায় গ্রহণ করেন। তাদের বিয়ের পর বিক্রমকে সঙ্গে নিয়ে ফুলন তার প্রথম স্বামী পুট্টিলালের গ্রামে গিয়ে জনসমক্ষে গাধার পিঠে উল্টো করে বসিয়ে গ্রামের আরেক প্রান্তে নিয়ে এসে মারধর করে। কোনো বয়স্ক পুরুষ যেন অল্পবয়সী কোনো মেয়েকে বিয়ে করে তার সাথে যেমন নির্যাতন করা হয়েছিল তেমনটা না করতে পারে, তার জন্য একটি হুঁশিয়ার বাণীস্বরূপ পত্রসমেত পুট্টিলালকে প্রায় আধমরা অবস্থায় ছেড়ে দিয়ে আসে তারা।

স্বামী বিক্রম মাল্লার কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে বন্দুক চালানো, গ্রাম লুণ্ঠন, ভূস্বামীদের অপহরণ, রেল ডাকাতি প্রভৃতি কাজে বেশ পারদর্শী হয়ে ওঠেন ফুলন। প্রত্যেকবার ডাকাতি করে আসার পর দুর্গাদেবীর মন্দিরে গিয়ে প্রাণ রক্ষার জন্য দেবীকে ধন্যবাদ জানিয়ে আসতেন ফুলন। এদিকে প্রকৃতপক্ষে বিক্রমদের দলের প্রধান ছিল শ্রীরাম নামক এক ঠাকুর সম্প্রদায়ের ডাকাত। সে সময় ঠাকুরদের সঙ্গে মাল্লাদের ব্যবধান এতটাই বেশি ছিল যে, তারা এক জায়গায় পানির পাত্রও রাখতে পারতো না। শ্রীরাম ও তার ভাই লালারাম জেলহাজতে বন্দি থাকায় প্রায় ৮০ হাজার টাকা খরচ করে তাদের জামিন করায় বিক্রম। দলের নেতৃত্বও তাদের হাতে তুলে দিতে চায় সে। কিন্তু নিচু সম্প্রদায়ের ডাকাতরা জানত, শ্রীরাম আসলে ঠাকুর আর পুলিশদের গুপ্তচর। কাজেই তারা কেউ শ্রীরামের নেতৃত্ব মানতে চায়নি। ফলস্বরূপ, ডাকাতদল মাল্লা ও ঠাকুর দুটি পৃথকদলে বিভক্ত হয়ে পড়ে। দলের মধ্যে এই বিভাজন মানতে পারেনি শ্রীরাম। যার কারণে তার প্রধান শত্রু বনে যায় বিক্রম। পরপর দু’বার চেষ্টা চালিয়ে অবশেষে পথের কাঁটা দূর করে ফুলনকে অপহরণ করে তারা।
কানপুর থেকে ১০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত উত্তর প্রদেশের একটি গ্রাম বেহমাই। এই গ্রামের একটি ঘটনাই ফুলন দেবীকে ভয়ংকর ডাকাতে পরিণত করেছে, দস্যুরানী হিসেবে যে পরিচয় তিনি জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত বহন করেছেন, তার সূত্রপাত ঘটে এখানে। অপহরণের পর ফুলন দেবীকে বেহমাই গ্রামে নিয়ে এসে প্রায় উলঙ্গ করে পুরো গ্রামবাসীর সামনে হাজির করে শ্রীরাম। বিক্রমের হত্যাকারী দাবি করে তার ওপর অত্যাচার করার নির্দেশ দেয়া হয় গ্রামবাসীদের। প্রথমে শ্রীরাম, এরপর একে একে ঠাকুর সম্প্রদায়ের বহুলোক প্রায় ২৩ দিন ধরে তার উপরে পাশবিক নির্যাতন চালায়। গণধর্ষণের একপর্যায়ে তাকে মৃত ভেবে ফেলে দিয়ে যায় মানুষরূপী পশুর দল। কোনোমতে একটি গরুর গাড়িতে উঠে বেহমাই থেকে পালিয়ে আসে ফুলন।
অবশ্য একটি বিস্ময়কর ব্যাপার হলো, ফুলন দেবী নিজমুখে কখনো এই গণধর্ষণের কথা সরাসরি স্বীকার করেননি। তার আত্মজীবনীর লেখিকা মালা সেনকে বলেছেন, “ওরা আমার সঙ্গে অনেক অন্যায়-অত্যাচার করেছে”। এই একটি লাইনকেই অবশ্য ফুলন দেবীর সার্বিক অবস্থার প্রতীকীরূপ বলে বিবেচনা করা যায়। তবে ধরে নেয়া যায়, বাইরে থেকে যতই দুর্ধর্ষ মনে হোক না কেন, লোকলজ্জার ভয়কে দস্যুরাণী নিজেও উপেক্ষা করতে পারেনি। স্থানীয়রা এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তবে ধর্ষণের শিকার অন্যান্য নারীদের মতো চুপ করে বসে থাকেনি ফুলন। নিজের অপমানের প্রতিশোধ নিতে তৎপর হয়ে ওঠে। বিক্রমের এক বন্ধু, মান সিংহ, খবর পায় ফুলনের। তার সাহায্যে মুসলিম এক ডাকুসর্দার বাবা মুস্তাকিমের কাছে পৌঁছায় সে।
বাবা মুস্তাকিমের সাহায্যে মান সিংহ আর ফুলন মিলে গড়ে তোলে নতুন একটি ডাকাতদল। নির্যাতিত হওয়ার প্রায় ১৭ মাস পর, ১৯৮১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি, শ্রীরাম আর লালারামের খোঁজ পায় ফুলন। তাদের হত্যা করতে এক বিয়ে বাড়িতে গিয়ে তার উপর নির্যাতন চালানো দুই ঠাকুরকে চিনতে পারে সে। ক্রোধে অন্ধ হয়ে সেখানে উপস্থিত ২২ ঠাকুরকে এক সারিতে দাঁড় করিয়ে গুলি করে মেরে ফেলে ফুলন। ইতিহাসে এই ঘটনা ‘বেহমাই হত্যাকাণ্ড’ বা ‘বেহমাই গণহত্যা’ নামে কুখ্যাত। এতে বেশকিছু নিরীহ ঠাকুর মারা যাওয়ায় উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী ভি.পি.সিং পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। ধীরে ধীরে লোকের কাছে ‘দস্যুরাণী ফুলনদেবী’ শব্দযুগল বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। মায়াবিনী এই ডাকু সর্দারের সমস্ত ক্ষোভ কেবল ঠাকুরদের প্রতি, মাল্লাদের মতো নিচু সম্প্রদায় যেন তার ঘরের লোক। শহরগুলোতে তাই দুর্গার বেশে ফুলনের মূর্তির বেচাকেনা শুরু হয়ে যায়। এ যেন সত্যিকারের এক রবিনহুডের গল্প।
তবে এত বড় হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে খুব সহজে ছাড় পায়নি ফুলন দেবী। ৪৮টি অপরাধকর্মের জন্য, যার মধ্যে ৩০টি ডাকাতি এবং অপহরণের অভিযোগ, প্রায় দু’বছর পুলিশকে নাস্তানাবুদ করে অবশেষে কিছু শর্তসাপেক্ষে পুলিশে কাছে ধরা দেয় ফুলন দেবী। শর্তগুলো ছিল-
ফুলন ও তার অন্যান্য সঙ্গীরা কেবল মধ্যপ্রদেশে আত্মসমর্পণ করবে, বিচারের জন্য তাদের উত্তরপ্রদেশে নেওয়া যাবে না। তাদের ফাঁসি দেয়া যাবে না এবং ৮ বছরের বেশি সময় কারাবাস হবে না। মায়াদিন কর্তৃক অবৈধভাবে দখল করা জমি ফুলনের পিতাকে ফেরত দিতে হবে। ফুলনের পিতা-মাতাকে মধ্যপ্রদেশে পাঠিয়ে দিতে হবে এবং সরকার ফুলনের ভাইকে চাকরি দেয়ার নিশ্চয়তা প্রদান করবে।
ফুলনের সব কয়টি শর্ত মেনে নেয় সরকার। তবে ৮ বছরের বদলে তাকে ১১ বছর কারাবাস করতে হয়। বেহমাই হত্যাকাণ্ডের প্রায় দু’বছর পর ১৯৮৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে প্রায় ৮ হাজার দর্শকের উপস্থিতিতে আত্মসমর্পণ করে ফুলন দেবী। ১৯৯৪ সালে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে জন্ম নেয় এক নতুন ফুলন। ১৯৯৬ সালে সমাজবাদী পার্টি (এসপি) ফুলনকে মির্জাপুর আসনে নির্বাচন করার জন্য বাছাই করে। রাজনৈতিক জগতে ফুলনের গুরু ছিলেন এই দলেরই নেতা মুলায়ম সিং যাদব। ভারতীয় জনতা পার্টি ও বেহমাই হত্যাকাণ্ডে নিহত ঠাকুরের স্ত্রীদের ঘোর আপত্তি থাকা সত্ত্বেও সেবার নির্বাচনে জয়লাভ করে ফুলন। ১৯৯৮ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে হেরে গেলেও, ১৯৯৯ সালের মির্জাপুর লোকসভা নির্বাচনে ফের তার আসন দখল করে একসময়ের দোর্দণ্ড প্রতাপশালী দস্যুরানী। মধ্য প্রদেশের জঙ্গল ছেড়ে অশোকা রোডের ঝাঁ চকচকে বাড়িতে গড়ে তোলে তার নতুন ঠিকানা।
জীবন বদলে গেলেও পেছনে ফেলে আসা দিনগুলো তাকে তাড়া করে ফেরে প্রতিনিয়ত। তার ব্যাপারে যে কারো কারো যথেষ্ট ক্ষোভ রয়েছে, এ কথা তিনি নিজেও জানতেন। তার সম্পর্কে বলতে গিয়ে ইন্দিরা জয়সিং জানান, “ফুলন সবসময় জানত অতীত তাকে ধাওয়া করে বেড়াচ্ছে। একজন নারী হয়ে পিতৃতন্ত্রকে চ্যালেঞ্জ করার জন্য অনেকের চোখেই জনমভর সে একজন অপরাধী বৈ আর কিছুই নয়। এ কারণেই সে সবসময় পুলিশি নিরাপত্তা নিয়ে চলাফেরা করত।”

কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি ২০০১ সনের ২৫ জুলাই তারিখে নতুন দিল্লিতে ফুলন দেবীকে হত্যা করা হয়। তার দেহরক্ষীও আহত হয়। সেই সময়ে তিনি সংসদ থেকে বের হয়ে আসছিলেন। হত্যাকারীরা তাকে গুলি করে অটোরিকশায় উঠে পালিয়ে যায়। হত্যাকারীরা ছিলেন শ্বের সিং রাণা, ধীরাজ রাণা ও রাজবীর। শ্বের সিং রাণা দেরাদুনে আত্মসমর্পণ করেন। হত্যাকারীরা প্রকাশ করেন যে বেহমাই হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য এই হত্যা করা হয়েছে। এভাবেই পরিসমাপ্তি ঘটে চিরবিদ্রোহী এক নারীর ঘটনাবহুল জীবনের। তার জীবনী নিয়ে ১৯৯৮ সালে শেখর কাপুর পরিচালনা করেন ‘ব্যান্ডিট কুইন’ নামের একটি চলচ্চিত্র। এখানে ফুলনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন সীমা বিশ্বাস। এর আগে ১৯৮৫ সালে অশোক রায়ের পরিচালনায় বাংলায় ‘ফুলন দেবী’ নামে একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করা হয়। আর মালা সেন রচিত তার আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ তো রয়েছেই। শারীরিক মৃত্যু হলেও ফুলন দেবীর মতো নারীরা সমাজের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন নারী হলেও নিজেদের ভাগ্য নিজেরাই বদলে দিতে জানেন, নিজের পরিচয় নিজেই গড়ে নিতেন জানেন।

Sunday, 16 February 2020

🌸"শিক্ষণীয় ঘটনা"🌸

 আলেম তার স্ত্রীকে নিয়ে
ট্রেনে করে শ্বশুরবাড়ি যাচ্ছেন।
তাদের সামনের সিটে মুখোমুখিই
নিজের স্ত্রীকে নিয়ে বসে আছেন
এক জেনারেল শিক্ষিত লোক।

সে তার বউকে নিয়ে কোথাও যাচ্ছিল৷
লোকটির বউ পর্দা তো দুরের কথা
বরং খোলামেলা ভাবেই যাচ্ছেন।

আলেম সাহেবের স্ত্রীর অবস্থা যেটা ছিল
তার অবস্থা সম্পূর্ণ বিপরীত।
এক পর্যায়ে ঐ আলেমকে উদ্দেশ্য করে
লোকটি বলতে লাগলো,
মোল্লারা নিজেদের বউকে আবদ্ধ করে রাখে,
একটু খোলামেলা রাখতেও জানে না
ইত্যাদি ইত্যাদি। (না’উযুবিল্লাহ)

তখন আলেম সাহেব
জেনারেল শিক্ষিত লোকটিকে বললেন,
► আলেমঃ ভাই আপনার এই ব্যাগটিতে কি?
► লোকটিঃ আমার গোপন ও মূল্যবান জিনিসপত্র আছে৷
আর টাকা-পয়সাও এতে আছে৷
► আলেমঃ সেখানে কেন রেখেছেন?
► লোকটিঃ লুকিয়ে রেখেছি৷ নিরাপত্তার জন্য রেখেছি৷
► আলেমঃ আমিও আমার স্ত্রীকে এভাবেই
যত্ন করে নিরাপত্তার জন্য রেখেছি৷
যেন পর পুরুষের কু-দৃষ্টি
তার রূপ সৌন্দর্যের উপরে না পরে৷
আর আমার কাছে আমার স্ত্রী
খুবই মহামূল্যবান সম্পদ৷
আমার স্ত্রী আমার পকেটের টাকা-পয়সা ও মূল্যবান
সকল জিনিসপত্রের চেয়েও
কোটি কোটি গুণ বেশি মূল্যবান।

আর আপনি আপনার বউকে
পকেটের টাকা-পয়সার চেয়েও
বেশি ভালোবাসেন না
বা মূল্যবান মনে করেননা৷
তাই বলেই তো আপনার টাকা-পয়সাটা
অতি যত্নে ও গোপনে রেখেছেন।
আর নিজের বউটাকে জনসম্মুখে
খোলামেলা রেখেছেন।

আমরা আমাদের বউকে খুব
ভালোবাসি বলেই
অন্যের কু-দৃষ্টি থেকে তাদের পবিত্র
ও নিরাপদে রাখার চেষ্টা করি...৷
অতঃপর ঐ জেনারেল শিক্ষিত লোকটি
নিজের ভুল বুঝতে পারলো।
আর তখন খুবই লজ্জিত হলো...।
🌺তাই আসুন, আমরা সকলেই এই পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সম্পদ নারী জাতিকে 'আল্লাহর হুকুম পর্দার' দ্বারা নিরাপদে রাখি৷ আল্লাহ তা'আলা আমাদের সকলকে তাওফীক্ব দান করুন। আমীন।

💙❤️দশরথ মাঝির ভালোবাসার নিদর্শন🥀

আজকের গল্পটা ১৯৫৯ সালের কোনো এক দুপুরের। সেদিনও সূর্যটা ঠিক মাথার ওপরে ছিল। স্ত্রী ফাল্গুনির জন্য অপেক্ষা করছিলেন দশরথ মাঝি। ফাল্গুনির আসতে দেরি হওয়ায় দশরথ চিন্তায় পড়ে যান, ‘দেরি হচ্ছে কেন?’ ওই তো কে যেন আসছে পাহাড় বেয়ে। না ফাল্গুনি নয়, আসেন একজন গ্রামবাসী। দশরথের আশঙ্কাই সত্য হয়েছে। খাবার নিয়ে আসার সময় পাহাড়ে পা পিছলে পড়ে গেছেন ফাল্গুনি। ফাল্গুনির রক্তাক্ত দেহ গ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। যত দ্রুত সম্ভব নিয়ে যেতে হবে ৭০ কিলোমিটার দূরের হাসপাতালে।
গরুর গাড়ি করে হাসপাতালে নেয়ার সময় দশরথের কোলে মারা যান ফাল্গুনি। এলোমেলো হয়ে যায় দশরথের জীবন। হারিয়ে যায় তার রুক্ষ জীবনের একমাত্র ভালবাসাটুকুও। সমস্ত রাগ ক্ষোভ গিয়ে পড়ে নিস্প্রাণ পাহাড়ের ওপর। ছাগল বেচে দিয়ে কিনলেন হাতুড়ি আর শাবল। প্রতিজ্ঞা করলেন, ‘পাহাড়কে আর কারো প্রাণ নিতে দেবো না।’ তিনি বানাবেন রাস্তা। যাতে এখানকার বাসিন্দারা তথাকথিত নিচু জাতের। সেকারণে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি সেখানে। দারিদ্র, অনাহার, বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুকে নিয়তি হিসেবেই মেনে নিয়েছিলেন গ্রামবাসী। নেই পানীয় জল, নেই বিদ্যুৎ, নেই স্কুল বা হাসপাতালও। সবচেয়ে কাছের হাসপাতালটির দূরত্বই প্রায় সত্তর কিলোমিটার। গরুর গাড়িতে করে মূমুর্ষু রোগীকে নিয়ে যেতে যেতে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে গ্রামবাসী ফিরে আসে রোগীর মৃতদেহ নিয়ে।

⭕দশরথ মাঝির বাড়ি

অবহেলিত গ্রামটির উদাহরণ দেয়ার মতো প্রেমিক জুটি ছিল দশরথ-ফাল্গুনি। বিয়ে করেন দু’জন, সন্তানও হয়। পুত্র ভগীরথ এবং ও কন্যা বাসন্তী। দিন মজুরের কাজ করেন দশরথ। উচ্চবর্ণদের ফসলা জমিতে কাজ করে ফিরে আসেন সন্ধ্যার মধ্যে। দুপুরে দশরথের খাবার ও জল পুঁটলিতে নিয়ে পাহাড় বেয়ে দিয়ে আসেন ফাল্গুনি। অনেক কষ্টে পৌঁছান দশরথের কাছে। কিন্তু একদিন এই পথই কাল হলো ফাল্গুনির। সেই থেকে পাগলপ্রায় দশরথ।

⭕দশরথের রাস্তা বানানো ও গ্রামবাসীর ঠাট্টা🥀

পাথর কাটা মেশিন নেই, হাতুড়ি আর শাবল দিয়ে বানাবে রাস্তা—এই বলে ঠাট্টা তামাশা করতে লাগলেন গ্রামবাসী। কিন্তু দশরথ তার প্রতিজ্ঞায় অটুট থাকেন। ১৯৬০ সাল, এক ভোরে সূর্য ওঠার আগে দশরথ নেমে পড়েন প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের অসম লড়াইয়ে। হাতুড়ির ঘায়ে পাহাড়ের পাথরে দশরথ মাঝির ক্ষোভের ফুলকি ঠিকরে ওঠে। হাতুড়ির প্রতিটি আঘাত যেন স্ত্রী ফাল্গুনির মৃত্যুর প্রতিশোধ।

গ্রামের লোকেরা খবর পেয়ে দেখতে আসেন ভিড় করে। দশরথ কোনো দিকে তাকান না, কারো কথা শোনেন না। দেহের সব শক্তি একত্রিত করে হাতুড়ির আঘাত হেনেই চলেন পাহাড়ের পাথরে। শরীর থেকে ঝরনার মত ঘাম গড়ায়। গলা শুকিয়ে কাঠ হয়। মুখে ওঠে ফেনা। হাত ফেটে বার হয় রক্ত। তবে থামেন না অক্লান্ত দশরথ। তার মাথায় একটিই চিন্তা, এর চেয়ে অনেক যন্ত্রণা পেয়েছিল তার ফাল্গুন!

⭕দশরথ মাঝির বানানো রাস্তা🥀

এভাবে কেটে গেল দশটি বছর। গ্রামের লোক অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে দেখেন, পাহাড়ের গায়ে এই দশ বছরে বড় একটা ফাটল বানিয়ে ফেলেছেন দশরথ। ফাটলটা ধীরে ধীরে বাড়ছে। রোদ ঝড় বৃষ্টিতে সবাই যখন ঘরের নিরাপদ আশ্রয়ে, দশরথ তখনো চালিয়ে যান হাতুড়ি। এভাবেই কেটে যায় ২২ বছর। ১৯৮২ সালে পাথরটি কাটা শেষ হবার পর দশরথ তীব্র আক্রোশে সেটি লাথি মেরে গড়িয়ে দেন ঢালু পথে। তারপর কান্নায় ভেঙে পড়েন। চোখের জলে ভিজে যায় গেহলৌরের আকাশ। আচমকাই মেঘ ভাঙা বৃষ্টি নামে।

খবর পেয়ে গ্রামের লোক ভিজতে ভিজতেই ছুটে আসেন। স্থানু হয়ে দেখেন, পাহাড়ের বুক চিরে শুয়ে আছে ৩৬০ ফুট লম্বা আর ৩০ ফুট চওড়া রাস্তা। গ্রামবাসীরা দশরথকে কাঁধে তুলে নেন, দশরথ কোনো কথা বলেন না। চোখ দিয়ে বইতে থাকে জলের ধারা। রাতে যখন আকাশে পূর্ণিমার চাঁদ ওঠে, দশরথ গিয়ে দাঁড়ান পাহাড়ের কোলে, সেই ছোট্ট ডোবাটির ধারে। যেখানে তার প্রিয়তমার চিতা দাউ দাউ করে জ্বলে উঠেছিল কোনো এক সন্ধ্যায়।

পরবর্তীতে বিহার সরকার দশরথ মাঝিকে সম্মান জানিয়ে ৫ একর জমি দেন। গ্রামের উন্নয়নই ছিল দশরথ মাঝির জীবনের একমাত্র স্বপ্ন। তাই সেই জমি তিনি দান করে দেন হাসপাতাল তৈরির জন্য। আজ সেখানে তারই নামে গড়ে উঠেছে হাসপাতাল। ২০০৬ সালে বিহার সরকার ‘পদ্মশ্রী’ পুরস্কারের জন্য দিল্লিতে পাঠান দশরথ মাঝির নাম। না, পদ্মশ্রী পাননি দশরথ, তার তোয়াক্কাও করেন নি। মানুষ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছাতে পারে।

⭕গেহলৌরের কথা🥀

ভারতের বিহার রাজ্যের গয়া জেলার মুহরা তহশিলের আতরি ব্লকে অবস্থিত প্রত্যন্ত গ্রাম গেহলৌর। গ্রামটিকে পাশের শহর থেকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে বড় এক পাহাড়, তার নামও গেহলৌর। পাহাড় ঘুরে ওয়াজিরগঞ্জ যেতে গ্রামবাসীকে পাড়ি দিতে হয় প্রায় ৫৫ কিলোমিটার পথ। গ্রামের উন্নয়নের পথেও একদিন প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল গেহলৌর পাহাড়।এখানকার বাসিন্দারা তথাকথিত নিচু জাতের। সেকারণে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি সেখানে। দারিদ্র, অনাহার, বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুকে নিয়তি হিসেবেই মেনে নিয়েছিলেন গ্রামবাসী। নেই পানীয় জল, নেই বিদ্যুৎ, নেই স্কুল বা হাসপাতালও। সবচেয়ে কাছের হাসপাতালটির দূরত্বই প্রায় সত্তর কিলোমিটার। গরুর গাড়িতে করে মূমুর্ষু রোগীকে নিয়ে যেতে যেতে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে গ্রামবাসী ফিরে আসে রোগীর মৃতদেহ নিয়ে।

⭕দশরথ মাঝির বাড়ী🥀

অবহেলিত গ্রামটির উদাহরণ দেয়ার মতো প্রেমিক জুটি ছিল দশরথ-ফাল্গুনি। বিয়ে করেন দু’জন, সন্তানও হয়। পুত্র ভগীরথ এবং ও কন্যা বাসন্তী। দিন মজুরের কাজ করেন দশরথ। উচ্চবর্ণদের ফসলা জমিতে কাজ করে ফিরে আসেন সন্ধ্যার মধ্যে। দুপুরে দশরথের খাবার ও জল পুঁটলিতে নিয়ে পাহাড় বেয়ে দিয়ে আসেন ফাল্গুনি। অনেক কষ্টে পৌঁছান দশরথের কাছে। কিন্তু একদিন এই পথই কাল হলো ফাল্গুনির। সেই থেকে পাগলপ্রায় দশরথ।

⭕দশরথের রাস্তা বানানো ও গ্রামবাসীর ঠাট্টা🥀

পাথর কাটা মেশিন নেই, হাতুড়ি আর শাবল দিয়ে বানাবে রাস্তা—এই বলে ঠাট্টা তামাশা করতে লাগলেন গ্রামবাসী। কিন্তু দশরথ তার প্রতিজ্ঞায় অটুট থাকেন। ১৯৬০ সাল, এক ভোরে সূর্য ওঠার আগে দশরথ নেমে পড়েন প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের অসম লড়াইয়ে। হাতুড়ির ঘায়ে পাহাড়ের পাথরে দশরথ মাঝির ক্ষোভের ফুলকি ঠিকরে ওঠে। হাতুড়ির প্রতিটি আঘাত যেন স্ত্রী ফাল্গুনির মৃত্যুর প্রতিশোধ।

গ্রামের লোকেরা খবর পেয়ে দেখতে আসেন ভিড় করে। দশরথ কোনো দিকে তাকান না, কারো কথা শোনেন না। দেহের সব শক্তি একত্রিত করে হাতুড়ির আঘাত হেনেই চলেন পাহাড়ের পাথরে। শরীর থেকে ঝরনার মত ঘাম গড়ায়। গলা শুকিয়ে কাঠ হয়। মুখে ওঠে ফেনা। হাত ফেটে বার হয় রক্ত। তবে থামেন না অক্লান্ত দশরথ। তার মাথায় একটিই চিন্তা, এর চেয়ে অনেক যন্ত্রণা পেয়েছিল তার ফাল্গুন!

⭕দশরথ মাঝির বানানো রাস্তা🥀

এভাবে কেটে গেল দশটি বছর। গ্রামের লোক অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে দেখেন, পাহাড়ের গায়ে এই দশ বছরে বড় একটা ফাটল বানিয়ে ফেলেছেন দশরথ। ফাটলটা ধীরে ধীরে বাড়ছে। রোদ ঝড় বৃষ্টিতে সবাই যখন ঘরের নিরাপদ আশ্রয়ে, দশরথ তখনো চালিয়ে যান হাতুড়ি। এভাবেই কেটে যায় ২২ বছর। ১৯৮২ সালে পাথরটি কাটা শেষ হবার পর দশরথ তীব্র আক্রোশে সেটি লাথি মেরে গড়িয়ে দেন ঢালু পথে। তারপর কান্নায় ভেঙে পড়েন। চোখের জলে ভিজে যায় গেহলৌরের আকাশ। আচমকাই মেঘ ভাঙা বৃষ্টি নামে।

খবর পেয়ে গ্রামের লোক ভিজতে ভিজতেই ছুটে আসেন। স্থানু হয়ে দেখেন, পাহাড়ের বুক চিরে শুয়ে আছে ৩৬০ ফুট লম্বা আর ৩০ ফুট চওড়া রাস্তা। গ্রামবাসীরা দশরথকে কাঁধে তুলে নেন, দশরথ কোনো কথা বলেন না। চোখ দিয়ে বইতে থাকে জলের ধারা। রাতে যখন আকাশে পূর্ণিমার চাঁদ ওঠে, দশরথ গিয়ে দাঁড়ান পাহাড়ের কোলে, সেই ছোট্ট ডোবাটির ধারে। যেখানে তার প্রিয়তমার চিতা দাউ দাউ করে জ্বলে উঠেছিল কোনো এক সন্ধ্যায়।

পরবর্তীতে বিহার সরকার দশরথ মাঝিকে সম্মান জানিয়ে ৫ একর জমি দেন। গ্রামের উন্নয়নই ছিল দশরথ মাঝির জীবনের একমাত্র স্বপ্ন। তাই সেই জমি তিনি দান করে দেন হাসপাতাল তৈরির জন্য। আজ সেখানে তারই নামে গড়ে উঠেছে হাসপাতাল। ২০০৬ সালে বিহার সরকার ‘পদ্মশ্রী’ পুরস্কারের জন্য দিল্লিতে পাঠান দশরথ মাঝির নাম। না, পদ্মশ্রী পাননি দশরথ, তার তোয়াক্কাও করেন নি।🌷🌷🌷🌹🌹🥀

Saturday, 15 February 2020

স্বামীর জন্য দুনিয়ার সর্বোত্তম সম্পদ হল ‘নেককার স্ত্রী’

দুনিয়ার সর্বোত্তম সম্পদ- রাসূল সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, তোমরা নারীদের প্রতি কল্যাণকামী হও। তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি উত্তম, যে তার স্ত্রীর নিকট উত্তম, আমি আমার স্ত্রীদের নিকট উত্তম।
বর্তমানে সমাজে নারীপ্রতি করা হচ্ছে নি’র্ম’ম, নির্দয় নি’র্যা’ত’ন। এমন কোনো নি’র্যা’ত’ন নাই যাই করা হয় না। অথচ পৃথিবীতে একজন পুরুষ মানুষের জন্য সর্বোত্তম সম্পদ হচ্ছে নেককার স্ত্রী।
সুতরাং দাম্পত্য জীবনে এ নারী যদি পুত-পবিত্র সচ্চরিত্রা হয়, তাহলে জীবন স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়। সমস্যা সংকুল জীবনেও শান্তির ফল্গুধারা বয়ে যায়। যে শান্তি নারী-পুরুষের বৈবাহিক জীবনের মাধ্যমে শুরু হয়। বিবাহিত জীবনে নেককার স্ত্রীর গুরুত্ব অত্যধিক। তাই ইসলাম স্ত্রীকে দিয়েছে সর্বোত্তম মর্যাদা। বৈবাহিক জীবনে নারী অধিকার সম্পর্কে কুরআন হাদিসের বক্তব্য তুলে ধরা হলো-
নারীর বিয়ে-
ইসলাম পূর্ব যুগে বৈবাহিক সম্পর্ক ছাড়াই মহিলাদেরকে পুরুষের মালিকানাধীন মনে করা হতো এবং একজন পুরুষ যত খুশী বিয়ে করতে পারত। ইসলাম নারীদের জন্য বিবাহকে বৈধ এবং আবশ্যক করেছেন। এ বিবাহের মাধ্যমে একজন নারীকে একটি সম্মানজনক আসনে সমাসীন করা হয়।
আল্লাহ বলেন, ‘আর তোমাদের মধ্যকার পুরুষ আর মহিলাদের মধ্য থেকে তাদের বিয়ে দিয়ে দাও যারা দাম্পত্য ছাড়া জীবন অতিবাহিত করে।’ (সুরা নূর)
নারীর মোহর-
মোহরকে নারীর ইজ্জতের গ্যারান্টি করা হয়েছে। ইসলাম পূর্ব যুগে নারীরা তাদের বিয়ের দেন মোহরের মালিকানা পেত না। ইসলাম নারীর মর্যাদা রক্ষায় মোহরের বিধান প্রবর্তন করে তা স্বামীর উপর ফরজ সাব্যস্থ করেছেন। তাদেরকে শিক্ষা দিয়েছেন যে, যদি মোহর রূপে অঢেল সম্পদও দেয়া হয় তা ফেরত নেয়া যাবে না। কেননা মোহর বিবাহের শর্ত হওয়ায় সেগুলো মহিলার মালিকানাধীন হয়ে যায়।
আল্লাহ বলেন, আর তোমরা স্ত্রীদেরকে তাদের মোহর দিয়ে দাও খুশি মনে। তারা যদি খুশি হয়ে তা থেকে (কিছু) অংশ ছেড়ে দেয়, তবে তা তোমরা স্বাচ্ছন্দ্যে ভোগ কর। (সুরা নিসা : আয়াত ৪)
স্ত্রী হিসেবে নারী-
মোহর নির্ধারণের মাধ্যমে নারী-পুরুষ পরস্পর ইজাব-কবুল করে একজন পুরুষ একজন নারীকে স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করে। স্ত্রী হিসেবে নারীকে এক স্বকীয় মর্যাদায় অধিষ্টিত করেছে ইসলাম। তাই স্বামীকে স্ত্রীর সাথে সদ্ব্যবহারের নির্দেশ দিয়ে আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা সদাচরণের ভিত্তিতে তোমাদের স্ত্রীদের সাথে জীবন-যাপন কর।’ (সুরা নিসা)
সংসার জীবন সুখের লক্ষ্যে আল্লাহ তাআলা অন্যত্র বলেন, ‘তোমরা তোমাদের স্ত্রীদের আবরণ স্বরূপ এবং তোমরাও তাদের জন্য আবরণ স্বরূপ।’ (সুরা বাকারা)
স্বামীর প্রতি স্ত্রীর অধিকার সম্পর্কে আল্লাহ বলেন, ‘মহিলাদের পুরুষদের উপর যেরূপ অধিকার আছে তেমনি পুরুষদেরও মহিলাদের উপর অধিকার রয়েছে।’ (সুরা বাক্বারা)
নেককার স্ত্রীকে দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ সম্পদ বলা হয়,এখন বদকার কোনো মহিলাকে কি সম্পদ বলা যেতে পারে? কাজেই শ্রেষ্ঠ সম্পদ হতে হলে সেরূপ বৈশিষ্ট্যও তো থাকা চাই।

ঈমানের পর সর্বোচ্চ নিয়ামত হচ্ছে সচ্চরিত্র স্বামীকে মুহব্বতকারিনী, চরিত্রবতী ও সন্তানবতী স্ত্রী সুবহানাল্লাহ। এরূপ মহিয়সী নারীকে হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালাম উনার রাজত্ব অপেক্ষা উত্তম বলা হয়েছে।
আর কুফরীর পর সর্বাপেক্ষা নিকৃষ্ট বস্তু হচ্ছে কর্কশভাষীনী ও অসচ্চরিত্রা স্ত্রী। নাঊযুবিল্লাহ! কাজেই প্রত্যেক স্ত্রীরই স্বামীকে মুহব্বত করত সচ্চরিত্রের অধিকারী হওয়ার চেষ্টা করতে হবে, তবেই সে তার স্বামীর জন্য শ্রেষ্ঠ সম্পদ হিসেবে পরিগণিত হবে।
আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে স্ত্রী প্রতি যথাযথ দায়িত্ব পালনসহ নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় ইসলামী অনুশাসন মেনে চলার তাওফিক দান করুন। আমিন।

যে ৪ টি আমল করলে নারীর জন্য জান্নাত- বিখ্যাত হাদিস গ্রন্থ বুখারি ও মুসলিমের দীর্ঘ একটি হাদিসে এসেছে, হজরত আবু সাঈদ খুদরি রাদিয়াল্লাহ আনহু বর্ণনা করেন যে, একবার ঈদুল ফিতরের দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদগাহে গিয়ে উপস্থিত নারীদেরকে লক্ষ্য করে বললেন, ‘হে নারী সম্প্রদায়! দান খয়রাত কর; কেননা আমাকে জানানো হয়েছে যে, দোজখের অধিকাংশ অধিবাসি তোমাদের নারী সম্প্রদায়েরই হবে।
অন্য এক হাদিসে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘোষণা করেন, ‘যে নারী-


১- পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়বে

২- রমজানের রোজা রাখবে

৩- স্বীয় গুপ্তস্থানের হেফাজত করবে ( পর্দা রক্ষা করে এবং ব্য’ভি’চা’র থেকে বিরত থেকে)

৪- স্বামীর আনুগত্য করবে।

এমন নারীদের জন্য জান্নাতের আটটি দরজা খুলে দেয়া হবে। যে দরজা দিয়ে ইচ্ছা সে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে। (তিরমিজি ও তাবরানি)
প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এ হাদিসের আলোকে কোনো নারী যদি তার ওপর অর্পিত উল্লেখিত ৪টি কাজ যথাযথভাবে পালন করে; ওই নারীর জন্য জান্নাতের ৮টি দরজাই খোলা থাকবে। কারণ উল্লেখিত কাজগুলোর দ্বারা আল্লাহ তায়ালা কর্তৃক নির্ধারিত নারীর জন্য সব বিধানই পালন করা হয়ে যাবে।
মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তায়ালা মুসলিম উম্মাহ সব নারীদেরকে উল্লেখিত হাদিসের আলোকে নামাজ, রোজা, চরিত্র ও স্বামীর আনুগত্য করার তাওফিক দান করুন। জান্নাতের সব ক’টি দরজাই তাদের জন্য সুনিশ্চিত থাকুক। আল্লাহুম্মা আমিন।

Friday, 14 February 2020

💥অনুপ্রেরণার-গল্প


একটি গাছে অনেক পাতা থাকে। অসংখ্য সবুজ পাতা গাছের সৌন্দর্য বাড়িয়ে তোলে। সেই সৌন্দর্য দেখে সবাই মুগ্ধ হয়। তবে অসংখ্য সবুজ পাতার মাঝে অনেক পাতাই মাঝে মাঝে শুকিয়ে যায়। একসময় সেই শুকনো পাতাগুলো গাছ থেকে ঝরে মাটিতে পড়ে যায়। তখন সেই ঝরা পাতাকে কেউ আর মূল্য দেয় না।

মানুষের জীবনও একটা গাছের মতো। এই গাছেও সবুজ পাতার মতো সৌন্দর্য থাকে, সেই সৌন্দর্য হলো অসংখ্য সাফল্যের পালক। মানুষের জীবন যখন সাফল্যের পালক দিয়ে ঢাকা থাকে, তখন তাকে সবাই সবুজ পাতার মতো ভাবে। আর যখন সাফল্যের পালক জীবন থেকে একটা একটা করে ছিঁড়ে যায়, তখন সেই মানুষটিকে সবাই ঝরা পাতার মতো মনে করে। তার জীবনে যেন আর কোনো মূল্য নেই!

সত্যিই কি ব্যর্থ হওয়া মানুষগুলোর জীবন গাছের ঝরা পাতার মতোই মূল্যহীন?

বনের ঝরা পাতাও কিন্তু অন্যের উপকার করে। বনের হিংস্র বাঘ যখন নিরীহ হরিণ শিকারের জন্য তীব্র বেগে ধেয়ে আসে, তখন শুকনো পাতাগুলো বাঘের পায়ের নিচে পড়ে মড়মড় আওয়াজ করে। সেই আওয়াজ শুনেই হরিণেরা বুঝতে পারে বিপদ আসন্ন। এভাবেই শুকনো পাতারা নিরীহ হরিণকে বিপদ থেকে মুক্ত করতে সাহায্য করে।

আমরা যারা তরুণ মাঝি, তারা জীবনের অনেক ক্ষেত্রেই ব্যর্থ হই। তাই বলে কি সবসময় বিষন্ন হয়ে বসে থেকে হাল ছেড়ে দেব? হতাশাগ্রস্ত হয়ে নিজের জীবনকে তিলে তিলে শেষ করে দেব?
গাছের ঝরা পাতাগুলোর দেহে প্রাণ থাকে না, তবুও তারা অন্যের উপকারে আসে। আমাদের দেহে তো প্রাণ আছে, তবে আমরা কেন পারব না?

জীবনে চলার পথে কষ্ট আসবেই। অর্থকষ্ট, স্বপ্ন ভেঙ্গে যাবার কষ্টসহ নানান ডিজাইনের কষ্ট। তারপরও কষ্টের নদী পাড়ি দিতে হবে। কখনো যদি খুব বেশি হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েন, তবে মাঝে মাঝে গাছের ঝরা পাতাগুলোর কাছে যাবেন। দেখবেন তারা আপনাকে সাহস দিয়ে বলবে, “তোমার জীবনে কিছুই হারিয়ে যায়নি। তোমার দেহে তো এখনো প্রাণ আছে। জেগে ওঠো! জ্বলে ওঠো হে তরুণ!”🤔✌

সফলতা আসলে কী?

তুমি যেটা করতে চাও সেটা করতে পারাটাই সফলতা।

ধরো একজনের রিক্সাচালক যদি তার দুই বছরের বয়সী বাচ্চা আর অসুস্থ স্ত্রীর মুখে খাবার তুলে দিতে চায়। এবং তিনি যদি সেটা করতে পারেন তাহলেই তিনি সফল।

আবার তুমি যদি আজকে সকালের ৮.০০ টার ক্লাস কোন রকমে ৮.০৫ গিয়ে এটেন্ডেন্স পেতে পারো। তাহলে তুমিও সফল। এইরকম খুচরা-খাচরা অনেক ছোটখাটো সফলতা প্রতিদিন-ই আমাদের লাইফে আসে। কিন্তু এই সফলতাগুলো শুধু তুমি-ই জানো। বাইরের মানুষ এগুলা জানে না। তাই এইগুলাকে আমি বলি- ইন্টারনাল সাকসেস।

.
.

তবে বেশিরভাগ মানুষ সফলতা বলতে যেটা বুঝায় সেটা হচ্ছে বাহ্যিক সফলতা বা এক্সটার্নাল সাকসেস। যেটার খবর অন্য মানুষরা জানে। সেটা নিয়ে অন্যরা বাহবা দেয়। তাই আমরাও সেটার পিছনে ছুটি। এই সব এক্সটার্নাল সাকসেস এর তিনটা পিলার আছে। 

১. কনসিস্টেন্সি বা ধারাবাহিকতা
এক্সটার্নাল সাকসেস পেতে হলে যে কাজটাতে তুমি ভালো সেটা দীর্ঘদিন ধরে ভালোভাবে চালিয়ে যেতে হবে। যেমন ধরো, সাকিব আল হাসান সফল। কারণ সে ক্রিকেটে ভালো পারফর্ম করার কাজটা ধারাবাহিকভাবে বহুদিন ধরে রাখতে পারছে। হুমায়ূন আহমেদ সফল। কারণ উনি দীর্ঘদিন ধরে বই লেখার জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে পেরেছেন। এই একই কারণে আফতাব নামক ক্রিকেটার সফল নন। কারণ সে ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেনি। 
.
২. গ্রোথ বা এগুতে থাকা
কেউ যদি একই লেভেলে পড়ে থাকে। তাহলে বাইরের মানুষ তাকে সফল মনে করবে না। বরং সফল হতে হলে সে আজকে যেই লেভেলে আছে তার চাইতে আগামীকাল আরেকটু বেশি আউটপুট দেখাতে হবে। বা আরেকটু বেশি রান করতে হবে। বা আরেকটু বেশি জনপ্রিয় হতে হবে। 
.
৩. রিকগনিশন বা প্রচার লাগবে
সফল হওয়ার আরেকটা দিক হচ্ছে-- প্রচার পাওয়া। কেউ বিশাল কিছু করে ফেললো। লাইফ বিসর্জন দিলো। কিন্তু নিউজ পেলো না। ভাইরাল হলো না। তার খবর কেউ জানলো না। তাহলে সমাজের চোখে সে সফল হবে না। 
.
.
তবে এইসব এক্সটার্নাল সফলতা তোমাকে মানুষিক শান্তি দিতে পারবে কিনা সেই গ্যারান্টি নাই। কারণ সফল হলেই যে সুখী হবে তার কোন গ্যারান্টি নাই। বরং সুখী হওয়ার জন্য নিজের চিন্তাভাবনার এঙ্গেল ঠিক করতে হয়। 

কারণ সফলতা জিনিসটা তুলনামূলক। এই যেমন ধরো, আমরা কয়েকজন ফ্রেন্ড মিলে পাইথন শেখার জন্য Programming Hero নামের একটা এন্ড্রয়েড এপ বানিয়ে ফেলছি। এক বছরে ২৫০,০০০ ডাউনলোড পেয়েছি। আমরা পিজ্জা খেয়ে সবাই সেলিব্রেট করেছি। ভাবছি এই বিষয়ে আমরা হেব্বি সফল। এই মুহূর্তে এপ স্টোরের আরো এক মিলিয়ন এর বেশি এপস আছে যাদের ডাউনলোড ১০০,০০০ পৌঁছেনি। তাদের তুলনায় আমরা অনেক বেশি সফল। 

অথচ এই তুলনাটাই যদি আমরা--ফেইসবুক, মেসেঞ্জার, টুইটার, পাঠাও, জিপি এপ এর ডাউনলোড এর সংখ্যার সাথে তুলনা করতে যাই। তাহলে আমাদের খুঁজেই পাওয়া যাবে না। মন খারাপ করে বসে থাকা ছাড়া আর কিছুই করতে পারবো না। 

সো, শেষ কথা হচ্ছে--তোমার সফলতার, তোমার সুখের মানদন্ড হচ্ছ তুমি। তুমি-ই ঠিক করবে কোনটাতে সফল আর কোনটাতে না। নতুন ছোট একটা কিছু করতে পারলে সেটাকে এনজয় করো। তোমার ছোট খাটো ইন্টারনাল সাকসেসগুলোকে মূল্যায়ন করো।এক্সটারনাল সাকসেস এর গুষ্টি মারো। ইন্টারনাল সাকসেসগুলোকে উপভোগ করার চেষ্টা করো। অন্যদের সাথে তুলনা করা কমিয়ে দাও। দেখবে-- লাইফ অটো সফল হয়ে গেছে।

📝🖋.........Zawadul Faruq



💙❤️টাকাও ভালোবাসা

যখন মাধ্যমিক স্কুলে ছিলাম তখন এই সারাংশটা যে কতবার পড়েছি । দেখেন তো আপনারা পড়েছেন
কিনা?
মুখে অনেকেই টাকাকে তুচ্ছ, অনর্থের মূল বলেন থাকেন , কিন্তু জগত এমন এক ভয়ানক স্থান যে টাকা না থাকলে তাহার স্থান কোথাও নাই । সমাজে নাই, স্বজাতির নিকটে নাই, ভ্রাতা-ভগ্নির নিকটে নাই, স্ত্রীর নিকটে নাই । স্ত্রীর ন্যায় ভালবাসে , এমন বলতে জগতে আর কে আছে? টাকা না থাকলে অমন অকৃত্রিম ভালবাসাও নাই ।এমনকি প্রেমিকার ভালোবাসা পাওয়ার জন্য টাকা দরকার। কারো নিকট সম্মান নাই । টাকা না থাকলে রাজায় চিনেনা, সাধারনে মান্য করেনা, বিপদে জ্ঞান থাকেনা । জন্ম মাত্রই টাকা, জীবনে টাকা, জীবনান্তে টাকা, জগতে টাকারই খেলা ।

উপরের সারাংশটা পরে আমাদের মাঝে অনেকই টাকাকে দ্বিতীয় ঈশ্বরের আসনে বসাতে কার্পণ্য করেনা । জীবনে টাকা উপার্জনই তাদের ধ্যানজ্ঞান হয়ে দাড়ায় । টাকা কামাইয়ের বাইরে তারা কিছু বুঝতে চায়না । যেখানে টাকা নেই, সেখানে তার ছায়াও নেই । যদি থাকেও তবে তার মন থাকে টাকার কাছে আর তার দেহটা ওখানে অস্থিরভাবে ছুটোছুটি করে মাত্র । অনেকরই এই মোহ আজীবন থেকে যায় , কারো বা কালবেলায় এসে মোহভঙ্গ হয় ।

স্ত্রীর ভালবাসা লাভের জন্য টাকা কামাইতে গিয়ে শেষে স্ত্রীকেই হারায় । সন্তানকে মানুষ করতে গিয়ে অমানুষ বানিয়ে ফেলে । মা বাবাকে সুখ দিতে গিয়ে জীবনটাকে যান্ত্রিক করে ফেলে । পরিবারকে সময় না দিয়ে টাকায় ভরিয়ে রাখে । ফলে যা ঘটার তাই ঘটে । টাকার পাখায় ভর করে অন্ধকার জগতে হানা দেয় । স্নেহ-ভালবাসার কাঙ্গালকে টাকা দিয়ে পুরনের চেষ্টা যেন দুধের সাধ ঘোল দিয়ে মেটানোর মতই অনর্থক সান্ত্বনা ।

হুম, আপনাদেরকে বলছি, টাকা জীবনের প্রয়োজনীয় অংশ কিন্তু পুরো জীবনটাই নয় । টাকার পিঠে চড়ে এর কান ধরে নিজের প্রয়োজন মিটিয়ে নিন , কখনই টাকাকে নিজের কান ধরতে দিবেন না । জানেন তো, মন থেকে লেখা কলমে আসে, কলম থেকে লেখা মনে নয় ।🤔🤔

📝🖋........জাওয়াদুল ফারুক


সময়

যে মানুষটা আপনার জন্য পাগল,
হুট করে একদিন তার সব পাগলামো থেমে যাবে।
আপনাকে ছাড়া এক মূহুর্ত থাকতে না পারা মানুষটা, আপনি চলে গেলেই টুপ করে মরে যাবে না ;

একদিন ঠিক সেও একলা থাকা শিখে নিবে !
পৃথিবীর মানুষগুলো হঠাত বদলায়, সাথে
বদলে যায় কিছু অনুভুতি।

আজ যে মানুষটাকে আপনি সস্তা ভেবে অবহেলা করছেন, একের পর এক ভালোবাসার প্রতিশ্রুতিগুলো ভেঙে দিয়ে মুখ লুকিয়ে হাসছেন !

আপনার প্রতিটা যন্ত্রনা যাকে ঘুমোতে দেয় না, সেই মানুষটা একদিন আপনাকে ভুলে যাবে।
খুব নিষ্ঠুরভাবে ভুলে যাবে।

সেদিন আপনি টের পাবেন "একাকিত্ব" মানুষকে ঠিক কতটা অসহায় করে দিতে পারে।
আপনার জানা দরকার একটা মানুষকে ঠিক কতটুকু "প্রায়োরিটি" দিয়ে ভালোবাসলে সে কখনোই আপনাকে ছেড়ে যাবে না।

ঠিক তেমনি মানুষটা আপনার থেকে কি পরিমান অবহেলা পেলে দূরে সরে যাবে না হিসেবটাও ঠিক বোঝা দরকার !
সবকিছুতে একটা ব্যালেন্স রাখুন।

যেখানে যতটুকু দরকার, ঠিক ততটুকুই দিন।
অবহেলা করতে করতে কোনো মানুষকে একদম অনুভুতিহীন পাথর বানিয়ে দিবেন না কখনো, মনে রাখবেন পাথর কিন্তুু কখনোই মানুষের মত আচরন করে না।

আজ মানুষটা আপনার সাথে আছে বলে অবহেলা করে দূরে সরিয়ে দিতে চাইছেন !?

ট্রাস্ট মি,
একদিন এই মানুষটাকে পাওয়ার জন্যই আপনি কাঁদবেন !
পৃথিবীর সবকিছু বেঈমানী করলেও সময় কখনো বেঈমানি করে না।
সময় একদিন আপনাকেও ঠিক বুঝিয়ে দিবে আপনি কাকে খুঁজতে গিয়ে কাকে হারিয়ে ফেলেছেন।

___সংগৃহীত



ইসলামিক গল্প🥀

এক বিবাহিত যুবক, কঠিন রোগে মৃত্যু শয্যায় স্ত্রীকে ডাকলেন। তার চোখ দিয়ে অনুশোচনার অশ্রু ঝরছে।
যুবকের স্ত্রী গর্ভবতী ছিলেন এবং এটিই তাদের প্রথম সন্তান।
সে স্ত্রীকে বললো:- দেখো আমি সারা জীবনেও নামাজ-রোজা কিছুই করিনি!
- আজ মৃত্যুর সময় আমার ভূল ভেঙ্গে গেছে, কিন্তু আমি নিরুপায় আমার আর কিছু করার সুযোগ সময় নেই।
- যদি তোমার গর্ভের সন্তান বেঁচে থাকে, তাহলে থাকে মাদ্রাসায় ভর্তি করিয়ে দিও।
#শুনেছি সন্তানের উছিলায় ও নাকি মা-বাবা জান্নাতে যেতে পারে।
- স্ত্রী তাকে সান্তনা দিয়ে বললো, তোমার কথাই রাখবো!!
-দু'দিন পর যুবক মারা গেলো।
- এর কতোদিন পর সেই স্ত্রীর একটি পুত্র সন্তান জন্ম নিলো। অনেক কষ্টের মধ্য দিয়ে যখন ছেলেটির ছয় বছর পূর্ণ হলো তখন তার মা তাকে মাদ্রাসায় ভর্তি করিয়ে দিলো।
- প্রথম দিন মাদ্রাসার শিক্ষক থাকে একটি আয়াত শেখালেন।
#_আয়াতটি_হলোঃ "বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম"
(পরুম করুণাময় আল্লাহ তা'আলার নামে শুরু করছি)
মাদ্রাসা থেকে বাড়ি ফেরার পর ছেলেকে নিয়ে মা তার স্বামীর কবর জিয়ারতে গেলেন।
- ছেলেকে কবরের কাছে পাঠিয়ে দিয়ে মা বললো, ঐ তোমার বাবার কবর। ওখানে গিয়ে তোমার বাবার জন্য 'আল্লাহর দরবারে দোআ করবে।
( মাদ্রাসায় পড়া শিশুরা প্রায় সব সময় তাদের শিখিয়ে দেওয়া আমল বা কালাম এমনি এমনি পড়তে থাকে)
- এতো ছোট্ট শিশু কিভাবে দোআ করতে হয়, কিছুই জানে না।
কিন্তু মাদ্রাসায় শেখানো প্রথম আয়াত ছোট্ট শিশুটি বাবার কবরের পাশে বসে বার বার পাঠ করতে থাকলো।
- ওই ছোট্ট মুখের তেলাওয়াতে এমন শক্তি, যে আল্লাহর দরবারে বিনা বাধায় পৌছে গেলো।
- মালিকের রহমতের দরিয়ায় বাঁধভাঙা জোয়ারের ডাক এসে গেলো।
#মহান_আল্লাহ_তায়ালাঃ আজাবের ফেরেস্তাদের বলেন :
এই মুহূর্তে ওই কবরবাসীর কবরের আজাব বন্ধ করে দাও।
#ফেরেস্তারা বললো : হে দয়াময় পরওয়ারদিগার এই লোকটির আমল নামায় এমন কি পুন্য পাওয়া গেলো?
যে তার জন্য নির্ধারিত কঠিন কবরের আজাব ক্ষমা করে দেওয়া হলো?
#ফেরেস্তারা শুনো :
কবরের উপরে একটি অবুঝ শিশু বার বার তেলাওয়াত করছে "বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম"
- তেলাওয়াতকারী এই কবরবাসীর ওয়ারিশ, তার অবুঝ সন্তান।
#সে সাক্ষী দিচ্ছে : "আল্লাহ রাহমানীর রাহীম, আল্লাহ পরম দয়ালু!
- আমি যদি কবরবাসীকে ক্ষমা না করি,
তাহলে আমি কেমন দয়ালু?- (সুবহান'আল্লাহ)
#আল্লাহ আমাদের বোঝার ও আমল করার তৌফিক দান করুন


💚অভাব ও সংসার

অভাবের সংসারগুলোতে সাতাশ আটাশ বছরের মেয়েদের বোঝানো হয় যে তাদের এখনো বিয়ের বয়স হয়নি।
আর ছেলেদের ক্ষেত্রে ত্রিশের নিচে বিয়ের কথা মুখেও আনা যায় না। ছেলেদের সেই ছোট থেকে সংসারের হাল ধরা শিখে নিতে হয়।

অভাবের সংসারে মায়েদের ক্ষুধা কম লাগে। তারা না খেয়ে বলে খেয়েছি। আবার কখনো কখনো পেটে ক্ষুধা রেখেও মিথ্যে বলে, " আমার ক্ষুধা নেই "!
আর এই সংসারে বাবারা ক্লান্ত হয়না। যদিও শরীরটা ঔষুধের ভরসায় চলে তবুও দুপুরের ভাত ফুরালে রাতের ভাতের জোগাড়ে বেরিয়ে পড়তে হয় ।
তাদের সংসারে পড়ালেখার কথা বলা হয়না। তবুও কেউ আছে পিদিম কিংবা মোমাবাতির আলো শেষ হওয়ার আগেই পড়া শেষ করে ফেলে।
ঈদ আসলে তাদের মুখে কোনো নতুন করে আনন্দের ছাপ দেখা যায় না । প্রতিটা আনন্দ মূহুর্ত গুলো তাদের জন্য স্বাভাবিক চ্যালেঞ্জিং ডে এর মতো। খেয়েদেয়ে বাঁচতে পারলে হয়।

অনেক অভাবের সংসার দেখেছি যেখানে মায়েরা তাদের ছোটখাটো রোগ, ব্যাথার কথা মুখ ফুটে বলেনা। দাঁতে দাঁত চেপে আটকে রাখে। নিজের ঔষুধ খরচ দিতে গিয়ে আবার যেনো ছেলেমেয়ের একবেলার ভাত পেটে না জুটে।

এসব সংসারের মায়েদের শরীরে মাসের পর মাস একটা শাড়ি ই দেখা যায়। আর বাবার শার্টে তো জায়গায় জায়গায় সুঁই সূতা দিয়ে সেলাই করা।
তাদের ছেলেমেয়েদের তো স্কুল ব্যাগের পরিবর্তে আমাদের রাস্তাতে ফেলে দেয়া প্লাস্টিক ব্যাগ ইউজ করতে দেখেছি।
বছরের একটা সময়ও তারা ভালো কোন তরকারির সন্ধান পায় না।
কখনো কখনো পাশের বাড়ির দুএকদিনের রেখে দেয়া তরকারি পেয়ে তারা মহাখুশি।

অভাবের সংসারের ছেলেমেয়েরা চাইলে এটা ওটা বায়না করতে পারেনা। তাদের শখ মেটানোর সময় নেই। তাদেরকে জীবনযুদ্ধে কিভাবে টিকে থাকতে হবে তা শিখানো হয়।
এই সংসারের ছেলেমেয়েরা রিয়েলিটিতে স্বপ্ন দেখেনা ঘুমের ঘোরে যা দেখে তাতেই সন্তুষ্ট।
এরা বেশ ভালো করে বুঝে পৃথিবীটাকে!
বুঝে টাকার অভাব মানুষকে কেমন পরিস্থিতি দেখায়। ব্যাপারটা এমন,
যদি পকেট থাকে খালি,,
মানুষ জানতেও চায় না তুমি কোন বাগানের মালী!


জীবন কী?

জীবনটা কচুরিপানার মতো ভাসমান। স্বার্থের টানে ভাসতে থাকে।

বাণী

নরম কাঁদা একবার পুড়ে যদি ইট হয়ে যায়, তারপর যতই পানি ঢালা হোক না কেন, তা আর গলে না |বরং ভারি ও শক্তিশালী হয়|মানুষের মনও ঠিক এ রকম, একবার কষ্ট পেলে এরপর শত
আবেগেও তার কোন পরিবর্তন হয় না |

______টার্মস টমাস


❤️ব্যর্থতাই নিয়ে আসে সফলতা।

শচীন টেন্ডুলকার জীবনে যতবার আউট হয়েছেন আপনি হয়তো ততবার ক্রিকেট খেলাও খেলেননি। কিন্তু দিনশেষে আজকে শচীনকে পুরো বিশ্ব ক্রিকেট নক্ষত্র হিসেবেই জানে।

মার্ক জুকারবার্গকে যখন তার গার্লফ্রেন্ড সকল সোশ্যাল সাইট থেকে ব্লক করে দেয়, তখন সে জেদ করে পৃথিবীর সবচেয়ে জনপ্রিয় সোশ্যাল সাইট ফেসবুক তৈরি করে, যার মাধ্যমে সে ওয়ার্ল্ডের টপ ফাইভ রিচম্যানদের একজন। আর আপনি হলে কী করতেন? শেভ করা ছেড়ে দিয়ে, সিগারেট টানতেন আর বলতেন- বেঁচে থেকে কী লাভ!
টমাস আলভা এডিসন একটা বৈদ্যুতিক বাতি আবিষ্কার করতে গিয়ে যতবার ব্যর্থ হয়েছেন এই পৃথীবীর ইতিহাসে তত বছর কেউ বাঁচেওনি। ৯৯৯ বার ব্যর্থ হয়েছেন তিনি। আর আপনি? সাকসেস হওয়ার আগে নিজেকে প্রশ্ন করুন কতবার চেষ্টাটা করতে পারবেন?
সাইকেল গ্যারেজে কাজ করা রাইট ভ্রাতৃদ্বয় যতবার প্ল্যান করে বিমান উড়াতে চেষ্টা করে করে ব্যর্থ হয়েছেন, আপনি ততবার প্ল্যান করে পাখির উড়াও দেখেননি। তবু তিনি বিমানটা আবিষ্কার করেই ছাড়লেন।

সৃষ্টিকর্তাকে একবার জানান দেন সাকসেস না আসার আগ পর্যন্ত আপনি থামবেন না, হেরে গেলেও না, বারবার ব্যর্থ হলেও না। ছোটবেলায় যেভাবে একবার হাঁটতে না পারলে আবার চেষ্টা করতেন, পড়ে গিয়ে ব্যাথা পেয়ে কান্না করতে করতে আবার দেয়াল ধরে হাঁটতে চাইতেন,এখন সময় এসেছে আবার দাঁতে দাঁত চেপে নাছোড়বান্দার মত লেগে থাকার। যে যাই বলুক, যে যা করুক, আপনি শুধু লেগে থাকেন। বাকিটা সিস্টেম্যাটিক্যালি স্রষ্টা আপনাকে দিয়ে দিবেন।


You can win

""""" মোটিভেশন,,,,,,,,,
"" ভোর রাতে সন্তান জন্মা দিয়ে সকাল বেলা
বিসিএসএর ৩ ঘন্টটা লিখিত পরীক্ষা দিয়ে জাতীয়
মেধাবীদের মধ্যে ১১ তম হওয়া মেয়েটির নাম
ছিল-- সুপর্না দে।
" বাজারের ছোট্র পান বিক্রেতার মেয়েটিও
বিসিএস পরীক্ষা দিয়ে একদিন হয়ে যান --
ম্যাজিস্ট্রেট,নাম ছিল-- সালমা খাতুন।
" স্টেশনের কাজ করা,, অর্থাৎ কুলির ছেলেটিও
হয়ে যায় প্রশাসনিক কর্মকর্তা,, ছেলেটির নাম ছিল--
সাব্বির রহমান
"" শহরের রিকশাচালক চাচার ছেলেটিও,যাকে
ঈদেও নতুন জামা কিনে দিতে পারতেন না।সেই
ছেলেটিও এ এস পি হন,,বিসিএস এর কল্যানে।
"" পরীক্ষার হলে আমরা সবাই সমান।তখন
পরীক্ষক দেখেন না কে চেয়ারম্যান এর
ছেলে কিংবা কে এমপির মেয়ে।
"" সফল হওয়ার জন্য ভালো ব্যাকগ্রাউন্ড দরকার
হয়না,,দরকার হয় একটা সাহসী মানসিকতার,, অধ্যাবসায়
আর সময়ের সঠিক ব্যবহার।
" স্বপ্ন টা সত্যি করা দায়িত্ব কেউ নিবেনা।আপনাকেই
করতে হবে।নিজের গল্প টা নিজেকেই তৈরি
করতে হয়।
"" নেলসন মেন্ডেলা স্যার এর একটা কথা মনে
হচ্ছে "(হয়ে যাওয়ার আগে সবকিছু অসম্ভব)
" আপনি নিজে প্রস্তুতি নিন।শুরু করে দিন।কোন
কাজই সহজ না,সহজ করে নিতে হয়।পরিশ্রম করুন,
লেগে থাকুন।কথা দিচ্ছি,, একদিন আপনিও
অনেকের অনুসরণীয় হয়ে যাবেন।
(সংরক্ষিত)


বিদায় হজের ভাষন, সম্পুর্ন বাংলায়।

যত পড়ি তত পড়তে ইচ্ছা করে।
হে আল্লাহ আমাদের কে ইসলাম বুঝে মুসলমান হওয়ার তৌফিক দিন! আমিন
শুক্রবার ৯ জিলহজ্ব ১০ হিজরি সনে হজ্জের সময় আরাফা ময়দানে দুপুরের
পর হযরত মুহাম্মদ (স) লক্ষাধিক সাহাবীর সমাবেশে এ ঐতিহাসিক ভাষন দেন। হামদ ও সানার পর তিনি বলেন:-
• হে মানুষ!
তোমরা আমার কথা শোনো.এর পর এই
স্থানে তোমাদের সাথে আর একত্রিত
হতে পারবো কিনা জানিনা!
••হে মানুষ
আল্লাহ বলেন.হে মানবজাতি
তোমাদেরকে আমি এক পুরুষ ও এক
নারী থেকে সৃষ্টি করেছি,এবং
তোমাদেরকে সমাজ ও গোত্রে ভাগ করে
দিয়েছি. যেন তোমরা পরস্পরের পরিচয়
জানতে পার,অতএব শুনে রাখো মানুষে
মানুষে কোন ভেদাভেদ নেই ।আরবের
ওপর কোনো অনারবের_অনারবের উপর
কোনো আরবের শ্রেষ্ঠত্ব নেই ।
তেমনি সাদার উপর কালোর বা কালোর
উপর সাদার কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই ।
তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই আল্লাহর
কাছে সবচেয়ে বেশী সম্মান ও মর্যাদার
অধিকারী,যে আল্লাহকে ভালবাসে।
•••হে মানুষ !
শুনে রাখো অন্ধকার যুগের সকল বিষয়
ও প্রথা আজ থেকে বিলুপ্ত
হলো.জাহিলি যুগের রক্তের দাবিও রহিত
করা হলো।
••••হে মানুষ !
শুনে রাখো,অপরাধের দায়িত্ব কেবল
অপরাধীর ওপরই বর্তায় । পিতা তার
পুত্রের জন্যে আর পুত্র তার পিতার
অপরাধের জন্য দায়ী নয়।
•••••হে মানুষ!
তোমাদের রক্ত তোমাদের
সম্মান,তোমাদের সম্পদ পরস্পরের
জন্য চিরস্থায়ী ভাবে হারাম অর্থাৎ
পবিত্র ও নিরাপদ করা হলো যেমন
আজকের এই মাস এই শহর সকলের
জন্য পবিত্র ও নিরাপদ।
••••••হে মানুষ!
তোমরা ঈর্ষা ও হিংসা-বিদ্বেষ থেকে
দুরে থাকবে ঈর্ষা ও হিংসা মানুষের
সকল সৎগুনকে ধ্বংস করে।
•••••••হে মানুষ!
নারীদের সম্পর্কে আমি তোমাদের
সতর্ক করে দিচ্ছি,তাদের সাথে নিষ্ঠুর
আচরণ করোনা, তাদের উপর যেমন
তোমাদের অধিকার রয়েছে তেমনি
তোমাদের উপর তাদেরও অধিকার
রয়েছে সুতরাং তাদের কল্যাণের দিকে
সবসময় খেয়াল রেখো।
••••••••হে মানুষ!
অধীনস্থদের সম্পর্কে সতর্ক
হও.তোমরা নিজেরা যা খাবে তাদেরও তা
খাওয়াবে.নিজেরা যা পরবে তাদেরও তা
পরাবে,শ্রমিকের শরীরের ঘাম শুকানোর
আগেই তার মজুরি পরিশোধ করবে ।
•••••••••হে মানুষ!
বিশ্বাসী সেই ব্যক্তি যার হাত ও মুখ
থেকে অন্যের সম্মান,ধন ও প্রাণ
নিরাপদ, সে নিজের জন্য যা পছন্দ করে
অন্যের জন্যেও তাই পছন্দ করে ।
••••••••••হে মানুষ!
বিশ্বাসীরা পরস্পরের ভাই,সাবধান !
তোমরা একজন আরেকজনকে হত্যা
করার মতো কুফরি কাজে লিপ্ত হয়ো
না।
•••••••••••হে মানুষ!
শুনে রাখো আজ হতে বংশগত
শ্রেষ্ঠত্ব বা কৌলিনপ্রথা বিলুপ্ত
করা হলো কুলীন বা শ্রেষ্ঠ সেই যে
বিশ্বাসী ও মানুষের উপকার করে।
••••••••••••হে মানুষ!
ঋণ অবশ্যই ফেরত দিতে
হবে.বিশ্বস্ততার সাথে প্রত্যেকের
আমানত রক্ষা করতে হবে,কারো
সম্পত্তি সে যদি স্বেচ্ছায় না দেয়,তবে
তা অপর কারো জন্য হালাল নয় ।
তোমরা কেউ দুর্বলের উপর অবিচার
করো না।
•••••••••••••হে মানুষ!
জ্ঞানীর কলমের কালি শহীদের রক্তের
চেয়েও মূল্যবান.জ্ঞান অর্জন
প্রত্যেক নর-নারীর জন্য ফরয-কারন
জ্ঞান মানুষকে সঠিক পথ দেখায় ।
জ্ঞান অর্জনের জন্য প্রয়োজনে
তোমরা চীনে যাও।
••••••••••••••হে মানুষ!
তোমরা তোমাদের প্রভুর ইবাদত
করবে,নামায কায়েম করবে.যাকাত
আদায় করবে,রোজা রাখবে হজ্ব করবে
আর সংঘবদ্ধ ভাবে নেতাকে অনুসরণ
করবে তাহলে তোমরা জান্নাতে দাখিল
হতে পারবে।
•••••••••••••••হে মানুষ!
শুনে রাখো একজন কুশ্রী-কদাকার
ব্যক্তিও যদি তোমাদের নেতা মনোনীত
হয়.যতদিনপর্যন্ত সে আল্লাহর
কিতাব অনুসারে তোমাদের পরিচালিত
করবে,ততদিন পর্যন্ত তার আনুগত্য
করা তোমাদের অবশ্য কর্তব্য।
••••••••••••••••হে
মানুষ !
শুনে রাখো আমার পর আর কোনো নবী
নেই । হে মানুষ আমি তোমাদের কাছে
দুটি আলোকবর্তিকা রেখে
যাচ্ছি.যতদিন তোমরা এ দুটো অনুসরণ
করবে ততদিন তোমরা সত্য পথে
থাকবে এর একটি হলো-আল্লাহর
কিতাব.দ্বিতীয়টি হলো-আমার জীবন-
দৃষ্টান্ত।
•••••••••••••••••হে
মানুষ!
তোমরা কখনোই ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি
করো না- কারন অতীতে বহু জাতি ধর্ম
নিয়ে বাড়াবাড়ির কারনে ধ্বংস হয়ে
গেছে।
••••••••••••••••••হে
মানুষ!
প্রত্যেককেই শেষ বিচারের দিনে সকল
কাজের হিসেব দিতে হবে । অতএব,
সাবধান হও।
•••••••••••••••••••হে
মানুষ!
তোমরা যারা এখানে হাজির
আছো,আমার এই বাণীকে সবার কাছে
পৌঁছে দিও
{এরপর তিনি জনতার উদ্দেশ্যে
জিজ্ঞেস করলেন,হে মানুষ আমি কি
তোমাদের কাছে আল্লাহর বাণী পৌঁছে
দিয়েছি,সকলে সমস্ব দিলো :
হ্যাঁ এরপর নবীজী (স:) বললেন হে
আল্লাহ তুমি সাক্ষী থাকো! আমি
আমার সকল দায়িত্ব পালন করেছি }
রসুলুল্লাহ (স:)-এর উম্মত হিসেবে
আমাদেরও দায়িত্ব তাঁর এ শেষ বাণী
সবার কাছে পৌঁছে দেওয়া,আল্লাহ
আমাদের সবাইকে এ দায়িত্ব পালন
করার তৌফিক দান করুন। আমিন|
শেয়ার করে সকল মানবজাতির কাছে
পৌঁছে দিন বিদায় হজের শেষ অমীয়
বাণী.....


Tuesday, 11 February 2020

পরিমাপ সম্পর্কিত তথ্য

 ➲ ১মিলিয়ন=১০লক্ষ
➲ ১কোটি=১০মিলিয়ন
➲ ১বিলিয়ন=১০০কোটি
➲ ১ট্রিলিয়ন=১লক্ষ কোটি
➲ ১৭৬০গজ=১মাইল
➲ ১ইঞ্চি=২.৫৪সে.মি.
➲ ১ মাইল=১.৬১ কি.মি.
➲ ০.৬২মাইল = ১ কি.মি.
➲ ৬ফুট = ১ ফ্যাদম
➲ ১ বর্গহাত = ১গন্ডা
➲ ২০গন্ডা = ১ছটাক
➲ ১৬ছটাক = ১কাঠা
➲ ২০কাঠা = ১বিঘা
➲ ১৪৪বর্গইঞ্চি = ১বর্গফুট
➲ ৯ বর্গফুট = ১ বর্গগজ
➲ ৪৮৪০বর্গগজ = ১একর
➲ ১০০শতক = ১একর
➲ ৬৪০একর = ১বর্গমাইল
➲ ২৪৭ একর = ১বর্গকিমি
➲ ১০০০০বর্গমি = ১০০এয়র
➲ ১৬ আউন্স = ১পাউন্ড
➲ ২৮ পাউন্ড = ১কোয়ার্টার
➲ ৪কোয়ার্টার = ১ হন্দর
➲ ২০হন্দর = ১বৃটিশ টন
➲ ১০০কিলোগ্রাম = ১কুইন্টাল
➲ ১০০০কিলোগ্রাম = ১মেট্রিক টন
➲ ১পাউন্ড = ০.৪৫৩৬কেজি
➲ ১কেজি = ২.২পাউন্ট=১.০৭সের
➲ ১সের = ০.৯৩কিলোগ্রাম
➲ ১মিটার = ৩৯.৩৭ইঞ্চি
➲ ১২ইঞ্চি = ১ফুট
➲ ৩ফুট = ১গজ
➲ ৭.৯২ ইঞ্চি = ১ লিংক
➲ ২৫ লিংক = ১ রড
➲ ৪ রড = ১মাইল
➲ ১০ চেইন = ১ফার্লং
➲ ৮ ফার্লং = ১মাইল
➲ ৯ বর্গফুট = ১বর্গগজ
➲ ১৬০০বর্গগজ = ১বিঘা
➲ ৮০বর্গগজ = ৭২০বর্গফুট = ১কাঠা
➲ ৫বর্গগজ = ১ছটাক
➲ ৪০ কেজি =১ মন
.............................................
❍ ১ পক্ষ = ১৫ দিন;
❍ ১ মাস = ২ পক্ষ
❍ ১ মাস = ৪ সপ্তাহ;
❍ ১ মাস = ৩০ দিন
❍ ১ ঋতু = ২ মাস = ৪ পক্ষ = ৮ সপ্তাহ = ৬০ দিন
❍ ১ বছর = ১২ মাস = ২৪ পক্ষ = ৩৬৫ দিন = ৫২ সপ্তাহ
❍ ১ অধিবর্ষ = ৩৬৬ দিন
❍ ১ যুগ = ১২ বছর ;
❍ ১ অর্ধযুগ = ৬ বছর;
❍ ১ অর্ধ-শতাব্দী = ৫০ বছর ;
❍ ১ শতাব্দী = ১০০ বছর
❍ ১ কুড়ি = ২০টি
❍ ১ রিম = ২০ দিস্তা = ৫০০ তা
❍ ১ ভরি = ১৬ আনা ;
❍ ১ আনা = ৬ রতি
❍ ১ গজ = ৩ ফুট = ২ হাত
❍ ১ কেজি = ১০০০ গ্রাম
❍ ১ কুইন্টাল = ১০০ কেজি
❍ ১ মেট্রিক টন = ১০ কুইন্টাল = ১০০০ কেজি
❍ ১ লিটার = ১০০০ সিসি
❍ ১ মণ = ৪০ সের
❍ ১ বিঘা = ২০ কাঠা( ৩৩ শতাংশ) ;
❍ ১ কাঠা = ৭২০ বর্গফুট (৮০ বর্গ গজ)
❍ 1 মিলিয়ন = 10 লক্ষ
❍ 1 মাইল = 1.61 কি.মি ;
❍ 1 কি.মি. = 0..62
❍ 1 ইঞ্চি = 2.54 সে..মি ;
❍ 1 মিটার = 39.37 ইঞ্চি
❍ 1 কে.জি = 2.20 পাউন্ড ;
❍ 1 সের = 0.93 কিলোগ্রাম
❍ 1 মে. টন = 1000 কিলোগ্রাম ;
❍ 1 পাউন্ড = 16 আউন্স
❍ 1 গজ= 3 ফুট ;
❍ 1 একর = 100 শতক
❍ 1 বর্গ কি.মি.= 247 একর
Collected

Monday, 10 February 2020

মানুষ কেন ব্যর্থ হয়? জীবনের প্রথম ধাপে ব্যর্থ হওয়ার ১০টি কারণ!

পৃথিবীর শতকরা প্রায় ৯০ ভাগ মানুষ তাদের কাঙ্খিত লক্ষ্য অর্জন করতে ব্যর্থ হয়। কিন্তু কেন তারা প্রথম জীবনে সফল হতে পারেন না? কারণ হল, জীবনের লক্ষ্য ঠিক না রাখা। ফলে সফলতার মুখ দেখতে হলে তাদের অনেক কঠিন সময় পার করতে হয়।

তাই আপনি জীবনে কি অর্জন করতে চান তার একটি পরিস্কার ধারণা পেতে চাইলে, প্রথমেই আপনাকে আপনার জীবনের লক্ষ্য ঠিক করতে হবে।

🥀বিল গেটস বিশ্বের অন্যতম সফল একজন ব্যক্তি
তিনি বলেন,জীবনের সাফল্য আনন্দ করা ভালো।
কিন্তু ব্যর্থতা থাকে শিক্ষা নেয়া অধিক গুরুত্বপূর্ন।🌹

সাফল্যের পূর্বে ব্যর্থতা আসবে এটাই স্বাভাবিক। তাই সাফল্যের মিষ্টতা উপভোগ করার আগে আপনার ব্যর্থতাকে জয় করতে শিখতে হবে। আপনি কি জানেন?

পৃথিবীর অধিকাংশ সফল ব্যক্তিরা কখনোই একবারে সফল হন নি। তারা জীবনে বহুবার ব্যর্থতার সম্মুখীন হয়েছেন। কিন্তু এই ব্যর্থতা তাদের স্বপ্ন পূরণ করার লক্ষ্যে কখনোই বাঁধা হতে পারেনি।

কেন মানুষ প্রথম জীবনে ব্যর্থ হয়, সেই কারণগুলোই আজ আমরা আপনাদের কাছে তুলে ধরব। আপনি কোন কারণগুলোর জন্য সফল হতে পারছেন না তা অবশ্যই কমেন্ট করে আমাদের জানাবেন।

আর যদি আপনি আপনার সফল হওয়ার পথে বাঁধা হয়ে থাকা এই কারণ গুলো কাটিয়ে উঠতে পারেন, তবে আপনার সফলতার গল্পটিও আমাদের সাথে শেয়ার করবেন।

🌷১. নেতিবাচক চিন্তাভাবনা

বেশিরভাগ মানুষের প্রথম জীবনে সফল না হওয়ার প্রধান কারণগুলোর একটি হল মনের ভেতর নেতিবাচক চিন্তা রাখা। এই চিন্তা ভাবনাগুলো অন্য কিছু নিয়ে চিন্তা করতে মনকে বাঁধা দেয়। ফলে আপনার দৈনন্দিন রুটিন ব্যাহত হয়। তাই আপনাকে অবশ্যই এই নেতিবাচক চিন্তাগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

একজন হতাশাগ্রস্থ মানুষ কখনো সফল হতে পারে না। কারণ তারা নিজেও হতাশ থাকে এবং তাদের চারপাশের মানুষের জন্যও একটি নেতিবাচক ও বিব্রতকর পরিবেশ সৃষ্টি করে তোলে।

তবে মনে আশা এবং বিশ্বাস থাকলে প্রত্যেকের জীবনেই চমৎকার কিছু ঘটতে পারে। এই বিশ্বাস আপনাকে প্রত্যেক পরিস্থিতিতে একটি পরিস্কার এবং ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি রাখতে সাহায্য করে। পজিটিভ ধারণাগুলো আপনার জন্য কেবল নতুন সম্ভাবনার পথই খুঁজে দিবে না, বরং আপনাকে সাফল্যের চূড়ায় উঠতেও সাহায্য করবে।

🌷২. শক্তি এবং দুর্বলতা সম্পর্কে অজ্ঞতা

বেশির ভাগ মানুষ এটা বুঝতে ভুল করে যে, তারা প্রত্যেকেই অন্যের থেকে আলাদা ও ইউনিক। তাদের ব্যক্তিত্ব তাদেরকে অন্যদের থেকে ইউনিক করে তোলে। ফলে তাদের কাজ করার পদ্ধতিও আলাদা হয়ে থাকে।

প্রথম জীবনে ব্যর্থ হওয়ার আরেকটি কারণ হল নিজের সম্পর্কে সঠিক ধারণা না থাকা। আপনি জীবনে কি কি করতে সক্ষম সে সম্পর্কে একটি পরিস্কার ধারণা থাকা প্রয়োজন। আপনার ভেতরের শক্তি ও ক্ষমতা আপনি যে ক্ষেত্রে দক্ষ এবং আপনি অন্যের থেকে ভালো উপায়ে কাজ করার যোগ্যতা কে নির্দেশ করে। 

আপনার দুর্বলতা আপনার অক্ষমতা নয়। আসলে আপনি পারেন আপনার এই দুর্বলতা কাটিয়ে সে কাজে আরো দক্ষ হয়ে উঠতে। আপনার দুর্বলতা জীবনে ভালো জিনিসগুলো অর্জন করা থেকে আপনাকে বিরত রাখে।

🌷৩.অনিশ্চিত লক্ষ্য

লক্ষ্যের অনিশ্চয়তা একজন ব্যক্তিকে সাফল্য অর্জন করতে বাঁধা দেয়। অনেকেই জীবনের লক্ষ্য ঠিক না করেই কাজে নামতে চান। কিন্তু আপনি জীবনে যে লক্ষ্য অর্জন করতে চান তার জন্য প্রয়োজন প্রচুর পরিশ্রম, দৃঢ়তা এবং ইচ্ছাশক্তি।

জীবনের লক্ষ্য ঠিক না থাকলে অনিশ্চয়তার সৃষ্টি হয়। আর এই অনিশ্চয়তা আপনার সাফল্যে বাঁধা সৃষ্টি করে। তাই প্রথমেই জীবনের লক্ষ্য বেছে নিন।

আপনি কেন এই লক্ষ্য অর্জন করতে চান তার কারণ খুঁজে বের করুন। এরপর কিভাবে লক্ষ্যে পৌঁছানোর স্ট্র্যাটেজি উন্নত করা যায়, তা নিয়ে একটি পরিকল্পনা তৈরি করুন। লক্ষ্যহীন মানুষ খুব কম ই সফলতা অর্জন করতে পারে।

আপনি হয়ত জানেন না, পদার্থবিজ্ঞানে জটিল সব তত্ত্ব নিয়ে গবেষণা করে বিখ্যাত হওয়ার পূর্বে, স্যার আইজ্যাক নিউটন তার বাবার মত তাদের পরিবারের একটি খামারে কাজ করতেন। কিন্তু যখনই তিনি তার নিজস্ব শক্তি ও যোগ্যতার খোঁজ পেলেন, তখন তিনি তার জীবনের লক্ষ্য ঠিক করেন।

🥀তিনি বলেন আমার শক্তি গুলো সাধারণ।
আমার শক্তির প্রয়োগ-ই আমাকে সাফল্য এনে দিয়েছে।🌹

🌷৪.অগোছালো জীবন যাপনঃ

জীবনে সফল হতে হলে গোছানো থাকা গুরুত্বপূর্ণ। সাফল্য অর্জন করতে হলে আপনার জীবন, চিন্তাভাবনা এবং নির্দিষ্ট লক্ষ্য ঠিক রাখা প্রয়োজন। এটা ঠিক যে, সবার মধ্যে গোছানো জীবনযাপন করার ক্ষমতা থাকে না।

প্রায় শতকরা ৮০ ভাগ মানুষের এই ক্ষমতার অভাব আছে। তাই তারা জীবনে সাম্যতা আনতে পারেন না। যা তাদের ব্যর্থতার আরো একটি কারণ।

যারা অগোছালো তারা কখনোই পরিকল্পনা করে কাজ করে না। তাই তারা বুঝতে পারে না যে, জীবন তাদের কোথায় নিয়ে যাচ্ছে। ফলে তারা সহজেই তাদের কাঙ্খিত লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হয়ে পরেন।

তারা সবসময়ই কম পরিশ্রম করেন এবং সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগতে থাকেন। সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে তারা অন্যের উপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে ওঠেন

🌷৫. স্থির মনোভাব

আপনি আপনার জীবনে দুই ধরনের মানুষের দেখা পাবেন। যার মধ্যে একজনের একটি সৃজনশীল মন থাকবে। অন্যদিকে, অন্যজনের একটি নির্দিষ্ট বা স্থির মন থাকবে।

এদের প্রতিভা, শক্তি এবং বৈশিষ্ট্য সবকিছুই স্থির থাকে। তারা তাদের বুদ্ধিমত্তা ও প্রতিভাকে কখনোই নতুন রূপ দেওয়ার চেষ্টা করেন না। এই মানুষগুলো সবসময় নিজেকে অন্যদের থেকে ছোট মনে করে এবং নিজেকে মুল্যায়ন করতে পারে না।

একটি স্থির মন আপনাকে নতুন অভ্যাস তৈরি করতে এবং অভিজ্ঞতা বৃদ্ধি ও উন্নত করতে বিরত রাখে। ফলে এটি আপনার সাফল্য অর্জনের পথ বন্ধ করে দেয়। এবং জীবনের প্রথম ধাপেই আপনাকে ব্যর্থতার দিকে নিয়ে যায়।

স্টিভ জবস বলেন যাদের পৃথিবী বদলে দেওয়ার মত মানসিকতা থাকে তারাই পারে পৃথিবী বদলে দিতে

🌷৬. সহজেই হার মেনে নেওয়া

সাধারণত বেশির ভাগ মানুষ তাদের লক্ষ্য অর্জন না করেই হার মেনে নেয়। কারণ কাজটি থেকে বের হয়ে আসার এটাই সহজ উপায়। আবার ব্যর্থ হওয়ার ভয় থেকেও তারা তাদের লক্ষ্য থেকে দূরে সরে আসে, যা তাদেরকে ব্যর্থতার দিকে নিয়ে যায়।

যেহেতু আপনাকে জীবনে এগিয়ে যেতে হবে তাই আপনাকে কঠোর পরিশ্রম, বিভিন্ন সমস্যা এবং ব্যর্থতার মুখোমুখি হতে হবে। কিন্তু হার মেনে নেওয়া কখনোই কোনো সমাধান হতে পারে না।

সাফল্য কেবল তার কাছেই আসবে যে লড়াই করতে, শিখতে, চর্চা করতে এবং তাদের স্বপ্ন পূরণ করার ইচ্ছাশক্তি রাখে।

সফল ব্যক্তিদের সাফল্যের পেছনে রহস্য হল, তারা কখনো হার মানেন না। তারা বারবার ব্যর্থ হন কিন্তু কখনো তাদের লক্ষ্য থেকে পিছু হটেন না। বরং সংগ্রাম চালিয়ে যান।

ডিজনি প্রোডাকশন বিখ্যাত হওয়ার আগে, ওয়াল্ট ডিজনি বারবার প্রত্যাখ্যাত হয়েছিলেন কারণ তার সৃজনশীলতার অভাব ছিল। কিন্তু এতেও তিনি কখনো হার মানেন নি।

🌷৭.পরিশ্রমের অভাবঃ

সাফল্যের পথ কখনোই সহজ হয় না। অধিকাংশ সফল গল্পের মধ্যে কিছু গল্প সবচেয়ে বেশি চ্যালেঞ্জিং হয় এবং অনেক পরিশ্রম আর চেষ্টা করার প্রয়োজন হয়। কেউ ই পরিশ্রম ছাড়া রাতারাতি সফল হওয়ার আশা করতে পারে না।

আপনার লক্ষ্য পূরণ হতে মাস এমনকি বছর ও লেগে যেতে পারে। এর জন্য আপনাকে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে, দিনে রাতে সবসময় লক্ষ্য ঠিক রাখতে হবে এবং পুরো সময়টিতে ধৈর্য রাখতে হবে।

কঠিন কাজগুলো প্রায় মানুষকে নিরুৎসাহিত করে। ফলে তারা আবার চেষ্টা না করেই হার মেনে নেয়।

 🥀জ্যাকমা বলেন,আজ হয়ত দিনটা খারাপ যাচ্ছে।
                  কাল আরো খারাপ যাবে।
কিন্তু কালকের পরের দিনটা অবশ্যয় ভালো হবে।🌹

কিন্তু মনে রাখবেন, সফলতা তাদের কাছেই আসে যারা অপেক্ষা করতে জানে। একটি কঠিন বিষয়কে জয় করার রহস্য হল সেটি আরো বেশি চর্চা করা। আপনি যত চর্চা করবে, তত কাজটিতে ভালো করতে পারবেন। তাই সবসময় দৃঢ় প্রতিজ্ঞ থাকুন এবং আপনার পথ থেকে কখনো বিচ্যুত হবেন না।

কনফিউয়াস বলেন, যদি আপনার মনে হয় যে, আপনি আপনার কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌছাতে পারবেন না, তখন লক্ষ্যের সাথে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা বন্ধ করুন। আর নিজের কাজের ধাপগুলোর সাথে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করুন।

🌷৮.সন্দেহের প্রবণতা

ব্যর্থতার তুলনায় মানুষের সন্দেহপ্রবণতাতার স্বপ্নকে সহজে নিঃশেষ করে দেয়।তাই সফল হতে হলে নিজের প্রতি বা অন্যের সাথে আপনার সম্পর্ক বা আপনার জীবনের লক্ষ্য নিয়ে মনে কোনো সংশয় রাখা যাবে না।

জীবনের শুরুতেই ব্যর্থ হওয়ার আরেকটি কারণ হল, সন্দেহের কারণে তারা তাদের যোগ্যতার ওপর বিশ্বাস হারিয়ে ফেলে। আমাদের চিন্তাভাবনা আমাদের কর্মকান্ডের ওপর প্রভাব ফেলে।

আমরা দুঃশ্চিন্তা করলে মনে ভয়েরও সৃষ্টি হয়। আর মনে ভয় থাকলে মানুষের কঠোর পরিশ্রম না করার এবং ব্যর্থতার প্রবণতা বেড়ে যায়।

জীবনের লক্ষ্য অর্জন করতে পারবেন কিনা এ নিয়ে আপনার মনে সংশয় থাকলে, আপনার মন ও আপনাকে এটাই বিশ্বাস করাবে যে আপনি পারবেন না।

ফলে আপনি ব্যর্থতার দিকে এগিয়ে যাবেন। তাই মন থেকে সন্দেহ ও ভয় দূর করতে হলে, আপনার মনে পজিটিভ চিন্তা রাখতে হবে। পাশাপাশি প্রত্যেক পরিস্থিতিরই যেকোনো ফলাফল মেনে নেওয়ার মানসিকতা রাখতে হবে।

🌷৯. আত্মবিশ্বাসের অভাব

আপনি নিজেকে কিভাবে বিচার করবেন, এটা নির্ভর করে আপনার আত্মবিশ্বাসের লেভেল কতটুকু তার উপর। আপনার জীবনের সাফল্য ও ব্যর্থতার ওপর অন্যের সাথে আপনার সম্পর্ক এবং আপনার যোগ্যতা ও জ্ঞান সরাসরি প্রভাব ফেলে।

নিজের কাজ, সম্পর্ক ও জীবনের ওপর যথেষ্ট আত্মবিশ্বাস থাকলে তা আপনাকে একটি সফল জীবনের দিকে নিয়ে যাবে। অপরদিকে, যাদের নিজের ওপর আত্মবিশ্বাসের অভাব আছে তারাই এক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়েন। আপনার আত্মবিশ্বাসের অভাব থাকার কারণ হল, আপনার নিজের কাজ ও লক্ষ্য সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা না থাকা।

🥀সাফল  ব্যক্তিদের  সাফল্যের রহস্য হল তারা কখনো হার মানে না।🌹

আপনার লক্ষ্য কি? এবং সেই লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য কি করতে হবে তার একটি পরিস্কার ধারণা রাখা গুরুত্বপূর্ণ।

এরপর লক্ষ্য অনুযায়ী নির্দিষ্ট পরিকল্পনায় বিশ্বাস রাখতে হবে। অধিক আত্মবিশ্বাসীরা যেকোনো কাজে কম লজ্জা পায়। তারা ব্যর্থতা কে ভয় পায় না। তারা তাদের বিশ্বাস অনুযায়ী যেকোনো কাজ করতে সবসময় নিজেকে তৈরি রাখে।

🌷১০. অনুপ্রেরণার অভাব

অনুপ্রেরণা ও উৎসাহ যেকোনো কাজের প্রতি আপনার ইচ্ছাকে জাগিয়ে তোলে। ফলে আপনি সয়ংক্রিয়ভাবে আগের তুলনায় আরো ভালো কাজ করতে পারবেন। এই অনুপ্রেরণা ও উৎসাহ আপনাকে নতুন করে নিজেকে চ্যালেঞ্জ করতে এবং সে অনুযায়ী কাজ করতে সাহায্য করে।

অনেকেই এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন হন, যেখানে তাদের কাজ করার আগ্রহ ও যোগ্যতা থাকলেও অনুপ্রেরণার অভাব থাকে। লক্ষ্য অর্জনের ক্ষেত্রে অনুপ্রেরণার অভাব আপনার কাজকে বিরক্তিকর এবং স্ট্রেসফুল করে তোলে।

আবার, অলসতা, কাজে ঢিলেমি বা শারীরিক ও মানসিক চাপ লক্ষ্য অর্জন করতে না পারার একটি কারণ। এটি আপনার জীবনের লক্ষ্য অর্জনের পথে একটি বড় বাঁধা হতে পারে এবং আপনার মনে হতাশা ও অসন্তুষ্টির সৃষ্টি করে।

💚গরু ও বাঘের গল্প

আল্লাহ যার মালিক তার আর কিসের ভয়


একটি গরু জঙ্গলে ঘাস খাচ্ছিল। হঠাৎ তাকে একটি বাঘ আক্রমণ করল। গরুটি অনেক্ষন দৌড়ানোর পর উপায় না পেয়ে পুকুরে ঝাপ দিল। মাত্র শুঁকিয়ে যাওয়া পুকুরটিতে কাঁদা ছাড়া কোন পানি ছিল না। গরুর পেছন পেছন বাঘটিও ঝাপ দিল। বাঘ ও গরু কাঁদায় গলা পর্যন্ত আটকে গেল।


বাঘ রেগে মেগে বলে, "কি রে! হারামী তুই আর লাফ দেয়ার জায়গা পেলি না? ডাঙায় থাকলে তোকে না হয় একটু কুড়মুড় করে খেতাম। এখনতো দুজনেই মরব রে।"


গরু হেসে বলে, "তোমার কি মালিক আছে?

বাঘ রেগে বলে, বেটা আমি হলাম বনের রাজা। আমার আবার মালিক কে। আমি নিজেইতো বনের মালিক।


গরু বলে তুমি এখানেই দুর্বল। একটু পর আমার মালিক আসবে। এসে আমাকে এখান থেকে তুলে নিয়ে যাবে। আর তোমাকে পিটিয়ে মারবে।


বাঘ বড় বড় চোখ করে তাকিয়ে রইল।


ঠিকই সন্ধ্যা বেলায় গরুটির মালিক এসে বাঘটার মাথায় বাঁশ দিয়ে কয়েকটা বাড়ি দিয়ে মেরে গরুটিকে টেনে তুলল। গরু হাসতে হাসতে বাড়ি চলে গেল আর মরা বাঘটি একা একা পড়ে রইল।


মূলকথা, আমরা যারা মালিকের উপর ভরসা করি আমাদের উপর যত অত্যাচার নির্যাতনই হোক না কেন আমাদের মালিক ঠিকই আমাদের রক্ষা করবে। হয়তো সন্ধ্যা পর্যন্ত একটু অপেক্ষা করতে হবে।


সংগৃহীত।

প্রেমের ধর্ম

ক্ষমাই যদি করতে না পারো, তবে তাকে ভালোবাসো কেন?

ক্ষমতা

নিজের ক্ষমতা নিয়ে বড়াই করা উচিৎ নয়,
                       
                                 কারন তুমি কারো না কারো কাছে ঠিকই  দুর্বল...!!!

মূর্খ যখন বিত্তবান হয়

একটি ইঁদুর খাবার খুঁজতে খুঁজতে রাজার ঘরে প্রবেশ করে, কোন খাবার না পেয়ে একটি হীরের টুকরো গিলে ফেলে। হীরের চুরি হয়ে যাওয়ার কারণে রাজ-প্রাসাদে সবার ঘুম হারাম হয়ে যায়। রাজা মশাই জ্যোতিষী কে ডেকে পাঠায়, জ্যোতিষী বলে হীরের টুকরো ইদুরে খেয়ে ফেলেছে। সেনাপতি, রাজার হীরে উদ্ধারের জন্য রাজ্যময় পুরস্কার ঘোষণা করে।
একজন শিকারীকে খোঁজ করে, ইঁদুর মেরে হীরে উদ্ধারের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

শিকারি যখন ইঁদুর মারতে ইঁদুরদের বাসস্থানে পৌঁছোয়, সে দেখে শত শত ইঁদুর একে অন্যের সংগে দলবেঁধে শুয়ে আছে, আর একটা ইঁদুর সবার থেকে আলাদা এক জায়গায় একটি ইটের ওপর রঙিন কাপড়ের বিছানা করে চিৎপটাং হয়ে শুয়ে আছে।
শিকারি তখন ওই ইঁদুরটাকে ধরে, আর তার পেট চিরে হীরে বের করে, রাজার হাতে সেটা তুলে দিলেন, রাজামশাই অনেক খুশি হয়ে শিকারীকে তার প্রাপ্য পুরস্কার দিয়ে দিলেন,
এবং তাকে জিজ্ঞেস করেন,
-হাজারো ইঁদুরের মধ্যে তুমি কিভাবে বুঝলে যে, ওই ইঁদুরটাই হীরে চুরি করেছে..??

শিকারি জবাবে বলে,
-খুবই সহজ ! মূর্খ যখন হঠাৎ বিত্তবান হয়ে যায়, তখন নিজেকে অন্যের থেকে আলাদা মনে করে, নিজের জাতীর সঙ্গে মেলামেশা বন্ধ করে দেয়।
মূর্খ ইঁদুরটা ঠিক তাই করেছিল, হীরা চুরি করে নিজেকে সবচেয়ে ধনী এবং ইঁদুরদের রাজা ঘোষণা দিয়েছিল।

বর্তমান সমাজে কিছু কিছু ব্যক্তিদের মাঝে এমন আচরন পরিলহ্মিত হয়চ্ছে।   তারা কারা???

উপদেশ:-মূল্যায়ন

মৃত্যুর পূর্বে একজন পিতা তার সন্তানকে কাছে ডেকে বললেন, 'এই নাও! এই ঘড়িটা আজ আমি তোমাকে দিলাম। আমাকে দিয়েছিলো তোমার দাদা। ঘড়িটা দুইশত বছর আগের। তবে, ঘড়িটা নেওয়ার আগে তোমাকে একটা কাজ করতে হবে'।

ছেলেটা বললো, 'কি কাজ?'

- 'এই ঘড়িটা নিয়ে রাস্তার পাশের ঘড়ির দোকানে যাবে। তাদের বলবে যে এই ঘড়ি তুমি বিক্রি করতে চাও'।

ছেলেটা তা-ই করলো। ঘড়িটা রাস্তার পাশের একটা ঘড়ির দোকানে বিক্রি করতে নিয়ে গেলো। সে ফিরে এলে তার বাবা বললো, 'ঘড়ির দোকানদার কতো টাকা দিতে চাইলো ঘড়িটার বিনিময়ে?'

ছেলেটা বললো, 'একশো টাকা মাত্র। ঘড়িটা নাকি অনেক পুরাতন, তাই'।

বাবা বললেন, 'এবার পাশের কফি শপে যাও। তাদেরকে বলো যে তুমি এই ঘড়ি বিক্রি করতে চাও'।

ছেলেটা তা-ই করলো। ঘড়িটা নিয়ে পাশের এক কফি শপে গেলো৷ ফিরে এলে তার বাবা জানতে চাইলো, 'কি বললো ওরা?'

- 'ওরা তো এটা নিতেই চাইলো না। বললো, এতো পুরোনো, নোংরা ঘড়ি দিয়ে আমাদের কি হবে?'

বাবা হাসলেন। বললেন, 'এবার তুমি এই ঘড়ি নিয়ে জাদুঘরে যাও। তাদের বলো যে এই ঘড়িটা আজ থেকে দুই'শতো বছর আগের'।

ছেলেটা এবারও তা-ই করলো। সে ঘড়িটা নিয়ে জাদুঘরে গেলো। ফিরে এলে তার বাবা বললো, 'কি বললো ওরা?'

- 'ওরা তো ঘড়িটা দেখে চমকে উঠেছে প্রায়! তারা এই ঘড়ির দাম বাবদ এক লক্ষ টাকা দিতে চাইলো আমাকে'।

ছেলের কথা শুনে বাবা হাসলেন। বললেন, 'আমার সন্তান! আমি তোমাকে এটাই শিখাতে চাচ্ছিলাম যে, যারা তোমার মূল্য বুঝবে তারা ঠিকই তোমাকে জীবনে মূল্যায়ন করবে। আর যারা তোমার মূল্য বুঝবেনা, তারা কোনোদিনও তোমাকে মূল্যায়ন করবেনা। তাই, যারা তোমাকে মূল্যায়ন করবেনা তাদের দেখে হতাশ হয়ে পড়ো না। তারা তোমার মূল্য বুঝতে অক্ষম। তুমি তাদের কাছেই যাবে যারা তোমার সত্যিকার মূল্য বুঝবে...'।

[ সংগৃহীত ]

ইরানি গল্প ও রুপকথা : সোনার খাঁচায় ময়না পাখি

এক বাদশার সাত ছেলে ছিল। অনেক আগের কথা। ছয় ছেলে ছিল এক মায়ের সন্তান। বাকি এক সন্তান ছিল অন্য মায়ের। বাদশা ওই ছেলের নাম রাখলো মালেক মুহাম্মাদ। এক রাতে বাদশা তাঁর প্রাসাদে আরামে ঘুমাচ্ছিলেন। ঘুমের ভেতর চমৎকার এক স্বপ্ন দেখেন তিনি।

স্বপ্নটা হলো: বাদশার মাথার ওপরে ঝুলছে একটি সোনার খাঁচা। খাঁচার ভেতর বসে আছে চমৎকার একটা তোতা পাখি। ঘুম ভেঙে যাবার পর বাদশা চিন্তায় পড়ে গেল। ভাবছিলো এই সোনার খাঁচার মানে কী কিংবা ওই তোতা পাখিরই বা কী অর্থ। অর্থ যা-ই হোক বাদশা কিন্তু ওই তোতা পাখির প্রেমে পড়ে গেছে। ঘুম থেকে জেগে ওঠার পর থেকেই ভাবতে শুরু করেছে কী করে ওই তোতা পাখি আর সোনার খাঁচা হাতে পাওয়া যায়।

অপরদিকে বাদশা কিছুদিন থেকেই ভাবছিল বাদশাহির দায়িত্ব কোনো এক ছেলের হাতে সোপর্দ করবে যাতে তার অবর্তমানে বাদশাহি নিয়ে নিজেদের মধ্যে ঝগড়া-ফ্যাসাদ না দেখা দেয়। স্বপ্ন দেখার পর বাদশা ভাবলো:ভালোই হলো। এবার সাত সন্তানকেই পরীক্ষা করার সুযোগ সৃষ্টি হলো। সাত সন্তানের মধ্যে যে সন্তান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হবে তার হাতে বাদশাহীর দায়িত্ব দিয়ে দেবে। বাদশা তাই তাঁর সাত সন্তানকেই ডেকে পাঠালো। সন্তানরা সবাই এসে পৌঁছলে বাদশা তাদের উদ্দেশে বললো: তোমরা সবাই আমার সন্তান। আমি তোমাদের সবাইকেই এক দৃষ্টিতে মানে সমানে চোখে দেখি। আমি বুঝতে পারছি না তোমাদের মধ্য থেকে কার হাতে এই বাদশাহির দায়িত্ব হস্তান্তর করবো। সেজন্যে তোমাদের সবাইকে একটা কাজ দেবো আমি। ওই কাজটা যে সুষ্ঠুভাবে আঞ্জাম দেবে তাকেই আমি আমার স্থলাভিষিক্ত করবো।

সবাই জানতে চাইলো: কাজটা কী!

বাদশা বললো: তোমরা আমার জন্য সোনার খাঁচায় বসে থাকা একটা তোতা পাখি নিয়ে আসবে। যে আনতে পারবে সে-ই হবে আমার পরবর্তী বাদশা।

একই স্ত্রীর পেটের ছয় ভাই বাদশার কথা শুনে উঠে দাঁড়ালো এবং একসাথে বেরিয়ে পড়লো সোনার খাঁচা আর তোতা পাখির সন্ধানে। অনেক দূর-দূরান্তে গেল তারা। শহর নগর গ্রাম গঞ্জ সবখানেই খুঁজলো। এমনকি নিজেদের দেশ ছেড়ে অন্য দেশেও গেল। কত মানুষের কাছে যে জানতে চেয়েছে পথ কিংবা সোনার খাঁচা আর তোতা পাখির সন্ধান, তার কোনো ইয়ত্তা নেই। কিন্তু কোনো কাজেই আসে নি সেসব। অবশেষে খালি হাতেই ফিরতে হলো তাদের। ফিরে এসে বাদশাকে বললো: ‘হে বাদশা! আমরা সারা পৃথিবী ঘুরেছি,কিন্তু তুমি যে জিনিস চেয়েছো তা খুঁজে পাই নি’।

বলছিলাম ছয় ছেলে ফিরে এসে বাদশাকে তাদের অপারগতার কথা বললো। আর বাদশা মনে মনে ভাবলো: আমি কি এমনই কঠিন কোনো কাজ দিলাম ছেলেদেরকে যা করা তাদের জন্য অসম্ভব! এ রকম ভাবনার মাঝেই মালেক মুহাম্মাদ উঠে দাঁড়ালো এবং বললো: হে শ্রদ্ধেয় পিতা আমার! আপনি অনুমতি দিলে আমি ওই তোতা পাখি আর সোনার খাঁচার সন্ধানে যেতে চাই।

বাদশা বললো: ওরা ছয় জনই তোমার চেয়ে বড়। তারা একসাথে গিয়েও তোতা পাখি আর সোনার খাঁচা আনতে পারলো না আর তুমি একা গিয়ে কী করবে?

মালেক মুহাম্মাদ বললো: আল্লাহ চাইলে আনতেও তো পারি!

বাদশা বললো: ঠিক যেতে চাচ্ছো যখন যাও! যদি আনতে পারো, তাহলে বাদশাহি তোমার হাতে সোপর্দ করবো।

মালেক মুহাম্মাদ সফরের প্রস্তুতি নিয়ে কটি মণিমুক্তা সঙ্গে নিলো। এরপর দ্রুতগামী একটি ঘোড়া নিয়ে বেরিয়ে পড়লো।

ছয় ভাইয়ের মধ্যে যে বড় সে ছিল ভীষণ হিংসুক। সে তার বাকি পাঁচ ভাইকে ডেকে বললো: আমি জানি মালেক মুহাম্মাদ তোতা পাখি আর সোনার খাঁচা আনতে পারবে। তাই চলো, ওর পেছনে পেছনে আমরাও যাই। বলা তো যায় না ও যদি আমাদের টেক্কা দিয়ে বসে! পাঁচ ভাই কথাটা মেনে নিলো এবং সবাই ঘোড়ায় চড়লো। যেতে যেতে একটা নির্জন প্রান্তরে গিয়ে মালেক মুহাম্মাদের নাগাল পেল। মালেক মুহাম্মাদকে ঘোড়া থেকে নামিয়ে ছয় ভাই মিলে মারলো। মারতে মারতে মালেক ঘোড়ার পিঠ থেকে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে মণিমুক্তাময় জিনটা তার মাথার পাশে রেখে দিলো যাতে মারা গেলে দাফন কাফনের ব্যবস্থা হয়। তারপর ছয় ভাইয়ের সবাই ঘোড়ায় চড়ে দ্রুত পালিয়ে গেল যাতে কেউ তাদের দেখতে না পায়। মালেক মুহাম্মাদ সন্ধ্যা পর্যন্ত মাটিতেই পড়ে ছিল। সে ঘুমের ভেতর হযরত আলি (আ) কে স্বপ্নে দেখতে পেল।

আলী (আ) তাকে বলছিলো: হে যুবক! জেগে ওঠো! ভালো করে কোমর বাঁধো।

এতোক্ষণ পর্যন্ত মালেকের গোংরানোরও শক্তি ছিল না। অথচ স্বপ্ন দেখার পর সুস্থ স্বাভাবিক মানুষের মতো দাঁড়িয়ে গেল সে। স্বপ্নের ভেতরেই একরাশ বিস্ময় চোখে মেখে হযরতের দিকে মুখ করে দাঁড়ালো। হযরত আলি (আ) তাকে বললো: এর পর থেকে যখনই কোনো সমস্যায় পড়বে তখনই বলবে: ‘ইয়া আলি’! তোমার সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। এ বলেই আলি (আ) অদৃশ্য হয়ে গেল।

মালেক মুহাম্মাদের ঘুম ভেঙে গেল। সে দেখলো তার শরীরে কোনোরকম ব্যথা-বেদনা নেই। পুরোপুরি সুস্থ সে। এদিক সেদিক তাকালো। দেখলো তার ঘোড়া এবং জিন সব কিছুই ঠিক আছে। প্রশান্ত মনে দৃঢ় বিশ্বাস বুকে নিয়ে ঘোড়ায় চড়লো এবং সতেজভাবে ঘোড়া ছুটালো।#

‘সোনার খাঁচায় ময়না পাখি’ (২)

হযরত আলি (আ) স্বপ্নের ভেতর মালেক মুহাম্মদকে বলেছিল: এর পর থেকে যখনই কোনো সমস্যায় পড়বে তখনই বলবে: ‘ইয়া আলি’! তোমার সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। এ বলেই আলি (আ) অদৃশ্য হয়ে গেল। মালিক মুহাম্মদের ঘুম ভেঙে গেল। সে দেখলো তার শরীরে কোনোরকম ব্যথা-বেদনা নেই। পুরোপুরি সুস্থ সে।

এদিক সেদিক তাকালো। দেখলো তার ঘোড়া এবং জিন সব কিছুই ঠিক আছে। প্রশান্ত মনে দৃঢ় বিশ্বাস বুকে নিয়ে ঘোড়ায় চড়লো এবং সতেজভাবে ঘোড়া ছুটালো।

এদিকে তার ছয় ভাই যারা তাকে মেরেছিল তারা যেতে যেতে এক শহরে গিয়ে পৌঁছলো। ওই শহরের বিভিন্ন অলিগলিতে তারা ঘুরতে লাগলো। ঘুরতে ঘুরতে তারা গিয়ে পড়লো এক জুয়ার গলিতে। ওই গলিতে জুয়া খেলা হয় বলে এরকম নাম। এমনিতেই তারা জুয়া খেলতে পছন্দ করতো। মালেককে মারার পর মাথার ভেতর যে দুশ্চিন্তা কাজ করছিল সেই দুশ্চিন্তা দূর করার জন্য তারা জুয়ার আড্ডায় বসতে চাইলো। সবাই মিলে তাই করলো। জুয়া খেলার আস্তানায় ঢুকে পড়লো তারা এবং শুরু করে দিলো জুয়া খেলা। খেলতে খেলতে সর্বস্বান্ত হয়ে গেল তারা। যা কিছুই ছিল সব হারিয়ে বসলো। এমনকি রাতের খরচটুকুও অবশিষ্ট রইলো না। পকেট শূন্য হয়ে যাবার পর উপায়ন্তর না দেখে তাদের তিন জন গেল ভিক্ষা করতে। বাকি তিনজনের একজন গেল নেহারির দোকানে কাজ করতে, আরেকজন গেল গোসলখানার কাজে আর তৃতীয়জন গেল রান্নার কাজে সহযোগিতা করতে।

অপরদিকে মালিক মুহাম্মাদ যেতে যেতে সামনে দেখলো একটা শহর। ওই শহরেই উঠলো সে। ঘটনাক্রমে তার যে তিনভাই ভিক্ষা করার জন্য এক শহরে গিয়েছিল এটা ছিল সেই শহর। তখন ছিল রাত। মালিক কিছুই চিনে উঠতে পারছিল না। সকালের অপেক্ষায় রাতটা সেখানেই কাটাতে চাইলো। কিন্তু কোথায় থাকবে! ভেবে ভেবে শেষ পর্যন্ত এক বুড়ির বাসার দরোজায় আঘাত করলো। বুড়ি ঘরের দরোজা খুলতেই মালিক বললো: ‘হে মা আমার! আমি একজন মুসাফির। অপরিচিত এই শহরে থাকার কোনো জায়গা পাচ্ছি না। অনুমতি দিলে আমি আপনার ঘরে রাতটা কাটিয়ে সকাল হলেই আমার কাজে বেরিয়ে যাবো’।

বুড়ি খুব ভালো করে মালেককে দেখলো। বুড়ির মনে হলো মালিক যে সে কোনো লোক নয়, ওকে বাদশাহ কিংবা রাজপুত্রের মতো লাগে। বুড়ি মালেককে বললো: ‘হে যুবক! তোমার যদি রুচিতে না বাধে, যদি গরিবের প্রতি তোমার সুদৃষ্টি থেকে থাকে তাহলে সুস্বাগত তোমাকে’!

মালিক ঘরে ঢুকলো। বুড়ি তার এক মেয়েকে নিয়ে ওই ঘরে বাস করতো। ঘরে ঢুকেই মালিক চারদিকে তাকিয়ে দেখলো বর্ণনা করার মতো তেমন কিছুই নেই। খোরজিন থেকে একটা মুক্তা বের করে বুড়ির হাতে দিয়ে বললো: ‘এটা বিক্রি করে রাতের জন্য খাবার দাবারের ব্যবস্থা করুন’।

মালেকের দেওয়া মুক্তাটি বিক্রি করে বুড়ি ওই রাতের খাবারের আয়োজন করলো। খাওয়া শেষে মালিক লক্ষ্য করলো বুড়ি কাঁদছে।

মালিক বললো: মা! কাঁদছো কেন?

বুড়ি বললো: রাজকন্যার কথা ভেবে কাঁদছি। ওর জন্য আমার মনটা কাঁদে।

মালিক বললো: কেন কী হয়েছে রাজকন্যার!

বুড়ি বললো: সম্প্রতি একটা দৈত্য কোত্থেকে যেন আসে। প্রতি মাসে একবার আসে। এসে একটা মেয়ে, চুয়ান্ন কিলো ওজনের এক ঝুড়ি খুরমা এবং ত্রিশ কিলো হালুয়া প্রত্যেকের কাছ থেকে পর্যায়ক্রমে নিচ্ছে। সবার কাছ থেকেই নেয়া হয়েছে,আজ বাদশার দেওয়ার পালা। সে কারণেই বাদশার মেয়ের জন্য মনটা পুড়ছে। আমি ওর ধাইমা হই কিনা।

এসব শুনে মালিক মুহাম্মদ হযরত আলি (আ) এর কথা স্মরণ করলো। তলোয়ার কোমরে বাঁধলো। বুড়ি যখন দেখলো মালিক মুহাম্মদ যুদ্ধের জন্য তৈরি হচ্ছে,বললো: হে প্রিয় সন্তান আমার! কী করতে চাচ্ছো তুমি?

মালিক বললো: ভাবছি যাবো, দৈত্যের অত্যাচার থেকে জনগণকে মুক্তি দেওয়ার চেষ্টা করবো।

বুড়ি বললো: হে যুবক! তোমার যৌবনের কসম,রহম করো! বাদশা এ পর্যন্ত কয়েক দল সৈন্য পাঠিয়েছে ওই দৈত্যের সঙ্গে যুদ্ধ করার জন্য, কিন্তু কেউই জিততে পারেনি, মারাত্মকভাবে পরাজিত হয়েছে। এখন তুমিও যদি যাও,নির্ঘাত মারা যাবে।

মালিক বললো: হে বুড়ো মা! আমার রক্ত ওই রাজকন্যার রক্তের চেয়ে বেশি রঙিন নয়। আল্লাহ চাহে তো আমি যাবো। তুমি শুধু আমাকে ওই দৈত্যটার জায়গা দেখিয়ে দাও!

বুড়ি যখন দেখলো মালিক একেবারেই নাছোড়বান্দা, যাবেই সে, অগত্যা বললো: দরোজা দিয়ে বাইরে গেলে একটা গম্বুজ দেখতে পাবে। ওই গম্বুজের নীচে দেখবে রাজকন্যা বসে আছে খুরমার ঝুড়ি আর হালুয়া নিয়ে।

মালিক মুহাম্মদ বাসার বাইরে এসে আবারও হযরত আলী (আ) কে স্মরণ করলো। এরপর ঘোড়ার পিঠে চড়ে দরোজার বাইরে গিয়ে দেখলো সত্যিই একটা গম্বুজ দেখা যাচ্ছে। গম্বুজের দিকে গেল। রাজকন্যা দেখলো মালিক তার দিকে আসছে। কাছাকাছি যেতেই মালিক রাজকন্যাকে বললো: এই বাদশার মেয়ে! এই গম্বুজের কাছে বসে বসে কী করছো তুমি!

রাজকন্যা মালিকের দিকে তাকিয়ে ভাবলো লোকটাকে তো মন্দ বলে মনে হচ্ছে না।

মালিক মুহাম্মদ আবারো বললো: এই রাজকন্যা! আমি এসেছি তোমাকে মুক্ত করতে।

একথা শুনে রাজকন্যা অঝোরে কাঁদতে শুরু করে দিলো।

‘সোনার খাঁচায় ময়না পাখি’ (৩)

বলছিলাম বাদশা তার মেয়ের দু:খে ঘুমাতে পারছিল না। মুয়াজ্জিনের ভুল আজানের ধ্বনি তার কানে যেতেই মুয়াজ্জিনকে ডেকে পাঠালো। বাদশার পাইক পেয়াদারা যথারীতি মুয়াজ্জিনকে ধরে নিয়ে এলো। বাদশাহ মুয়াজ্জিনের ভীত সন্ত্রস্ত অবস্থা দেখে জিজ্ঞাসা করলো: কী হয়েছে?

মুয়াজ্জিন বললো: হে বাদশা নামদার! জানি না কী হয়ে গেল! মনে হচ্ছে দৈত্যের ক্ষুধা মেটে নি। ও গম্বুজের কাছে ঘুমিয়ে আছে। আমার মনে হয় ও এই শহরেই থেকে যেতে চাচ্ছে।

মুয়াজ্জিনের কথা শুনে বাদশাহ এক বুড়োকে ডেকে পাঠালো এবং তাকে প্রচুর টাকা পয়সা দিয়ে গম্বুজের খোজ খবর নিয়ে আসতে বললো। বুড়ো লোকটার তো করার কিছুই নেই। কাঁপতে কাঁপতে দু’হাত বাড়িয়ে দিয়ে টাকাগুলো গ্রহণ করলো এবং ভয়ে ভয়ে পা বাড়ালো গম্বুজের দিকে।

আস্তে আস্তে পা ফেলে চোখ কান খোলা রেখে সতর্কতার সাথে গেল গম্বুজের কাছে। গম্বুজের কাছে পৌঁছতে পৌঁছতে রাতের আঁধার কেটে গিয়ে সকাল হয়ে গেল। চারদিক ফর্সা হয়ে গেল তখন। বুড়ো তখন দেখলো দৈত্যটা গম্বুজের কাছে ঘুমায় নি বরং মাটিতে পড়ে ছিল দৈত্যের কাটা পা। বুড়োর মনে হলো সে বুঝি স্বপ্ন দেখছে। চোখ কচলাতে কচলাতে গম্বুজের আরও কাছে গেল। কাছে গিয়ে দেখলো: নাতো, সে স্বপ্ন দেখছে না, সত্যই দেখছে,বাস্তবই দেখছে। কৌতূহলী হয়ে উঠলো বৃদ্ধ। পা টিপে টিপে ভীত সন্ত্রস্ত অবস্থায় কাঁপতে কাঁপতে উপরের দিকে গেল এবং গম্বুজের ভেতরে ঢুকলো।

ভেতরে ঢুকে তো বৃদ্ধের চোখ ছানাবড়া। সে দেখলো বাদশার সুন্দরী কন্যা আর এক সুদর্শন যুবক গম্বুজের ভেতর ফ্লোরে শুয়ে আছে। বুড়ো বুঝতে পারছিল না সে কি সত্যি দেখছে নাকি স্বপ্ন। সে হাত দিয়ে ছুঁয়ে দেখলো সত্যিই তারা মানুষ এবং বেঁচে আছে। খুশিতে আটখানা হয়ে গেল বৃদ্ধ। দেরি না করে দ্রুত ছুটে গেল বাদশার কাছে। বাদশাকে বললো: ‘হে বাদশা! গম্বুজের দরোজায় তো দৈত্য ঘুমোয় নি। বরং দৈত্যের একটা কাটা পা সেখানে পড়ে আছে। বিশাল ওই পা পুরো জায়গা জুড়ে নিয়েছে। আর তোমার কন্যা গম্বুজের ভেতরে নিরাপদে আছে, বেঁচে আছে। এক সুদর্শন যুবকও আছে ভেতরে তোমার কন্যার সাথে’। একথা শোনার পর বাদশার কী প্রতিক্রিয়া হলো তা শুনবো খানিক বিরতির পর। আপনারাও ভাবুন।

কী বন্ধুরা! ভেবেছেন তো! দেখুন আপনাদের চিন্তার সঙ্গে মেলে কিনা। বাদশা তার কন্যার বেঁচে থাকার সংবাদ শুনেই খুশিতে নেচে উঠলো। কী যে করবে আর বলবে ভেবে কুল পাচ্ছিল না। আনন্দের সাথে বলে উঠলো: ‘এ কাজ নিশ্চয়ই ওই যুবকের। হ্যাঁ,নিশ্চয়ই ওই যুবকের। আমি চাচ্ছি তোমরা কেউ গম্বুজের ভেতর যাও এবং তারা দুজন যেভাবে শুয়ে আছে ঠিক সেভাবে রেখেই অর্থাৎ সে অবস্থাতেই তাদেরকে নিয়ে এসে আমার পালঙ্কের পাশে তাদের রেখে দাও’!

এদিকে ঘটলো আরেক ঘটনা। বাদশার এক মন্ত্রীর ছেলে ছিল। সে বাদশার মেয়েকে ভালবাসতো। ওই মন্ত্রী যখন শুনতে পেলো বাদশার মেয়ে মরে নি বরং বেঁচে আছে, তখন মনে মনে বললো:যাক বাবা! শেষ পর্যন্ত আমার ছেলের ইচ্ছে তাহলে পূর্ণ হতে যাচ্ছে, সে রাজকন্যাকে পেতে যাচ্ছে। এই ভেবেচিন্তে মন্ত্রী বাদশার দিকে তাকিয়ে বললো: “বাদশা মহাশয়! ওদেরকে ঘুমন্ত অবস্থায় এখানে নিয়ে আসার কী দরকার! অপেক্ষা করুন! ভোর তো মাত্র হলো! সূর্য ভালো করে উঠুক।ওদের ঘুমও ভাঙুক। তারপর না হয় কাউকে পাঠিয়ে তাদেরকে নিয়ে আসার ব্যবস্থা করবো এবং ওই ছেলেকে অভিযুক্ত করে তার গর্দান নেওয়ার ব্যবস্থা করবো। আর আমার ছেলের সঙ্গে আপনার কন্যার বিয়ের আয়োজন করবো”।

বাদশাহ তার মন্ত্রীর কথা শুনে ভীষণ বিরক্ত হলো। বললো: ‘জল্লাদ! মন্ত্রীর জিহ্বা কেটে ফেল’!

জল্লাদের তো কাজই হলো বাদশার আদেশ পালন করা। সে দাঁড়িয়েই ছিল আদেশের অপেক্ষায়। যখন যে আদেশ পাবে তাই করবে। সে মন্ত্রীর জিহ্বা কেটে ফেলল।

এরপর বাদশাহ আদেশ দিলো তাড়াতাড়ি গিয়ে তার কন্যা আর ওই যুবকটাকে নিয়ে আসতে। সঙ্গে সঙ্গে কয়েকজন চলে গেল এবং তাদের দুজনকে নিয়ে হাজির হয়ে গেল প্রাসাদে। প্রাসাদে বাদশার পালঙ্কের পাশেই তাদের ঘুমোনোর ব্যবস্থা করলো। কিছুই টের পেল না তারা। কিছুক্ষণ পর মালেক মুহাম্মাদের ঘুম ভেঙে গেল। সে ঘুম থেকে জেগেই দেখলো বাদশার প্রাসাদে তারই পালঙ্কের পাশে সে।

তার বিস্ময় ভাঙিয়ে দিয়ে বাদশাহ বললো: ‘এই যুবক! তুমি যে-ই হও না কেন আমার জানার দরকার নেই। তুমি আমার মেয়ের জীবন বাঁচিয়েছো এবং আমাকে ও এই মুলুকের জনগণকে ওই দৈত্যের অত্যাচার থেকে বাঁচিয়েছো’! বাদশাহ এটুকু বলতেই তার মেয়েও জেগে উঠলো ঘুম থেকে। রাতে দৈত্যের সাথে ওই গম্বুজে যা যা ঘটেছিল সব খুলে বললো পিতাকে। বাদশাহ যুবকের বীরত্ব ও সাহসিকতার কথা শুনে বললো: ‘হে যুবক! তুমি এবার আমার কন্যাকে তোমার স্ত্রী হিসেবে কবুল করো! আমি তোমার সাথে ওর বিয়ের আয়োজন করবো এবং তোমার হাতে তার হাত সঁপে দেবো’।

মালেক মুহাম্মাদ রাজি হলো এবং বাদশা আদেশ দিলো পুরো শহরকে যেন ঝলমলে করে সাজানো হয়। সাতরাত সাতদিন উৎসব হলো। সপ্তম রাতে আকদ অনুষ্ঠান হলো। রাতে মালেক মুহাম্মাদ স্ত্রীকে বললো: ‘আমার অনেক কাজ পড়ে আছে,যেতে হবে। পথ খুবই বিপদ সংকুল।যদি ফিরে আসি তাহলে তুমি তো আমার স্ত্রীই থাকবে। আর যদি ফিরে না আসি তবে তুমি আবার বিয়ে করে নিও’! রাজকন্যা মালেক মুহাম্মাদকে ‘বীর’ বলে প্রশংসা করলো।

সকালবেলা মালেক মুহাম্মাদ গেল বাদশাহর দরবারে। বললো: হে বাদশাহ! আমি আজ পার্শ্ববর্তী শহরের উজিরের কাছে যেতে চাই। ওই শহরটা দেখতে চাই!

বাদশাহ আদেশ দিলো মন্ত্রীর শহরকে যেন সাজানো হয়। তারপর মালেক মুহাম্মাদ দরবারের কতিপয় অভিজাত ব্যক্তিকে নিয়ে মন্ত্রীর শহরের দিকে রওনা দেয়।

‘সোনার খাঁচায় ময়না পাখি’ (৪)

মালেক মুহাম্মাদ যখন বললো ‘হে রাজকন্যা! আমি এসেছি তোমাকে দৈত্যের হাত থেকে বাঁচাতে’। অমনি রাজকন্যা কাঁদতে কাঁদতে মালেককে বললো: ‘হে যুবক! তুমি তোমার নিজের জীবনের জন্য একটু ভাবো। এই দৈত্য ভয়ংকর। তোমাকে দেখামাত্রই তোমার ওপর হামলা করবে এবং তোমাকে প্রাণে মেরে ফেলবে। তোমার মাথা শরীর থেকে আলাদা করে ফেলবে। তুমি তোমার ওই যৌবনের প্রতি সদয় হও, নিজের প্রাণ রক্ষা করো!’

মালেক বললো: যার মওলা হচ্ছে হযরত আলি (আ),দৈত্য-দানবে তার আর ভয় কী! আমি কোনো পরোয়া করি না। আল্লাহর ইচ্ছায় এবং মওলা আলির সাহায্যে এসেছি তোমাকে ওই দৈত্যের হাত থেকে রক্ষা করতে। তুমি বেঁচে গেলে তোমার পিতা মাতাও খুশি হবে,আনন্দিত হবে।

রাজকন্যা মালেক মুহাম্মাদের কথা শুনে কিছুটা আশ্বস্ত হলো এবং কান্নাকাটি বন্ধ করে প্রশান্ত হলো কিছুটা। একটু পরে সে মালেক মুহাম্মাদকে বললো: ‘ঠিক আছে! তুমি যা ভালো মনে কর,করো’!

রাজকন্যার কথা আর সম্মতি পেয়ে মালেক মুহাম্মাদ তার পাশে গিয়ে বসলো। মালেককে পাশে পেয়ে রাজকন্যার একটু সাহস হলো। অন্তত মুখ ফুটে কারও সাথে কথা বলার মতো অবস্থা হলো তার। বললো: ‘হে যুবক! তুমি তো দেখছি আত্মহত্যা করতে চাচ্ছো। শোনো! এই দৈত্য আসার তিনটা লক্ষণ আছে। সে যখন ভূমি থেকে আকাশে উড়তে যায় বাতাস তখন একটু গরম হয়ে ওঠে। যখন সে উড়তে থাকে আবহাওয়া তখন ভীষণ গরম হয়ে যায়। এমন গরম যে মনে হয় গা পুড়ে যাবে। তৃতীয় লক্ষণ হলো যখন সে কাছাকাছি চলে আসে বিশ্রি গন্ধে চারদিকের পরিবেশ দুর্গন্ধময় হয়ে ওঠে। ওই গন্ধে জনগণের বেঁচে থাকা দায় হয়ে যায়।

রাজকন্যার কথা শুনে মালেক মুহাম্মাদ বললো: হে রাজকন্যা! আমার এখন ঘুম পাচ্ছে। যদি ঘুম এসেই যায় তাহলে ওই প্রথম আলামত পেয়েই তুমি আমাকে জাগিয়ে তুলবে।

রাজকন্যা বললো: ঠিক আছে।

কিন্তু মালেক ঘুমাতে না ঘুমাতেই প্রথম নিদর্শনটা উপলব্ধি করলো রাজকন্যা। সে মালেক মুহাম্মাদের ঘুমন্ত চেহারার দিকে তাকালো। কী গভীর ঘুমে সে। কী করে তাকে এই চমৎকার ঘুম থেকে উঠাবে সে,বুঝে উঠতে পারছিল না। বিস্ময় বিহ্বল হয়ে পড়ে রইলো রাজকন্যা। এমন সময় দ্বিতীয় লক্ষণও দেখা দিলো। এবারও রাজকন্যার মন চাইলো না কাঁচা ঘুম থেকে মালেক মুহাম্মাদকে জাগাতে। কিন্তু একটু পরেই বিশ্রি গন্ধটা নাকে আসতে লাগলো। বোঝা যাচ্ছিলো দৈত্যটা কাছাকাছি এসে গেছে। শ্রোতাবন্ধুরা! গন্ধটা নাক থেকে সরানোর জন্য একটু বিরতিতে যাচ্ছি।

কী আশ্চর্য! গন্ধ তো গেলোই না বরং আরও বেড়ে গেল। অথচ রাজকন্যা মালেক মুহাম্মাদকে এবারও ঘুম থেকে জাগাতে চাইলো না। এদিকে ভয়ে কষ্টে তার চোখ থেকে ঝরঝর করে অশ্রু ঝরতে শুরু করলো। ওই অশ্রুরই একটা ফোঁটা পড়লো ঘুমন্ত মালেকের চোখেমুখে। পড়তেই মালেকের ঘুম ভেঙে গেল এবং এক লাফে সে উঠে দাঁড়ালো। রাজকন্যাকে কাঁদতে দেখে সে জিজ্ঞেস করলো: কী হয়েছে কাঁদছো কেন?

রাজকন্যা বললো: হে যুবক! দৈত্যের আসার সকল আলামত ফুটে উঠেছে। কিন্তু তুমি যেভাবে ঘুমুচ্ছিলে আমার মন চাচ্ছিল না তোমাকে জাগাই। এক্ষুণি কিন্তু দৈত্য এসে পড়বে।

মালেক মুহাম্মাদ দ্রুত তার গেলাফ থেকে তলোয়ারটা বের করে দাঁড়ালো। রাজকন্যা তলোয়ার দেখে ভয় পেয়ে এক কোণে জড়োসড়ো হয়ে দাঁড়িয়ে রইলো।

মালেক মুহাম্মাদ আলী (আ) কে স্মরণ করলো। দৈত্যের চীৎকার তার কানে ভেসে এলো। বিশ্রি গন্ধে পরিবেশ দূষিত হয়ে গেল। যেন মরে যাবার উপক্রম। দৈত্য এরিমাঝে এসে পড়লো। এসেই তার নজর পড়লো মালেক মুহাম্মাদের ওপর। দৈত্য বিশ্রি এক হাসি দিয়ে বললো: মানুষের জাত নাকি ভয় পায় যে সে কাজে হাত দিতে। কিন্তু এখন দেখছি রাজকন্যার পালা যখন এলো একটা যুবক আর একটা ঘোড়াও বোনাস হিসেবে এসেছে আমার জন্য হা হা হা….।

মালেক মুহাম্মাদ চীৎকার করে বললো: মুখ বন্ধ কর তুই! আমি এসেছি তোকে হত্যা করার জন্য। আল্লাহর ইচ্ছায় আমিই হবো তোর হত্যাকারী।

দৈত্য মালেকের কথা শুনে বিরক্ত হলো। তার হাতের গদা ছুঁড়ে মারলো মালেকের মাথা লক্ষ্য করে। মালেক মাথা সরিয়ে নিয়ে নিজেকে রক্ষা করলো। এরপর দৈত্যকে লক্ষ্য করে তলোয়ার চালালো। দৈত্যও সরে গিয়ে নিজেকে রক্ষা করতে চাইলো কিন্তু পারলো না, তার উরুতে তলোয়ার গিয়ে আঘাত করলো। ধারালো তলোয়ারের আঘাতে দৈত্যের এক পা কেটে পড়ে গেল মাটিতে। দৈত্য মালেক মুহাম্মাদের বীরত্ব দেখে ভয় পেয়ে গেল এবং এক খণ্ড মেঘ হয়ে হাওয়ায় মিশে গেল।

রাজকন্যা আর মালেক মুহাম্মাদ একে অপরের দিকে বিস্ময়ে বিহ্বল হয়ে তাকাতে লাগলো। দৈত্যের গায়ের গন্ধ মিলে গেলে দুজনেই আল্লাহর শোকর আদায় করলো।

সকালবেলা মুয়াজ্জিন যখন মসজিদের ছাদে উঠে আজান দিতে গেল সামনের গম্বুজের নীচের দিকে তাকাতেই তার সবকিছু উল্টাপাল্টা হয়ে গেল। বিশাল কী যেন একটা তার নজরে পড়লো। ময়লার ওপর পড়ে আছে ওই বস্তুটা। ভয়ে কাঁপতে শুরু করলো মুয়াজ্জিন। কাঁপতে কাঁপতে আজান দিতে গিয়ে গোলমাল করে ফেললো সে। মুয়াজ্জিনের ভুল আজানের ধ্বনি কানে গেল বাদশার।

‘সোনার খাঁচায় ময়না পাখি’ (৫)

জামাই শহর দেখতে যাবে তাই বাদশাহ আদেশ দিলো সংশ্লিষ্ট শহরকে যেন সাজানো হয়। তারপর মালেক মুহাম্মাদ দরবারের কতিপয় অভিজাত ব্যক্তিকে নিয়ে মন্ত্রীর শহরের দিকে রওনা দেয়। মালেক মুহাম্মাদের ছয় ভাইয়ের কথা নিশ্চয়ই মনে আছে আপনাদের।

তারা এই শহরেই কেউ ভিক্ষা করে খায়, কেউবা টুকটাক চাকর বাকরের কাজ করে। তারা যখন শুনলো যে বাদশার মেয়ের জামাই যাবে ওই শহর দেখতে,তারা প্রস্তুত হলো শহরে যেতে এবং রাজকন্যার জামাইকে দেখতে। তাদের যে তিন ভাই ভিক্ষা করতো তারা বললো যে এই শহরের তো তিনটা প্রবেশদ্বার রয়েছে। সুতরাং তিন দ্বারে তিনজন যাবো এবং হুক্কা সাজাবো জামাইর জন্য। বাদশার জামাই যদি খুশি হয় তাহলে নিশ্চয়ই কিছু দেবে।

যেই কথা সেই কাজ। তিন ভাই লেগে গেল হুক্কা সাজানোর কাজে। হুক্কা সাজিয়ে পরিকল্পনামতো বিভিন্ন গেইটে তারা দাঁড়ালো। মালেক মুহাম্মাদ প্রথম প্রবেশদ্বারে যেতেই হুক্কা নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা যুবককে দেখতে পেল। ওই যুবক মালেকের কাছাকাছি যেতেই মালেক তাকে চিনতে পারলো। যুবক মালেকের হাতে হুক্কাটা দিলো। দু’এক টান দিয়ে মালেক হুক্কাটা যুবকের হাতে ফেরত দিয়ে সামনে অগ্রসর হলো। বাকি দুই গেইটেও অন্য দু’ভাইকে হুক্কা হাতে পেল এবং এক-দুই টান দিয়ে তাদেরকেও হুক্কা ফেরত দিয়ে অগ্রসর হয়ে গেল নিজের পথে। এই দুই ভাইও মালেক মুহাম্মাদকে চিনতে পারলো না।

এদিকে মালেক মুহাম্মাদ গিয়ে পৌঁছলো উৎসব অনুষ্ঠানে। সেখানে গিয়ে ঘোড়া থেকে নেমে তার জন্য সাজানো রাজকীয় আসনে বসলো। হঠাৎ দেখ পেল হাম্মামের রক্ষণাবেক্ষণকারী তার চাকরকে বলছে: বাদশার জামাই হাম্মামে আনছে। তুই এখনো এখানে দাঁড়িয়ে আছিস! কোনো কাজ করছিস না! যা,হাম্মামের উষ্ণতা আরও বাড়িয়ে দে। মালেক মুহাম্মাদের দৃষ্টি পড়লো ওই চাকরের ওপর। দেখেই চিনতে পারলো এ-ও তার আরেক ভাই। অপরপ্রান্তেও তাকিয়ে দেখলো বাবুর্চি তার চাকরকে বলছে: দুপুর হয়ে গেছে, এখন বাদশার জামাই খাবার খেতে আসবে। অথচ তুই এখনো এখানে দাঁড়িয়ে আছিস!

হাতের ওপর হাত রেখে আরাম করছিস! মালেক মুহাম্মাদের দৃষ্টি গেল সেদিকে। দেখলো ওই চাকরও তার আরেক ভাই। মালেক মুহাম্মাদ ঘাড় ফেরালো অন্যদিকে। দেখলো ঠিক সেই মুহূর্তেই নেহারির বাবুর্চি তার চাকরকে বলছে: কাল সকালে বাদশার জামাই আমার কাছ থেকে নেহারি খেতে চাইবে। অথচ তুই এখনো এখানে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে তামাশা দেখছিস! মালেকের দৃষ্টি গেল ওই চাকরের দিকে। দেখলো এই চাকরও তারই আরেক ভাই।

মালেক মুহাম্মাদ তার সকল ভাইকেই ঠিকঠাকমতো চিনতে পারলো। কিন্তু ভাইয়েরা তাকে চিনতে পারলো না। মালেক মুহাম্মাদের আর সহ্য হচ্ছিল না। তার সঙ্গে আসা বাহিনীকে আদেশ দিলো মন্ত্রীর শহরে যেন হামলা চালায়। কিন্তু জিহ্বাকাটা মন্ত্রী আদেশ শুনে মালেক মুহাম্মাদের হাত পা জড়িয়ে ধরলো। অনুনয় বিনয় করে বোঝালো সে যেন তার সেনাদেরকে ফেরায়। মালেক মুহাম্মাদ বললো: এক শর্তে আমি তাদের থামাতে পারি। শর্তটা হলো এক্ষুণি তোমার বাবুর্চি, হাম্মামের ওস্তাদ এবং নেহারি প্রস্তুতকারী ওস্তাদকে আমার সামনে হাজির করবে।

জিহ্বাকাটা মন্ত্রী সঙ্গে সঙ্গে তাদের তিনজনকেই ডেকে পাঠালো। তিনজনই যখন জামাইর সামনে এলো জামাই আদেশ দিলো তিনজনকেই যেন হালকা চড় দেওয়া হয়। তাই করা হলো এবং বুঝিয়ে দিলো তারা যেন আর কখনো তাদের চাকরদের চড়-থাপ্পড় না মারে।

মালেক মুহাম্মাদ ভাইদের সবাইকে চিনতে পেরে মনে মনে বললো: এরা তো সবাই জুয়াড়ি। সম্ভবত জুয়া খেলে ভাইয়েরা তাদের সব টাকা পয়সা হারিয়ে বসেছে। সে কারণেই তাদের আজ এই দশা। এই ভেবেচিন্তে মালেক আদেশ দিলো সকল জুয়াড়িকে যেন তার সামনে হাজির করা হয়। সবাইকে হাজির করা হলে মুহাম্মাদ তাদের থাপ্পড় মেরে তিরষ্কার করে। তারপর জুয়াড়িদেরকে তার ভাইদের দেখিয়ে বলে: এদের কাছ থেকে যত টাকা তোরা জুয়া খেলে নিয়েছিস,সব টাকা ফেরত দে! জুয়াড়িরা ভয়ে কাঁপতে শুরু করে দিলো এবং অচেনাদের কাছ থেকে যা কিছু নিয়েছিল সব ফেরত দিলো।

মালেক মুহাম্মাদ এবার আদেশ দিলো: তিন প্রবেশদ্বারে যে তিনজন হুক্কা সাজিয়ে তাকে দিয়েছিল তাদেরকে যেন হাজির করা হয়। আদেশ দেয়ামাত্র তাদের হাজির করা হলো। মালেক মুহাম্মাদ ছয় ভাইকে নিয়ে আড়ালে গেল। এরপর ছয় ভাইকে বললো: “খুব ভালো করে আমার দিকে তাকাও!…আমি তোমাদেরই ভাই”। সবাই তাকালো এবং মালেক মুহাম্মাদকে চিনতে পারলো। লজ্জায় ছয় ভাই তাদের মাথা নীচু করে রাখলো। মালেক মুহাম্মাদ হেসে দিয়ে বললো: যা হবার তো হয়েই গেছে! এখন আর লজ্জা পেয়ে কাজ নেই। সবাই আমার সঙ্গে চলো রাজপ্রাসাদে। তাদেরকে রাজকীয় পোশাক পরানো হলো। ওই পোশাক পরেই তারা প্রাসাদে ঢুকলো।

মালেক মুহাম্মাদ বাদশার সাথে তাদের পরিচয় করিয়ে দিয়ে বললো: হে বাদশাহ! আমার ভাইয়েরা আমাদের দেশ থেকে এসেছে। আমাকে তাদের সাথে যেতে হবে এবং সোনার খাঁচা আর ময়না পাখি নিয়ে আসতে হবে। বাদশাহ মালেক মুহাম্মাদকে সফরে যাবার অনুমতি দিলো এবং সকল প্রস্তুতি নিয়ে রওনা হলো ঘোড়ায় চড়ে।

‘সোনার খাঁচায় ময়না পাখি’ (৬)

মালেক মুহাম্মাদ যেতে যেতে গিয়ে পৌঁছলো একটি শহরের কাছে। ওই শহরের বাদশাহ কী কাজে যেন প্রাসাদের ছাদের ওপরে গিয়ে দাঁড়িয়েছিল। বাদশা দেখতে পাচ্ছিল দূর থেকে সাতজন ঘোড় সওয়ার শহরের দিকে আসছে।

বাদশাহ মনে মনে বলছিল: ‘দেখেশুনে মনে হচ্ছে যুবকেরা অভিজাত এবং সম্ভ্রান্তই হবে। ভালোই হলো,আমার সাত কন্যাকে ওই সাত যুবকের হাতে সঁপে দেব’। এই ভেবে বাদশাহ ওই যুবকদের অভ্যর্থনা জানানোর জন্য কয়েকজন কর্মকর্তা পাঠিয়ে দিলেন। তারা যখন শহরে প্রবেশ করলো সোজা নিয়ে আসা হলো প্রাসাদে।

বাদশাহ যখন জানতে পেল সাত ভাই-ই শাহজাদা,ভীষণ খুশি হলো এবং ভালোমতো তাদের আদর আপ্যায়ন করলো। অবশেষে বললো: শাহজাদাগণ! আমার সাতটি মেয়ে আছে। তোমাদের সাতজনের সাথে তাদের আক্‌দ করতে চাই। মালেক মুহাম্মাদ এবং তার ভাইয়েরা বাদশার প্রস্তাব গ্রহণ করলো। বাদশার আদেশে পুরো শহরকে জাঁকজমকপূর্ণ করে সাজানো হলো। সাত দিন সাত রাত্রি ধরে শহরের লোকজন উৎসবের আমেজে মেতে রইলো এবং সপ্তম রাতে ঘটা করে আকদ অনুষ্ঠান পালন করা হলো। বাদশার সবচেয়ে ছোট মেয়েটি হলো মালেক মুহাম্মাদের স্ত্রী। মালেক মুহাম্মাদ তাকে বললো: একটা গুরুত্বপূর্ণ কাজে আমাকে অনেক দূরের পথ পাড়ি দিতে হবে। সংসার ধর্ম পালন করা আমার পক্ষে সম্ভব না। যে সফরে যাচ্ছি সেটা খুবই ভয়ংকর পথ। যদি ফিরে আসি তো ভালো আর যদি না আসি তাহলে তুমি আবার বিয়ে করে নিও।

মালেকের ভাইয়েরা বেশ কটা দিন তাদের স্ত্রীদের নিয়ে ভালোভাবেই কাটালো। তারপর বাদশার অনুমতি নিয়ে আপনাপন স্ত্রীদের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে সফরে বের হয়ে গেল। দিন রাত তারা ঘোড়া ছুটিয়ে যেতে লাগলো। চতুর্থ দিন দুপুরের খানিক আগে তারা গিয়ে পৌঁছলো একটা দূর্গের কাছে। মালেক মুহাম্মাদ দূর্গের উঁচু দেয়ালের উপর দিয়ে নোঙর নিক্ষেপ করে উঠে হযরত আলিকে স্মরণ করলো এবং দেয়াল টপকে কেল্লায় ঢুকে পড়লো। দরোজা খুলে দিলে ভাইয়েরাও ভেতরে ঢুকলো। কেল্লার ভেতর সাতটি কক্ষে সাতটি ভাতের পাতিল রাখা ছিল। কিন্তু কাউকেই দেখতে পাওয়া গেল না। মালেক মুহাম্মাদ ভাইদের বললো: আল্লাহর ওপর ভরসা করে চলো একেকজন একেক রুমে যাই। সবাই তাই করলো। কিন্তু দুপুর হতে না হতেই ঘটলো আশ্চর্য এক ঘটনা।

মালেক মুহাম্মাদ ভাইদের নিয়ে কিছুটা উদ্বিগ্ন ছিল। ওই উৎকণ্ঠার ভেতরেই মালেক দেখলো তার রুমের দরোজা খুলে অসম্ভব সুন্দরী এক মেয়ে ঢুকছে। মেয়েটির মুখে ছিল হাসি। বেশ প্রাণবন্তই লাগছিল তাকে। রুমের এক কোণে গিয়ে বসে মেয়েটি হঠাৎ কেঁদে উঠলো। মালেক মুহাম্মাদ অবাক হয়ে ভাবলো: ওই প্রাণবন্ত হাসিই বা কেন আর এই কান্নাই বা কেন! সে উঠে দাঁড়িয়ে আস্তে আস্তে গেল মেয়েটির কাছে। বললো: তুমি কাঁদছো কেন?

মেয়েটি বললো: হে শাহজাদা মালেক মুহাম্মাদ! আমরা সাত বোন! আমি সবার ছোট। আমরা পরী হবার কারণে সবকিছুর খবর জানি। সে কারণে আমরা সাতবোনই জানি তুমি ময়না পাখি আর সোনার খাঁচার সন্ধানে যাচ্ছো। তুমি জেনে রাখো যে আমি হলাম তোমার স্ত্রী। সে কারণে আমার অন্য ছয় বোন আমাকে নিয়ে হিংসা করছে এবং তোমার আগমনের অপেক্ষায় আছে, তোমাকে মারার জন্য।

পরী আরও বললো: এক কাজ করো! আমার বোনেরা এসে পৌঁছার আগেই তুমি এবং তোমার ছয় ভাই লুকিয়ে পড়। মালেক মুহাম্মাদ তাই করলো। তাড়াতাড়ি ভাইদের নিয়ে লুকিয়ে পড়লো। কিছুক্ষণ ওই ছয় পরী এসে নিজ নিজ রুমে ঢুকে বুঝতে পারলো এখানে কারও হাত পড়েছে। সবাই গিয়ে ছোট বোনকে জিজ্ঞেস করলো: ঘরে কেউ এসেছে নাকি! তুমি যেহেতু আগেভাগে এসেছো নিশ্চয়ই দেখেছো কে এসেছে। সত্যি করে বলো নৈলে কিন্তু মেরে ফেলবো। পরীদের ছোট্ট বোন বললো: আমি তাদেরকে দেখাতে পারি এক শর্তে। শর্তটা হলো তোমরা তাদের কোনো ক্ষতি করবে না। যদি কথা দাও তাহলে আমরা শিকারে না গিয়ে প্রতিদিন ওদেরকে পাঠাবো আর আমরা নিশ্চিন্তে আরামে বসবাস করতে পারবো।

বোনেরা মেনে নিলো। ছোট পরী এবার মালেক মুহাম্মাদসহ তার সব ভাইকে সামনে হাজির করলো। ছোট পরী বললো: আমি শিকারের বিনিময়ে তোমাদের জীবন ভিক্ষা নিয়েছি। তোমরা এক্ষুণি শিকারে যাও! বলার সঙ্গে সঙ্গে মালেক মুহাম্মাদ তার ভাইদের নিয়ে ঘোড়ায় চড়ে বসলো। ছোট্ট পরী মালেকের কানে কানে বললো: প্রাণে বাঁচতে চাইলে তাড়াতাড়ি ভাগো! এদিক দিয়ে গেলে সামনে একটা নদী পড়বে। নদী পর্যন্ত যেতে পারলে আর ভয় নেই। আমার বোনেরা আর তোমাদের ক্ষতি করতে পারবে না। এই বলে মাথা থেকে এক গোছা চুল ছিঁড়ে মালেকের হাতে দিয়ে বললো: কখনো যদি আমার কথা মনে পড়ে কিংবা যদি কোনো বিপদে পড়ো এই চুলের গোছার ওপর হাত রাখবে,আমি হাজির হয়ে যাবো।

সাত ভাই শিকারের অজুহাত দেখিয়ে পালালো নদীর দিকে। এদিকে সাত পরী বসে পড়লো খোশগল্পে। কিছুক্ষণ পর ছোট বোন দূরবীন নিয়ে ছাদে গিয়ে দেখলো কদ্দুর গেছে সাত ভাই। দেখলো নদীর কাছে যেতে এখনো বাকি আছে। ছাদ থেকে ফিরে এসে পরীদের বললো: সাত ভাই মিলে শিকারে ব্যস্ত। বোনেরা আবার মশগুল হয়ে পড়লো নিজেদের গল্পে। কিছু সময় পর বোনেরা আবারও ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়লো। এক বোন ছাদে যেতে চাইলে ছোট বোন তাড়াতাড়ি দূরবীন হাতে নিয়ে আগেআগে চলে গেল এবং দেখলো এখনো নদীর কাছে পৌঁছায় নি তারা। ফিরে এসে বললো: ওরা ফিরছে। বোনেরা আবারও মজে উঠলো গল্পে। সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসতেই এবার বড় বোন নিজেই গেল ছাদে এবং দেখলো সাত ভাই নদীর দিকে যাচ্ছে। চীৎকার করে উঠলো সে এবং দ্রুত ঘোড়ায় চড়ে সাত ভাইয়ের পেছনে ছুটলো। ছোট বোনও বড় বোনের সাথে সাথে গেল।

‘সোনার খাঁচায় ময়না পাখি’ (৭)

মালেক মুহাম্মাদের হঠাৎ করেই মনে পড়ে গেল ছোট পরীর কথা। আনমনে তাই পেছনে তাকালো। তাকাতেই তার চোখ তো ছানাবড়া। পরীদের সাত বোন তাদের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে একেবারে। মালেক ছয় সহোদর ভাইকে নদীর দিকে পাঠিয়ে নিজে তাদের পেছনে রয়ে গেল। ওই ছয় ভাই বলছিল: তুমি কেন পেছনে থাকছো? ওরা তো এসে গেল বলে…!

মালেক মুহাম্মাদ বলল: তোমরা যাও! আমি মারা গেলে তো সমস্যা নেই। কেননা আমি তো তোমাদের কেউ নই। কিন্তু তোমাদের ছয় ভাইয়ের কোনো একজনের ক্ষতি হলে সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এরকম সংশয় উৎকণ্ঠার মধ্যেই তারা গিয়ে পৌঁছে গেল নদীতে। কিন্তু মালেক মুহাম্মাদ নদীতে পা বাড়াতেই পরীদের বড় বোন তার ঘোড়ার লেজ টেনে ধরে ফেললো। এ অবস্থা দেখে ছোট পরীও তার হাতের তলোয়ার দিয়ে এক কোপে ঘোড়ার লেজ কেটে দিল।

ব্যাস্ … মালেক মুহাম্মাদ নিশ্চিন্তে গিয়ে পৌঁছল নদীতে। পরীদের বড় বোন ছোট বোনকে বলল: তুই কী করলি এটা!

ছোট পরী বলল: আমি তো ওর মাথাটাকে দুই টুকরা করে ফেলতে চেয়েছি কিন্তু আল্লাহ বোধ হয় ওদেরকে আমাদের হাত থেকে বাঁচাতে চেয়েছেন, নৈলে ঘোড়ার লেজে কেন লাগবে! যাকগে, এখন দুঃখ করে আর কী হবে!

পরীদের নদী পার হবার অনুমতি নেই। অগত্যা তারা ফিরে গেল আপনগৃহে। এদিকে নদী পেরিয়ে মালেক মুহাম্মাদ তার ভাইদের বলল: ভীষণ এক বিপদ থেকে বাঁচা গেল। যাক। তোমরা এখন যার যার পরিবারের কাছে ফিরে যাও! আমি যাচ্ছি সোনার খাঁচা আর ময়না পাখির সন্ধানে। যদি ভালোয় ভালোয় ফিরে আসি তাহলে একসাথে যাব। তাই হলো। ছয় ভাই ফিরে গেল শহরে আর মালেক মুহাম্মাদ গেল মরুপ্রান্তরের দিকে।

যেতে যেতে অনেকদূর পেরিয়ে যাবার পর মালেক দেখল এক দরবেশ তার দিকে আসছে। কাছে এসে ওই দরবেশ তাকে বলল: হে যুবক! এসো! আমরা একটা বিষয়ে চুক্তি করি।

মালেক বলল: কীসের চুক্তি!

দরবেশ বলল: তুমি তোমার তলোয়ার আর ঘোড়াটা আমার কাছে দেবে আর আমি আমার এই পাত্র, দস্তরখান আর লম্বা লাঠিটা তোমাকে দেব।

মালেক বলল: এগুলোর বৈশিষ্ট্য কী?

দরবেশ বলল: পাত্রটা হাতে নিয়ে যত মেহমানই তোমার আসে শুধু ভেতরে হাত রেখে বলবে: হে সোলায়মান নবী! আমার মেহমান আছে। এরপর পাত্র থেকে যতই খাবার নেবে কমবে না। দস্তরখানের বৈশিষ্ট্য হলো এটা বিছিয়ে সোলায়মান নবীকে স্মরণ করে বলবে আমার মেহমান আছে। তারপর যতই রুটি নেবে শেষ হবে না। আর লাঠিটা হাতে নিয়ে বলবে: আমি অমুকের মাথাটা চাই। অমনি মাথাটা লাউয়ের মতো কাটা হয়ে যাবে।

পাঠক! আপনাদের কী মনে হয়, মালেক মুহাম্মাদ কি দরবেশের প্রস্তাবে রাজি হবে? হ্যাঁ! রাজি হয়ে গেছে সে এবং নিজের ঘোড়া আর তলোয়ার দরবেশ দিয়ে পাত্র, দস্তরখান আর লাঠিটা নিয়ে দিল। আর দরবেশ তলোয়ারটা কোমরে ঝুলিয়ে ঘোড়ায় চড়ে চলে গেল। মালেক মুহাম্মাদ দরবেশের দেয়া জিনিসগুলোকে একবার পরীক্ষা করে দেখতে চাইলো। লাঠিটা হাতে নিয়ে বলল: হে সুলায়মান নবী! এই দরবেশের মাথাটা ফেলে দিতে চাই। বলতে না বলতেই দরবেশের মাথা কেটে গেল। মালেক ভেবেছিল দরবেশ হয়তো ওই তলোয়ার দিয়ে কাউকে অন্যায়ভাবে খুন করবে। সেজন্য পরীক্ষার শুরুতেই বেছে নিয়েছিল লাঠিটাকে।

মালেক মুহাম্মাদ এবার ঘোড়ায় চড়ে তলোয়ারটা কোমরে ঝুলিয়ে ফিরে চললো পরীদের কেল্লার দিকে। ছোট পরী মালেককে দেখে বলল: তোমার কি জীবনের ভয় নেই। আমার বোনেরা তোমাকে দেখলে জীবিত রাখবে না। মালেক বলল: আল্লাহ মহান।

ছোট পরী বলল: যদি আমার বোনেরা না থাকতো তাহলে আমরা নিশ্চিন্তে কাটাতে পারতাম। কোনোরকম টেনশন থাকতো না।

মালেক বলল: তুমি কিছু মনে না করলে বলি.. এদের হত্যা করা আমার কাছে পানি খাবার মতোই সহজ।

ছোট পরী রাজি হয়ে গেল এবং মালেক তার হাতের লাঠিটা তুলে বলল: হে সোলায়মান নবী! আমি চাই ওই ছয় বোনের মাথা লাউয়ের মতো কেটে ফেলতে।

এই বলে মালেক পরীকে বলল: যাও গিয়ে দেখো তোমার বোনদের কী অবস্থা!

পরী ভেতরে গিয়ে দেখলো ছয় বোনেরই মাথা কেটে পড়ে আছে। খুশিতে সে নাচতে নাচতে ফিরে এসে মালেককে বলল: হ্যা! বোনেরা মারা গেছে। এখন আমরা নিশ্চিন্তে জীবন যাপন করতে পারব।

মালেক মুহাম্মাদ বলল: কিন্তু আমার তো দূরের সফর আছে, চলে যেতে হবে।

পরী বলল: আমি জানি! তুমি সোনার খাঁচা আর ময়না পাখির সন্ধানে আছো। কিন্তু তুমি আমার সাহায্য ছাড়া এ কাজে যেতে পারবে না।

মালেক বলল: কেন?

পরী বলল: কারণ যেখানে এই খাঁচা আর ময়না রয়েছে সে স্থানটি এখান থেকে ৩৬০ কিলোমিটার দূরে। তার ১২০ কিলোমিটার জুড়ে চিতাবাঘের বাস। ১২০ কিলোমিটার জুড়ে বাঘ সিংহের বাস আর ১২০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে রয়েছে দৈত্যদানবের বাস।

তুমি যেই সোনার খাঁচা আর ময়নার খোঁজ করছো সেই খাঁচা পরীদের বাদশার মেয়ের মাথার উপরে রাখা। শহর থেকে ওই মেয়ের প্রাসাদে যেতে সাতটি দরোজা আছে। প্রতিটি দরোজার পাহারায় রয়েছে দৈত্যরা। সপ্তম দরোজার প্রহরী সাত মাথার দৈত্য। কী করে তুমি এগুলো পেরুবে, আমি তোমাকে বলে দিচ্ছি, মনোযোগ দিয়ে শোনো।

‘সোনার খাঁচায় ময়না পাখি’ (৮)

পরী মালেককে সেইসব বলে ঘুরে ঘুরে পায়চারী করতে লাগল এবং হঠাৎ করেই সে একটা বড় মুরগিতে পরিবর্তিত হয়ে গেল। মুরগি তার পাখা বিস্তার করে দিল এবং মালেক মুহাম্মাদ ওই বিস্তারিত পাখার ওপর চড়ে বসলো। মুরগি উড়াল দিল। ২৪০ কিলোমিটার আকাশপথ মানে চিতাবাঘ আর সিংহদের এলাকা পেরিয়ে গেল।

শেষের ভূখণ্ডটা যেহেতু দৈত্যদের ছিল সেজন্য পরী তার আসল রূপ ধারণ করল আর মালেক মুহাম্মাদকে একটা সুঁইয়ের রূপ দিয়ে তার গলার নীচে পুঁতে রাখল। এভাবে বাকি পথও পার হলো। এক সময় তারা গিয়ে পৌঁছলো শহরে এবং তারপর প্রথম দরোজায় গিয়ে উপস্থিত হলো। পরী এবার মালেক মুহাম্মাদকে তার আসলে রূপে পরিবর্তন করে দিল এবং সে নিজেও পরিণত হলো একটা কবুতরে। পরীদের বাদশার মেয়ের প্রাসাদের একটা খাঁজে গিয়ে বসে সে এবার দেখতে চাইলো দৈত্যগুলোর সাথে কী করে মালেক মুহাম্মাদ।

মালেক যখন প্রথম দরোজায় পৌঁছলো, দেখলো সেই এক পা-ওয়ালা খোঁড়া দৈত্যটাই এই দ্বাররক্ষী। দৈত্যটার নজর মালেক মুহাম্মাদের ওপর পড়তেই সে কাঁপতে শুরু করল। মালেক দৈত্যকে বলল ভয় পেও না, তোমার সাথে আমার কোনো কাজ নেই। তুমি শুধু আমাকে ওই ছয়টি দরোজা পেরুবার ব্যবস্থা করে দাও। দৈত্য বলল: তুমি পাঁচটা দরোজা পেরুতে পারবে কিন্তু শেষ দরোজা পেরুতে হলে কিছু গিফ্‌ট বা নজরানা নিয়ে যেতে হবে। ওই দরোজা পাহারা দেয় আমার ভাই। মালেক মুহাম্মাদ বলল: ঠিক আছে। তাড়াতাড়ি করো! যেসব খোরমা আর হালুয়া নজরানা হিসেবে পেশ করো সেরকম কয়েক ট্রে ভর্তি করে নিয়ে আসো এবং গেইটগুলো পার হবার পাস বা গেইটপাস নিয়ে আসো।

দৈত্য ভয়ে ভয়ে তাড়াতাড়ি সবকিছু আঞ্জাম দিল। দৈত্য ওই গেইটপাস দেখিয়ে দেখিয়ে পাঁচ পাঁচটি দরোজা পার হয়ে গেল। সর্বশেষ দরোজায় গিয়ে গেইটপাস দেখালেও প্রহরী দৈত্য বলল: মিষ্টি ছাড়া গেইট পার হওয়া সম্ভব না। মালেক মুহাম্মাদ দৈত্যকে বলল: মুখ খোলো। দৈত্য মুখ হা করতেই মালেক তার সঙ্গে নিয়ে আসা হালুয়া আর খোরমাহগুলো মুখের ভেতর ঢেলে দিল। দৈত্য বলল: তোমার মিষ্টিগুলো তো মন্দ না। ঠিক আছে,যাও। মালেক মুহাম্মাদ অনুমতি পেয়েই সোজা ঢুকে গেল পরীদের বাদশাহর মেয়ের রুমে।

রুমে ঢুকে মালেক এদিক ওদিক তাকালো। খাটের ওপর নজর পড়তেই দেখলো পরীরাজ কন্যা ঘুমিয়ে আছে। আর তার মাথার উপরে ঝুলানো আছে সোনার খাঁচা। আর খাঁচার ভেতর বসে আছে সুন্দর ময়না পাখিটা। চারপাশে চারটি চেরাগ মানে টেবিল ল্যাম্প জ্বালানো আছে। প্রত্যেকটা ল্যাম্পের জায়গা পাল্টিয়ে দেওয়া হলো। এরপর একটা চিঠি লিখলো মালেক মুহাম্মাদ। চিঠিটা সে পরীরাজ কন্যার মাথার ওপর রাখল। চিঠিতে লেখা ছিল: হে পরীরাজ কন্যা! আমি মালেক মুহাম্মাদ, সোনার খাঁচা আর ময়না পাখিটা নিয়ে গেলাম। তুমি যদি চাও তাহলে কষ্ট করে এসো এই ঠিকানায়। ঠিকানায় তার দেশের নাম এবং রাজ প্রাসাদের কথা লিখে দিল। এরপর মালেক মুহাম্মাদ রওনা হয়ে গেল তার গন্তব্যে।

যেতে যেতে মালেক একেবারে শহরের বাইরে পৌঁছে গেল। তার সঙ্গে আসা কবুতররূপি পরীও এলো তার সঙ্গে সঙ্গে। পরী যখন দেখলো মালেকের হাতে সোনার খাঁচা আর ময়না পাখি, ভীষণ খুশি হয়ে গেল সে। এবার পরী পুনরায় বিরাট একটা পাখিতে পরিণত হলো এবং তার পাখায় চড়ে বসলো মালেক মুহাম্মাদ। পাখি আবার উড়াল দিল। উড়তে উড়তে গিয়ে পৌঁছলো পরীদের কেল্লায়। সেখানে মালেক মুহাম্মাদ রেখে এসেছিল দরবেশের দেওয়া লাঠি, দস্তরখান এবং তার ঘোড়া। সেসব নিয়ে পরীসহ ফিরে গেল সেই বাদশার শহরে যে বাদশাহর সাত কন্যাকে বিয়ে করেছিল তারা সাত ভাই। সেখানে দেখা হলো তার ছয় ভাইয়ের সঙ্গে। তাদের নিয়ে এবার মালেক মুহাম্মাদ যাত্রা শুরু করল।

যেতে যেতে গিয়ে পৌঁছলো ওই সেই শহরে যে শহরে ছিল এক পা-ওয়ালা দৈত্য, যে কিনা মানুষের কাছ থেকে চাঁদা নিত। সেই শহরের বাদশার প্রাসাদে গেল। পরদিন তার বৌসহ ছয় ভাই এবং তাদের স্ত্রীদের সঙ্গে নিয়ে ফেরার পথে পা বাড়ালো। কিন্তু ছয় ভাই যখন দেখলো মালেক মুহাম্মাদের হাতে সোনার খাঁচা আর ময়না পাখি,ভাবলো মালেক যদি এই পাখি আর খাঁচা নিয়ে প্রাসাদে ফিরে যায় এবং তার বাবার হাতে দেয় তাহলে তো সে-ই হবে বাদশা। আর মালেকের বাদশা হওয়া মানে তার অধীনেই সারা জীবন কাটাতে হবে। কী করা যায় চিন্তায় পড়ে গেল ছয় ভাই। কোনো বুদ্ধি করতে না পারলেও মোটামুটি এই সিদ্ধান্ত নিলো যে কিছু না কিছু একটা করতেই হবে। মালেকের কাছ থেকে ওই খাঁচা আর পাখি কেড়ে নিয়ে তারাই তাদের বাবার হাতে দেবে যাতে তারাই হতে পারে পরবর্তী বাদশা।

যাই হোক ছয় ভাই ভাবতে ভাবতে মালেক মুহাম্মাদের সঙ্গে চলল এবং একসময় তারা গিয়ে পৌঁছলো একটা কুপের তীরে। ভাইদের একজন বলল: কেউ একজন যাও পানি নিয়ে আসো। মালেক বলল: ঠিক আছে,আমি যেহেতু সবার ছোট,সুতরাং আমিই যাচ্ছি পানি আনতে। এই বলেই সে চলে গেল কুপের ভেতর এবং পানির বালতি পূর্ণ করে উপরে পাঠালো। মানুষেরাও পানি খেল এবং ঘোড়াগুলোকেও খাওয়ানো হলো। সবার পানি খাওয়া হলে মালেক মুহাম্মাদ বালতিতে চড়ে বসলো যাতে তাকে টেনে উপরে তোলা হয়। কিন্তু তখনই ঘটলো দুর্ঘটনা। (ক্রমশ..)

‘সোনার খাঁচায় ময়না পাখি’ (৯)


হ্যাঁ ভাইয়েরা ঠিকই বালতি উপরে তোলার জন্য সূতা ধরে টানতে লাগলো। কূপের প্রায় অর্ধেকটায় আসার পর তারা দড়িটা কেটে দিল এবং মালেক মুহাম্মাদ নীচে পড়ে গেল। ভাইয়েরা এবার স্বস্তির নিশ্বাস ফেলল এবং নিজ নিজ স্ত্রীকে নিয়ে তারা নিজেদের শহরের দিকে রওনা হলো। স্ত্রীদের হুমকি দিয়ে বলল: কেউ যদি এই ঘটনা কোনোক্রমে অন্য কারো কাছে ফাঁস করে তাহলে তাকে মেরে ফেলা হবে। মহিলারা ভয়ে নিজেদের মুখে কুলুপ আঁটলো। সবাই সবাইকে সতর্ক করে দিল: খবরদার একদম চুপ, টু শব্দটিও করবে না।

মালেক মুহাম্মাদ কূপের ভেতর পড়ে বেহুশ হয়ে যায়। যখন তার হুশ ফিরে আসে সারা শরীর তারা ব্যথা করতে শুরু করে। সে উপরে কূপের মুখের দিকে তাকায়। দেখতে পায় একটা লোক কূপের মুখে দাঁড়িয়ে আছে এবং থেকে থেকে তার দিকে তাকাচ্ছে। লোকটা বালতি ভেতরে ফেলল পানি তুলতে। মালেক মুহাম্মাদ এই সুযোগে বালতির ভেতর বসে পড়তে চাইলো যাতে উপরে উঠে যেতে পারে। কিন্তু লোকটা যখন মুহাম্মাদকে দেখলো বলল: তোকে আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি বল্ কে তুই? আমাকে পানি দে। তুই বিনিময়ে যা চাস তাই পাবি। মালেক বলল: আমি কিছুই চাই না,শুধু কূপ থেকে আমাকে উপরে তোলো! লোকটা মেনে নিল এবং মালেকও লোকটার জন্য পানি পাঠাল।

কূপের ভেতর থেকে উপরে উঠে এসে মালেক লোকটার দিকে তাকাল। জিজ্ঞেস করলো: কে তুমি!

লোকটি বলল: আমি একজন ব্যবসায়ী। ভারতে গিয়েছিলাম এখন ফিরে যাচ্ছি নিজ শহরের দিকে। তুমিও চলো আমার সাথে। তোমাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাবো চিকিৎসার জন্য। মালেক মুহাম্মাদ রাজি হয়ে গেল এবং লোকটার সঙ্গে যেতে উদ্যত হলো। পা বাড়াবার আগে কূপের চারপাশে একবার নজর বুলাতেই দেখলো তার দস্তরখান, পাত্র আর লাঠি পড়ে আছে কূপের পাশে। ভাইয়েরা যেহেতু এগুলোর বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে জানতো না সে জন্য ভাবছিল পুরোণো জিনিসগুলো হয়ত মূল্যহীন। সেজন্য তারা জিনিসগুলোকে সেখানেই ফেলে রেখে চলে গেছে। মালেক মুহাম্মাদ সেগুলোকে একত্রিত করে ব্যবসায়ী লোকটার সঙ্গে রওনা হয়ে গেল।

পাঠক! আপনাদের কি মনে আছে দরবেশের সাথে এক চুক্তির মাধ্যমে মালেক মুহাম্মাদ এই জিনিসগুলো মানে দস্তরখান, লাঠি এবং একটি পাত্র নিয়েছিল তার ঘোড়া আর তলোয়ারের বিনিময়ে।

মালেক মুহাম্মাদ তখন জিজ্ঞেস করেছিল: এগুলোর বৈশিষ্ট্য কী?

দরবেশ বলেছিল: পাত্রটা হাতে নিয়ে যত মেহমানই তোমার আসে শুধু ভেতরে হাত রেখে বলবে: হে সোলায়মান নবী! আমার মেহমান আছে। এরপর পাত্র থেকে যতই খাবার নেবে কমবে না। দস্তরখানের বৈশিষ্ট্য হলো এটা বিছিয়ে সোলায়মান নবীকে স্মরণ করে বলবে আমার মেহমান আছে। তারপর যতই রুটি নেবে শেষ হবে না। আর লাঠিটা হাতে নিয়ে বলবে: আমি অমুকের মাথাটা চাই। অমনি মাথাটা লাউয়ের মতো কাটা হয়ে যাবে।

কিন্তু মালেক মুহাম্মাদের ভাইয়েরা এসব জিনিসের বৈশিষ্ট্য না জানার কারণে কোনো গুরুত্ব না দিয়েই ফেলে রেখে চলে যায়। আর মজার ব্যাপার হলো এইসব জিনিস দিয়েই মালেক মুহাম্মাদ সকল বিপদ থেকে উদ্ধার পায়। ভাইদের ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হয়ে যায় এবং তার পিতাও সেসব বুঝতে পারে। অবশেষে যে যার মতো পরিণতি আর পুরস্কার লাভ করে। বাদশা যে স্বপ্ন দেখেছিল সে স্বপ্নের কথাটা নিশ্চয়ই মনে আছে! স্বপ্নটা ছিল এরকম: বাদশার মাথার ওপরে ঝুলছে একটি সোনার খাঁচা। খাঁচার ভেতর বসে আছে চমৎকার একটা তোতা পাখি। ঘুম ভেঙে যাবার পর বাদশা চিন্তায় পড়ে গেল। ভাবছিল এই সোনার খাঁচার মানে কী কিংবা ওই তোতা পাখিরই বা কী অর্থ। অর্থ যা-ই হোক বাদশা কিন্তু ওই তোতা পাখির প্রেমে পড়ে গেছে। ঘুম থেকে জেগে ওঠার পর থেকেই ভাবতে শুরু করেছে কী করে ওই তোতা পাখি আর সোনার খাঁচা হাতে পাওয়া যায়।

অপরদিকে বাদশাও কিছুদিন থেকেই ভাবছিল বাদশাহির দায়িত্ব কোনো এক ছেলের হাতে সোপর্দ করবে যাতে তার অবর্তমানে বাদশাহি নিয়ে নিজেদের মধ্যে ঝগড়া-ফ্যাসাদ না দেখা দেয়। স্বপ্ন দেখার পর বাদশা ভাবলো:ভালোই হলো। এবার সাত সন্তানকেই পরীক্ষা করার সুযোগ সৃষ্টি হলো। সাত সন্তানের মধ্যে যে সন্তান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হবে তার হাতে বাদশাহীর দায়িত্ব দিয়ে দেবে। মালেক মুহাম্মাদ সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলো। সোনার খাঁচা আর ময়না পাখি ছয় ভাই নিয়ে এলেও পরক্ষণেই ভাইদের সকল অপকর্মের কথা জানতে পেরে বাদশা। তাই বাদশা শেষ পর্যন্ত মালেক মুহাম্মাদকেই তাঁর পরবর্তী বাদশা ঘোষণা করেন আর ছয় ভাইকে করেন তিরস্কার।

আগমনী

আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা

ক্লাস নাইনের পাঠ্যসূচিতে ছিলো "হাজার বছর ধরে" উপন্যাস৷ কীভাবে বড়ো ভাইয়ের বউ (ভাবি) এর সাথে পরকীয়া হয় তা শেখানো হল। শিক্ষার্থীরা ওস...

স্মৃতির পাতা